রাজহাঁস
রাজহাঁস প্রায় পুরোপুরি ঘাস খেয়ে চলে, পুকুরপাড় পরিষ্কার রাখে, আর অচেনা কেউ এলেই জোরে ডেকে সবাইকে সতর্ক করে। গ্রামের মানুষ একে পাহারাদার পাখি বলেন।
কেন রাজহাঁস
রাজহাঁস প্রধানত ঘাস খায়, তাই খাবারের খরচ খুব কম। পুকুরপাড়ের ঘাস ছোট রাখতে, ফলবাগানের নিচের আগাছা কমাতে তারা প্রাকৃতিক ঘাসকাটার যন্ত্র। দিনের বেলায় অচেনা মানুষ, কুকুর বা শিয়াল দেখলে চিৎকার করে আর তেড়ে যায়, যা খামারের নিরাপত্তায় সাহায্য করে। ডিম ও মাংসও পাওয়া যায়, তবে আমাদের খামারে রাজহাঁস মূলত ঘাস ব্যবস্থাপনা আর পাহারার জন্য।
দেশে প্রচলিত রাজহাঁস সাধারণত সাদা বা ধূসর রঙের; স্থানীয় খামারি বা পরিচিত পরিবারের কাছ থেকে জোড়া হিসেবে সংগ্রহ করা হবে। একটি পুরুষের সাথে দুই-তিনটি মাদি ভালো।
জায়গা ও ঘর
- ঘেরা জায়গা: বড় পুকুরের পশ্চিম পাড়ে প্রায় ৯ × ২০ মিটার ঘাসে ঢাকা জায়গা, বাঁশের নিচু বেড়া দিয়ে ঘেরা, পুকুরের দিকে খোলা যাতে পানিতে নামতে পারে।
- রাতের ঘর: প্রায় ৩ × ২.৫ মিটারের নিচু ঘর, শুকনো খড়ের লিটার; প্রতিটি রাজহাঁসের জন্য অন্তত আধা বর্গমিটার।
- ছায়া: ঘেরার ভেতরে কয়েকটি গাছ বা ছাউনি; রাজহাঁস গরমে কষ্ট পায়।
- ঘাসের পালা: ঘেরার ঘাস কমে গেলে কয়েক সপ্তাহ অন্য পাড়ে সরিয়ে আগের জায়গা আবার গজাতে দেওয়া।
- সবজি থেকে দূরে: রাজহাঁস কচি সবজির চারা মুহূর্তে খেয়ে ফেলে, তাই সবজির বেডে কখনো নয়।
খাবার
দিনের বেশির ভাগ খাবার কাঁচা ঘাস, যা তারা নিজেরাই খায়। শীতে বা ঘাস কম থাকলে কাটা ঘাস, সবজির পাতা, কলমি শাক। সম্পূরক হিসেবে সন্ধ্যায় অল্প ভাঙা চাল, ভুসি বা কুঁড়া, বিশেষ করে ডিম পাড়ার মৌসুমে আর বাচ্চা বড় করার সময়। পানি সবসময় পর্যাপ্ত আর গভীর, যাতে মাথা ডুবিয়ে নাক-চোখ পরিষ্কার করতে পারে।
প্রজনন
রাজহাঁস সাধারণত শীতের শেষ থেকে বসন্তে ডিম পাড়ে, বছরে অল্প কয়েকটি। মাদি রাজহাঁস নিজেই ভালো তা দেয়; ডিম ফুটতে প্রায় ত্রিশ দিন লাগে। চাইলে দেশি কুঁচে মুরগির নিচেও দেওয়া যায়, তবে বড় ডিম বলে একটি মুরগি অল্প কয়টি ডিম ঢাকতে পারে। তা দেওয়ার সময় পুরুষ রাজহাঁস খুব আক্রমণাত্মক হয়, তাই শিশুদের তখন ঘেরার কাছে না যাওয়াই ভালো।
বাচ্চার যত্ন
- প্রথম দুই-তিন সপ্তাহ শুকনো, উষ্ণ জায়গায়; শীতের রাতে বাড়তি উষ্ণতা।
- নরম কচি ঘাস কুচি আর ভেজানো ভুসি; পরিষ্কার অগভীর পানি।
- পালক পুরোপুরি না আসা পর্যন্ত গভীর পানিতে ছাড়া নয়।
- কাক, চিল আর বনবিড়াল থেকে রক্ষা।
স্বাস্থ্য
রাজহাঁস সাধারণত শক্তপোক্ত, তবে হাঁসের রোগ, বিশেষ করে ডাক প্লেগ আর কলেরা, রাজহাঁসেও হতে পারে। হাঁসের সাথে একই সময়ে টিকা দেওয়ার বিষয়টি উপজেলা অফিসের সাথে আলোচনা করে ঠিক হবে। খোঁড়ানো, ডানা ঝুলে পড়া বা খাবারে অনীহা দেখলে আলাদা করে চিকিৎসকের পরামর্শ।
টিকার নাম, বয়স, মাত্রা ও পুনরাবৃত্তির সময় এলাকা, রোগের প্রাদুর্ভাব আর টিকার ধরন অনুযায়ী বদলায়। এখানে দেওয়া সূচি সাধারণ পরিকল্পনা; চূড়ান্ত সূচি উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস বা নিবন্ধিত পশু চিকিৎসকের পরামর্শে ঠিক হবে। সরকারি টিকা সাধারণত উপজেলা অফিসে স্বল্পমূল্যে পাওয়া যায়।
অ্যান্টিবায়োটিক নীতি: নিয়মিত বা রোগ প্রতিরোধের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন বা বৃদ্ধিবর্ধক কখনো নয়। কোনো প্রাণী অসুস্থ হলে পশু চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা হবে, কারণ কষ্ট দেখেও চিকিৎসা না করা পশু কল্যাণের পরিপন্থী। চিকিৎসার পর ওষুধের নির্ধারিত “প্রত্যাহার সময়” পর্যন্ত সেই প্রাণীর দুধ, ডিম বা মাংস খাওয়া হবে না, আর বিষয়টি চিকিৎসার খাতায় লেখা থাকবে।