শক্তি ও বায়োগ্যাস

ব্যাটারি ও স্টোরেজ

সূর্য ডোবার পর খামারের সব আলো, পাখা আর ফ্রিজ চলে ব্যাটারি থেকে। পুরো ব্যবস্থায় সবচেয়ে দামি আর সবচেয়ে যত্ন লাগা অংশ এটাই।

দুই ধরনের ব্যাটারি

লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ও লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির তুলনা
বিষয়লিথিয়াম আয়রন ফসফেট (LiFePO4)লেড-অ্যাসিড (টিউবুলার বা জেল)
ব্যবহারযোগ্য অংশমোট ক্ষমতার প্রায় ৮০–৯০%আয়ু রক্ষায় সাধারণত মোটের অর্ধেক
আয়ুকয়েক হাজার চার্জ-ডিসচার্জ চক্র; সঠিক যত্নে দশ বছরের কাছাকাছিকয়েকশ থেকে এক-দেড় হাজার চক্র; কয়েক বছর
রক্ষণাবেক্ষণপ্রায় নেই; বিএমএস নিজেই সুরক্ষা দেয়পানি দেওয়া (টিউবুলার), টার্মিনাল পরিষ্কার, নিয়মিত পূর্ণ চার্জ
ওজন ও জায়গাহালকা, কম জায়গাভারী, অনেক জায়গা
প্রাথমিক দামবেশিকম
ব্যবহারযোগ্য প্রতি ইউনিটের দীর্ঘমেয়াদি খরচসাধারণত কমসাধারণত বেশি, কারণ বারবার বদলাতে হয়
নিরাপত্তালিথিয়ামের মধ্যে তুলনামূলক নিরাপদ রসায়নচার্জের সময় হাইড্রোজেন গ্যাস বের হয়; বায়ুচলাচল জরুরি

আমাদের সিদ্ধান্ত: লিথিয়াম আয়রন ফসফেট, ৪৮ ভোল্ট, মডিউলার। প্রাথমিক খরচ বেশি হলেও দশ বছরের হিসাবে এটি সাশ্রয়ী, রক্ষণাবেক্ষণ কম, আর পরিবারের সদস্যদের অ্যাসিড-পানি নিয়ে কাজ করতে হয় না।

কত বড় ব্যাটারি

ব্যাটারির মাপ ঠিক হয় রাতের ব্যবহার দিয়ে, দিনের নয়। দিনের লোড সরাসরি প্যানেল থেকে চলে। সহজ হিসাব:

প্রয়োজনীয় ব্যাটারি ≈ সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত ব্যবহার × মজুদের দিন ÷ ব্যবহারযোগ্য অংশ

ধরা যাক সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত বাতি, পাখা, ফ্রিজ, রাউটার মিলিয়ে প্রায় ৬–৭ ইউনিট লাগে। লিথিয়াম ব্যাটারির প্রায় ৯০% ব্যবহারযোগ্য ধরলে এক রাতের জন্য প্রায় ৭–৮ কিলোওয়াট-ঘণ্টা, আর একটু মজুদ রাখতে প্রথম পর্যায়ে প্রায় ১০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা হলে টানা মেঘলা দিনেও প্রায় দুই রাতের মজুদ থাকে। নিজেদের যন্ত্রের তালিকা দিয়ে হিসাব করুন লোড হিসাব পাতায়।

ব্যাটারি ঘর

  • প্যানেলের কাছে, বসতঘর থেকে আলাদা: তারের দৈর্ঘ্য কম, আর কোনো দুর্ঘটনা হলে ঘুমানোর ঘর নিরাপদ।
  • ছায়া ও বায়ুচলাচল: পুরু দেয়াল, ছাদের ওপর তাপরোধী আবরণ বা দ্বিতীয় চালা, দুই দিকে জালি দেওয়া ভেন্ট আর একটি ছোট পাখা। ব্যাটারি বেশি গরম হলে আয়ু কমে।
  • উঁচু মেঝে: সাধারণ বন্যার পানির ওপরে; ব্যাটারি র‍্যাকে, মেঝে থেকে আরও ওপরে।
  • শুকনো ও পরিষ্কার: ছাদ চুইয়ে পানি পড়বে না; ইঁদুর-পোকা ঢোকার ফাঁক বন্ধ।
  • তালাবদ্ধ: চাবি দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও সমন্বয়কের কাছে।
  • জায়গা রাখা: দ্বিতীয় পর্যায়ের ইনভার্টার ও ব্যাটারির জন্য র‍্যাকে খালি স্থান।

অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা

  • ঘরে একটি বৈদ্যুতিক আগুনের উপযোগী অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (যেমন সিওটু বা ড্রাই পাউডার) আর এক বালতি শুকনো বালি। পানি দিয়ে বৈদ্যুতিক আগুন নেভানো যাবে না।
  • ব্যাটারি ও ইনভার্টারের মধ্যে সঠিক মাপের ডিসি ব্রেকার ও ফিউজ।
  • ঘরের ভেতরে খড়, কাগজ, তেল বা জ্বালানি রাখা নিষেধ।
  • দরজায় সতর্কবার্তা আর জরুরি যোগাযোগের নম্বর।
  • শিশুদের ব্যাটারি ঘরে প্রবেশ নিষেধ।

আয়ু বাড়ানোর নিয়ম

  1. ব্যাটারি একেবারে খালি হতে না দেওয়া; ইনভার্টারে নিম্নসীমা ঠিক করে রাখা, যার নিচে অপ্রয়োজনীয় লোড বন্ধ হয়।
  2. ঘর ঠান্ডা রাখা; গ্রীষ্মে দুপুরে ভেন্টের পাখা চালানো।
  3. প্রস্তুতকারকের নির্ধারিত চার্জ সেটিং বদল না করা।
  4. মাসে একবার বিএমএস বা ইনভার্টারের ডিসপ্লে থেকে কোষগুলোর ভারসাম্য আর কোনো সতর্কবার্তা আছে কি না দেখা।
  5. দীর্ঘ সময় খামার খালি থাকলে ব্যাটারি আংশিক চার্জে রেখে অপ্রয়োজনীয় লোড বন্ধ করা।

পুরোনো ব্যাটারি

ব্যাটারি একদিন দুর্বল হবেই। পুরোনো ব্যাটারি মাটিতে ফেলা বা পুকুরের কাছে রাখা যাবে না; এতে সিসা, অ্যাসিড বা অন্য রাসায়নিক মাটি-পানিতে মিশতে পারে। বিক্রেতা বা অনুমোদিত পুনর্ব্যবহার প্রতিষ্ঠানের কাছে ফেরত দেওয়া হবে। লিথিয়াম ব্যাটারির দুর্বল মডিউল ছোট কাজে, যেমন আলাদা নিরাপত্তা বাতিতে, কিছুদিন ব্যবহার করা যায়।

মনে রাখুন

ব্যাটারি বা ইনভার্টারের ভেতর খোলা, তার বদলানো বা সেটিং পরিবর্তন শুধু প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান করবেন।