প্রাণিসম্পদ

রোগ প্রতিরোধ ক্যালেন্ডার

রোগ হওয়ার পরে চিকিৎসার চেয়ে আগে প্রতিরোধ অনেক সহজ ও সস্তা। এই ক্যালেন্ডারে সারা বছরের টিকা, কৃমিনাশক আর প্রতিটি ঋতুর ঝুঁকি একসাথে।

মাস বাছাই করুন

সারা বছরের টিকা ও কৃমিনাশক, মাসভিত্তিক

টিকাকৃমিনাশক · মাসের নামে চাপ দিলে ওপরের তালিকা বদলাবে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

ওপরে চলতি মাস নিজে থেকেই বাছাই হয়ে থাকে। প্রতিটি মাসে দেখাবে কোন প্রাণীর কোন টিকা বা কৃমিনাশক বাকি, আর সেই ঋতুতে কোন রোগের ঝুঁকি বেশি। প্রতি মাসের শুরুতে প্রাণিসম্পদের দায়িত্বশীল এই পাতা দেখে কাজের তালিকা করবেন, আর টিকা দেওয়ার পর প্রতিটি প্রাণীর খাতায় তারিখ লিখবেন।

সূচিটি এমনভাবে সাজানো যাতে বড় ঝুঁকির আগেই প্রতিরোধ হয়: বর্ষার আগে বৈশাখে গলাফোলা আর বাদলা, শীতের আগে আশ্বিনে ছাগলের পিপিআর, আর বছরে দুবার ক্ষুরা রোগ। কৃমিনাশক চার মাস অন্তর, বর্ষার আগে-পরে আর শীতে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সাথে মিলিয়ে নিন

টিকার নাম, বয়স, মাত্রা ও পুনরাবৃত্তির সময় এলাকা, রোগের প্রাদুর্ভাব আর টিকার ধরন অনুযায়ী বদলায়। এখানে দেওয়া সূচি সাধারণ পরিকল্পনা; চূড়ান্ত সূচি উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস বা নিবন্ধিত পশু চিকিৎসকের পরামর্শে ঠিক হবে। সরকারি টিকা সাধারণত উপজেলা অফিসে স্বল্পমূল্যে পাওয়া যায়।

ঋতুভিত্তিক সতর্কতা

ঋতুভেদে প্রধান স্বাস্থ্য ঝুঁকি
ঋতুপ্রধান ঝুঁকিপ্রতিরোধ
গ্রীষ্ম (বৈশাখ–জ্যৈষ্ঠ)তাপের চাপ, পানিশূন্যতা, কালবৈশাখীতে আঘাতছায়া, বাড়তি পানি, দুপুরে বিশ্রাম, গোয়ালে পাখা
বর্ষা (আষাঢ়–শ্রাবণ)কৃমি, খুরপচা, গলাফোলা, বাদলা, ভেজা লিটারে মুরগির রোগশুকনো মেঝে, লিটার বদল, ভেজা ঘাস কম, বর্ষার আগে টিকা
শরৎ (ভাদ্র–আশ্বিন)মাছি, আঁঠালি, ক্ষুরা রোগগোবর প্রতিদিন সরানো, টিকা, নিমপাতার পানি
হেমন্ত (কার্তিক–অগ্রহায়ণ)ছাগলের পিপিআর, তাপমাত্রার ওঠানামাপিপিআর টিকা, নতুন পশু আলাদা রাখা
শীত (পৌষ–মাঘ)বাচ্চার ঠান্ডা ও নিউমোনিয়া, রানীক্ষেতরাতে আড়াল, শুকনো খড়ের বিছানা, মুরগির টিকা
বসন্ত (ফাল্গুন–চৈত্র)ক্ষুরা রোগ, বসন্ত, তড়কাক্ষুরা রোগ, গোটপক্স ও তড়কার টিকা

টিকা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ

বেশির ভাগ টিকা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস বা ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ কর্মীর মাধ্যমে পাওয়া যায়, আর অনেক সময় এলাকাভিত্তিক টিকাদান কর্মসূচিও চলে। টিকা ঠান্ডা অবস্থায় রাখতে হয়: অফিস থেকে বরফসহ ফ্লাস্কে আনা, আর আনার পর যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োগ। খোলা টিকা নির্দিষ্ট সময়ের পর নষ্ট হয়ে যায়, তাই একসাথে সব প্রাণীকে দেওয়ার পরিকল্পনা। মুরগির টিকার ছোট শিশি অনেক পাখির জন্য, তাই প্রতিবেশীর সাথে মিলে টিকা দিলে অপচয় কমে আর এলাকার রোগের ঝুঁকিও কমে।

খাতা

প্রতিটি গরু ও ছাগলের নাম বা নম্বরসহ একটি কার্ড থাকবে: জন্মতারিখ, প্রতিটি টিকা ও কৃমিনাশকের তারিখ আর ব্যাচ নম্বর, অসুখ ও চিকিৎসা, প্রজনন। মুরগি আর হাঁসের জন্য দলভিত্তিক খাতা। টিকা দেওয়ার পরের দিন প্রাণীগুলো একটু দুর্বল থাকতে পারে, সেটাও নোট করা।

অ্যান্টিবায়োটিক নীতি: নিয়মিত বা রোগ প্রতিরোধের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন বা বৃদ্ধিবর্ধক কখনো নয়। কোনো প্রাণী অসুস্থ হলে পশু চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা হবে, কারণ কষ্ট দেখেও চিকিৎসা না করা পশু কল্যাণের পরিপন্থী। চিকিৎসার পর ওষুধের নির্ধারিত “প্রত্যাহার সময়” পর্যন্ত সেই প্রাণীর দুধ, ডিম বা মাংস খাওয়া হবে না, আর বিষয়টি চিকিৎসার খাতায় লেখা থাকবে।