মানুষ ও কাজ

উৎপাদন বণ্টন নীতি

খামার বাণিজ্যিক নয়, তাই এর আসল “লাভ” হলো খাবার। খাবার কীভাবে ভাগ হবে, তা আগে থেকে লেখা থাকলে কারও মনে প্রশ্ন জাগে না, আর অভাবীর হকও ভুলে যাওয়া হয় না।

বণ্টনের হিসাব যন্ত্র

ঘরে বসানো সংখ্যাগুলো উদাহরণ। উশরের হার ফসল বৃষ্টিনির্ভর না সেচনির্ভর তার ওপর নির্ভর করে, তাই প্রতি মৌসুমে আলেমের পরামর্শে ঠিক হবে।

ভাগের ক্রম

প্রতিটি ফসল বা উৎপাদন নিচের ক্রমে ভাগ হবে:

  1. খামারের প্রয়োজন: পরের মৌসুমের বীজ, পশুপাখির খাবার (যেমন কুঁড়া, ভাঙা চাল), আর মাছের খাবার।
  2. তত্ত্বাবধায়ক পরিবারের অংশ: চুক্তি অনুযায়ী, মজুরির অতিরিক্ত হিসেবে।
  3. উশর ও সদকা: ফসলের ওপর প্রযোজ্য উশর আর প্রতিবেশী, আত্মীয় ও অভাবীদের অংশ।
  4. পরিবারগুলোর অংশ: বাকিটা মালিকানার অনুপাতে, ৬০ : ১০ : ১০ : ১০ : ১০।

উদাহরণ: এক হাজার কেজি আমন ধান

ধরা যাক আমন মৌসুমে ১,০০০ কেজি ধান হলো। বীজ ও পশুখাদ্যের জন্য ৪০ কেজি (৪%) রাখা হলো, তত্ত্বাবধায়ক পরিবার পেলেন ১০০ কেজি (১০%), আর উশর ও সদকার জন্য ১০০ কেজি (১০%)। বাকি থাকে ৭৬০ কেজি। এর ৬০ শতাংশ, অর্থাৎ ৪৫৬ কেজি উদ্যোক্তা পরিবারের, আর বাকি চার পরিবার পান ৭৬ কেজি করে। ওপরের হিসাব যন্ত্রে এই সংখ্যাগুলোই শুরুতে বসানো আছে।

সংরক্ষণযোগ্য ফসল

চাল, ডাল, সরিষা, তিল, শুকনো মসলা, পেঁয়াজ ও রসুন মৌসুম শেষে একবারে ওপরের নিয়মে ভাগ হবে। প্রতিটি পরিবার নিজের ভাগ খামারের গুদাম থেকে নিয়ে যেতে পারেন, অথবা গুদামে রেখে প্রয়োজনমতো নিতে পারেন; গুদামের খাতায় প্রতিটি পরিবারের মজুদ আলাদা লেখা থাকবে।

টাটকা খাবার

সবজি, দুধ, ডিম আর মাছ পচনশীল, তাই প্রতিবার ওজন করে অনুপাতে ভাগ করা অবাস্তব। এগুলোর জন্য নিয়ম:

  • সপ্তাহে দুই দিন (মঙ্গল ও শনি) পাঁচটি ঝুড়ি তৈরি হবে; ঝুড়ির আকার মোটামুটি পরিবারের সদস্যসংখ্যা আর অংশ মিলিয়ে।
  • প্রতিটি ঝুড়িতে কী কতটুকু গেল, তার ছোট তালিকা রাখা হবে।
  • বছর শেষে বার্ষিক সভায় মোট হিসাব দেখা হবে; কোনো পরিবার অনুপাতের চেয়ে অনেক বেশি বা কম পেলে পরের বছরের ঝুড়িতে বা সংরক্ষণযোগ্য ফসলে সমন্বয়।
  • অতিরিক্ত উৎপাদন হলে, যেমন শীতে লাউ বা টমেটো বেশি, তা নষ্ট হতে না দিয়ে প্রতিবেশী, মসজিদের মুসল্লি বা অভাবী পরিবারে বিতরণ।

উশর ও সদকা

জমির ফসলের ওপর উশরের বিধান আছে। প্রচলিত মত অনুযায়ী বৃষ্টিনির্ভর ফসলে উৎপাদনের দশ ভাগের এক ভাগ আর সেচনির্ভর ফসলে বিশ ভাগের এক ভাগ। আমাদের খামারে কোন ফসলে কীভাবে প্রযোজ্য, খরচ বাদ যাবে কি না, আর মালিকানার যৌথ কাঠামোয় কে আদায় করবেন, এসব বিষয়ে একজন বিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। উশরের বাইরেও প্রতিটি ফসলের একটি ছোট অংশ স্বেচ্ছা সদকা হিসেবে প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের জন্য।

বিক্রি কেন নয়

নীতিগতভাবে খামারের খাবার বিক্রি হবে না। তবে কোনো বছরে কোনো ফসল এত বেশি হলো যে পরিবার, শ্রমিক আর প্রতিবেশী মিলেও শেষ করা যায় না, তখন পরিচালনা পরিষদ সিদ্ধান্ত নিতে পারে উদ্বৃত্ত বিক্রি করে টাকাটা খামারের সংরক্ষিত তহবিলে রাখার, বা পুরোটাই দান করার। এটি ব্যতিক্রম, নিয়ম নয়।