প্রাণিসম্পদ

ময়ূর (শখ)

ময়ূর খামারের অর্থনীতিতে কিছু যোগ করবে না; এটি শুধুই শখ আর সৌন্দর্য। তাই শর্তও কঠোর: আইনি অনুমতি, প্রশস্ত খাঁচা আর পূর্ণ যত্ন নিশ্চিত না হলে ময়ূর আসবে না।

২টিঅনুমতি পেলে, একটি জোড়া
১০ × ৮ মিজাল ঘেরা খাঁচা
≈ ৩.৮ মিখাঁচার উচ্চতা
পর্যায় ৩অনুমতির পরে

কেন, এবং কেন সাবধানে

ময়ূরের পেখম মেলা দৃশ্য শিশুদের জন্য প্রকৃতির এক অসাধারণ শিক্ষা। কিন্তু ময়ূর বন্যপ্রাণী, গৃহপালিত মুরগি নয়। তারা উড়তে পারে, জোরে ডাকে, আর অনেক জায়গা চায়। আইনি অনুমতি ছাড়াও তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাই ময়ূরের পরিকল্পনা রোডম্যাপের তৃতীয় পর্যায়ে, যখন খামারের মূল কাজগুলো স্থির হয়ে গেছে, আর শুধু বন বিভাগের লিখিত অনুমতি পাওয়ার পর।

অনুমতির ধাপ (সম্ভাব্য)

  1. বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় আবেদন, ফি আর শর্ত জানা।
  2. খাঁচার নকশা, জায়গা, খাবার ও চিকিৎসার পরিকল্পনা লিখিতভাবে জমা।
  3. ময়ূরের বৈধ উৎস নিশ্চিত করা, যেমন অনুমোদিত প্রজনন কেন্দ্র বা লাইসেন্সধারী খামার।
  4. পরিদর্শন ও অনুমতিপত্র; অনুমতিপত্রের কপি খামারের নথিতে।
  5. প্রজনন, মৃত্যু বা হস্তান্তর হলে নিয়ম অনুযায়ী জানানো।

এই ধাপগুলো সাধারণ ধারণা; প্রকৃত প্রক্রিয়া বন বিভাগ থেকে জেনে নিতে হবে।

খাঁচার নকশা

  • মাপ: প্রায় ১০ × ৮ মিটার, উচ্চতা প্রায় ৩.৮ মিটার; একটি জোড়ার জন্য প্রশস্ত, যাতে উড়ে-হেঁটে বেড়াতে পারে। বন বিভাগের শর্তে ভিন্ন মাপ চাইলে সেটিই মানা হবে।
  • জাল: চারপাশ আর ছাদ শক্ত জালে ঢাকা; নিচের অংশ মাটিতে গাঁথা, যাতে শিয়াল-বেজি খুঁড়ে ঢুকতে না পারে।
  • দাঁড়: মাটি থেকে উঁচুতে মোটা ডাল বা বাঁশের দাঁড়, যেখানে রাতে বসবে; ময়ূর উঁচুতে ঘুমাতে পছন্দ করে।
  • ছাউনি: এক কোণে বৃষ্টি ও রোদ থেকে আশ্রয়, শুকনো মেঝেসহ।
  • মেঝে: মাটি, ঘাস আর বালির মিশ্রণ; ধুলাস্নানের জায়গা।
  • লম্বা লেজের জায়গা: দাঁড় এমন উচ্চতায়, যাতে পুরুষের লম্বা পেখম মাটিতে ঘষা না খায়।

খাবার

ময়ূর সর্বভুক: দানা (গম, ভুট্টা ভাঙা, চাল), সবুজ শাক-পাতা, ফল, আর প্রাকৃতিকভাবে পোকা, কেঁচো, ছোট সরীসৃপ। খাঁচায় সকাল-বিকেল মিশ্র দানা, প্রতিদিন কিছু সবুজ শাক বা ফল, আর আমিষের জন্য সেদ্ধ ডিম কুচি বা কেঁচো। পরিষ্কার পানি সবসময়। লবণযুক্ত বা মসলাদার রান্না করা খাবার নয়।

স্বাস্থ্য

ময়ূরের রোগ মুরগির কিছু রোগের সাথে মেলে, তাই মুরগির ঘর থেকে খাঁচা দূরে রাখা হয়েছে, আর আলাদা পাত্র ও জুতা ব্যবহার হবে। কৃমিনাশক আর প্রয়োজনীয় টিকা, যেমন রানীক্ষেত, দেওয়া যায় কি না, বন্যপ্রাণী বা পাখি বিষয়ে অভিজ্ঞ পশু চিকিৎসকের পরামর্শে ঠিক হবে। খাঁচা নিয়মিত পরিষ্কার, পুরোনো খাবার সরানো।

অ্যান্টিবায়োটিক নীতি: নিয়মিত বা রোগ প্রতিরোধের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন বা বৃদ্ধিবর্ধক কখনো নয়। কোনো প্রাণী অসুস্থ হলে পশু চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা হবে, কারণ কষ্ট দেখেও চিকিৎসা না করা পশু কল্যাণের পরিপন্থী। চিকিৎসার পর ওষুধের নির্ধারিত “প্রত্যাহার সময়” পর্যন্ত সেই প্রাণীর দুধ, ডিম বা মাংস খাওয়া হবে না, আর বিষয়টি চিকিৎসার খাতায় লেখা থাকবে।

প্রতিবেশী ও আচরণ

প্রজনন মৌসুমে, বিশেষ করে বর্ষার আগে, পুরুষ ময়ূর খুব জোরে ডাকে। খাঁচা বসতঘর আর প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে রাখা হয়েছে। দর্শনার্থী বা শিশুরা খাঁচার জালে হাত দেবে না, খাবার ছুড়বে না। পেখমের পালক স্বাভাবিকভাবে ঝরে পড়লে সংগ্রহ করা যায়, কিন্তু কখনো টেনে তোলা নয়।

অনুমতি না পেলে

অনুমতি না পেলে খাঁচার জায়গাটি দেশি মুরগির বাচ্চা বড় করার ঘর বা কবুতরের খোপ হিসেবে ব্যবহার হবে। শখ পূরণের চেয়ে আইন আর প্রাণীর কল্যাণ বড়।