বর্ষা ও মেঘলা দিনের পরিকল্পনা
আষাঢ় থেকে আশ্বিন, মাঝে মাঝে টানা কয়েক দিন সূর্য প্রায় দেখা যায় না। তখন সৌর উৎপাদন অনেক কমে যায়। আগে থেকে ঠিক করা নিয়ম থাকলে কোনো জরুরি কাজ বন্ধ হয় না।
কেন আগে থেকে নিয়ম
রোদেলা দিনে ৫.৪ কিলোওয়াটের প্যানেল যেখানে ১৮–২২ ইউনিট দেয়, টানা মেঘলা দিনে তা ৪–৮ ইউনিটে নেমে আসতে পারে। অথচ ফ্রিজ, বাতি, পানি আর মোবাইল চার্জ বন্ধ রাখা যায় না। কে কোন যন্ত্র চালাবে তা নিয়ে প্রতিবার আলোচনা করলে ঝামেলা হয়; তাই ব্যাটারির চার্জ দেখে চারটি ধাপ আগেই ঠিক করা আছে। ধাপ বদলের দায়িত্ব শক্তি বিভাগের দায়িত্বশীল আর খামারে থাকা তত্ত্বাবধায়কের।
ব্যাটারির চার্জ অনুযায়ী চার ধাপ
নিচের স্লাইডার সরিয়ে দেখুন, ব্যাটারির কোন চার্জে কোন যন্ত্র চালানো যাবে। ইনভার্টারের ডিসপ্লে বা অ্যাপে ব্যাটারির চার্জ শতাংশে দেখা যায়।
সবসময় চালু
- ফ্রিজ ও ফ্রিজার
- রাতে প্রয়োজনীয় ঘরের বাতি
- ঘাট ও পথের নিরাপত্তা বাতি
- মোবাইল চার্জ, জরুরি যোগাযোগ
রোদ থাকলে, দুপুরে
- পানির পাম্প (ট্যাংক ভরা)
- কাপড় ধোয়া, ইস্ত্রি
- ঘাস কাটার যন্ত্র
- ল্যাপটপ চার্জ
প্রথমে বন্ধ
- টেলিভিশন
- অতিরিক্ত পাখা
- সাজসজ্জার বা অপ্রয়োজনীয় বাতি
- অতিথিশালার লোড
আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে প্রস্তুতি
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি বা লঘুচাপের খবর থাকলে আগের রোদেলা দিনেই প্রস্তুতি:
- ট্যাংক পুরো ভরে রাখা।
- কাপড় ধোয়া, ইস্ত্রি আর ঘাস কাটা আগেভাগে সেরে ফেলা।
- সব টর্চ, চার্জার লণ্ঠন ও পাওয়ার ব্যাংক পূর্ণ চার্জ।
- ফ্রিজের দরজা কম খোলা; ফ্রিজারে বরফের বোতল রাখা, যা ঠান্ডা ধরে রাখে।
- পশুর জন্য কাটা ঘাস আগেভাগে মজুদ।
ঝড়, বজ্রপাত ও বন্যা
- কালবৈশাখী ও ঘূর্ণিঝড়ের আগে: প্যানেলের স্ট্যান্ডের নাট-বল্টু পরীক্ষা, আশপাশের ঢিলা জিনিস সরানো, গাছের ঝুলন্ত ডাল ছাঁটা।
- বজ্রপাতের সময়: কেউ খোলা মাঠে বা প্যানেলের কাছে থাকবেন না। সার্জ প্রটেক্টর ও আর্থিং ঠিক থাকলে ব্যবস্থা নিজেই সুরক্ষিত; প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা থাকলে প্যানেলের দিকের ডিসি সুইচ বন্ধ করা যায়।
- বন্যার পূর্বাভাসে: ব্যাটারি ঘরের মেঝে আর র্যাক বন্যার ওপরে আছে কি না দেখা; পানি উঠতে শুরু করলে প্রশিক্ষিত ব্যক্তি নিরাপদভাবে ব্যবস্থা বন্ধ করবেন।
- ঝড়ের পরে: প্যানেলে ফাটল, তার ছেঁড়া বা পানি ঢোকার চিহ্ন আছে কি না দেখে তবেই পুরো ব্যবস্থা চালু।
জেনারেটর কেন নয়
শক্তিতে স্বনির্ভরতা খামারের একটি মূল লক্ষ্য, তাই ডিজেল জেনারেটর রাখার পরিকল্পনা নেই। টানা মেঘলা দিনে সংযমী ব্যবহার, দ্বিতীয় পর্যায়ে বড় ব্যাটারি, হাতের নলকূপ আর বায়োগ্যাসের বাতি, এই চারটি মিলেই বিকল্প। যদি অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে কোনো জরুরি কাজ, যেমন ডিম ফোটানোর যন্ত্র বা দুধ ঠান্ডা রাখা, বারবার ঝুঁকিতে পড়ছে, তখন বিষয়টি পরিচালনা পরিষদে আলোচনা হবে।
খাতায় লিখে রাখা
প্রতিদিন সন্ধ্যায় ব্যাটারির চার্জ আর দিনের উৎপাদন একটি খাতায় লেখা হবে। এক বছরের খাতা দেখাবে কোন মাসে কতদিন ঘাটতি হয়, যা ১০ কিলোওয়াট উন্নীতকরণের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বড় প্রমাণ হবে।