মানুষ ও কাজ

নিরাপত্তা ও প্রাথমিক চিকিৎসা

খামারের জীবন সুন্দর, কিন্তু ঝুঁকিও আছে। প্রতিটি ঝুঁকির জন্য আগে থেকে জানা করণীয় থাকলে ছোট দুর্ঘটনা বড় হয় না। জরুরি অবস্থায় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯।

পুকুরে ডোবা

প্রতিরোধ: শিশুরা বড়দের নজরের বাইরে পুকুরপাড়ে নয়; ঘাটের পাশে লাইফ রিং ও লম্বা বাঁশ; রাতে ঘাটের বাতি; পরিবারের সবার সাঁতার শেখা।

কেউ ডুবে গেলে:

  1. নিজে সাঁতার না জানলে পানিতে লাফ দেবেন না; বাঁশ, দড়ি বা লাইফ রিং বাড়িয়ে দিন, আর চিৎকার করে সাহায্য ডাকুন।
  2. তুলে আনার পর শ্বাস না চললে সাথে সাথে বুকে চাপ ও মুখে শ্বাস (সিপিআর) শুরু করুন, আর একজন ৯৯৯-এ বা নিকটস্থ হাসপাতালে ফোন করুন।
  3. পেট চেপে বা উল্টো করে ঘুরিয়ে পানি বের করার চেষ্টায় সময় নষ্ট করবেন না।
  4. জ্ঞান ফিরলেও হাসপাতালে নিয়ে যান; কয়েক ঘণ্টা পরেও শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

সাপের কামড়

প্রতিরোধ: ঘাস ছোট রাখা, খড়ের গাদা মাটি থেকে উঁচুতে, সন্ধ্যার পর টর্চ ও বুট, হাত দিয়ে অন্ধকার গর্ত বা খড়ের নিচে না ঢোকানো।

কামড়ালে:

  1. রোগীকে শান্ত রাখুন, নড়াচড়া কম; কামড়ানো হাত বা পা স্থির রাখুন।
  2. আংটি, চুড়ি, ঘড়ি খুলে ফেলুন, কারণ জায়গা ফুলে যেতে পারে।
  3. কাটা, চোষা, শক্ত বাঁধন, গাছের রস লাগানো বা ওঝার কাছে নেওয়া, এগুলো একেবারেই নয়; এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হয় আর ক্ষতি বাড়ে।
  4. যত দ্রুত সম্ভব সরকারি হাসপাতালে নিন, যেখানে সাপের বিষের প্রতিষেধক (অ্যান্টিভেনম) দেওয়া হয়। কোন নিকটস্থ হাসপাতালে প্রতিষেধক পাওয়া যায়, তা আগেই জেনে ফোন নম্বরসহ লিখে রাখুন।

বিদ্যুৎ ও ব্যাটারি

  • সৌর ব্যবস্থার ডিসি তার আর ব্যাটারিতে শুধু প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান হাত দেবেন।
  • বিদ্যুৎস্পৃষ্ট কাউকে খালি হাতে ছোঁবেন না; আগে মূল সুইচ বন্ধ বা শুকনো কাঠ দিয়ে সরান।
  • ব্যাটারি ঘরে আগুন লাগলে পানি নয়; বৈদ্যুতিক আগুনের উপযোগী অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বা বালি। ধোঁয়া বেশি হলে দূরে সরে ৯৯৯-এ ফোন।

যন্ত্র ও পশু

  • কাস্তে, দা, কোদাল ব্যবহারের পর নির্দিষ্ট জায়গায়, ধার নিচের দিকে।
  • ঘাস কাটার যন্ত্র চালানোর সময় ঢিলা কাপড় নয়, হাত কখনো মুখের কাছে নয়; পাশে শিশু নয়।
  • গরুর পেছনে দাঁড়াবেন না; ষাঁড় বা নতুন বাছুরের মা গাভীর কাছে সাবধানে।
  • কাটা-ছেঁড়ায় ধুলা-মাটি লাগলে ধনুষ্টংকারের টিকার অবস্থা চিকিৎসকের সাথে মিলিয়ে নিন; বড়দের নিয়মিত টিকা হালনাগাদ রাখুন।

গরম, বজ্রপাত ও ঝড়

  • হিটস্ট্রোক: গ্রীষ্মে দুপুরে মাঠের কাজ বন্ধ; পর্যাপ্ত পানি ও খাবার স্যালাইন। মাথা ঘোরা, বমি বা অজ্ঞান হলে ছায়ায় নিয়ে শরীর ভেজা কাপড়ে মুছে ঠান্ডা করুন আর চিকিৎসা নিন।
  • বজ্রপাত: দেশে বজ্রপাতে প্রতি বছর অনেক মানুষ মারা যান। মেঘ ডাকলে খোলা মাঠ, পুকুর, একা দাঁড়ানো গাছ আর সোলার স্ট্যান্ডের কাছ থেকে সরে পাকা ঘরে আশ্রয়।
  • ঝড়: পূর্বাভাসে ঢিলা জিনিস বাঁধা, পশু ঘরে, আর ঝড়ের সময় গাছের নিচে নয়।

বায়োগ্যাস

গ্যাসের গন্ধ পেলে চুলা ও ভালভ বন্ধ, দরজা-জানালা খোলা, আর আগুন বা বৈদ্যুতিক সুইচ চালু নয়। স্লারি পিট ও ইনলেট ঢাকা, আর ডাইজেস্টারের ভেতরে কেউ নামবেন না।

প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স

বসতঘর ও অতিথিশালায় একটি করে, সবার জানা জায়গায়:

  • পরিষ্কার গজ, তুলা, ব্যান্ডেজ, ক্রেপ ব্যান্ডেজ, আঠালো টেপ, কাঁচি
  • জীবাণুনাশক দ্রবণ, সাবান, ডিসপোজেবল দস্তানা
  • খাবার স্যালাইন, প্যারাসিটামল (চিকিৎসকের পরামর্শমতো মাত্রায়)
  • পোড়ার জন্য পরিষ্কার পানি আর জীবাণুমুক্ত আবরণ
  • টর্চ, থার্মোমিটার, সিপিআরের মাস্ক
  • জরুরি নম্বরের তালিকা: ৯৯৯, নিকটস্থ হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, সমন্বয়ক ও প্রতিটি পরিবার

বাক্সের জিনিস প্রতি তিন মাসে মেলানো হবে, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বদলানো হবে। পশুর জন্য আলাদা বাক্স পশু প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স পাতায়।

এটি প্রশিক্ষণের বিকল্প নয়

এই পাতা শুধু মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য। পরিবারের অন্তত দুজন আর তত্ত্বাবধায়ক পরিবারের একজন স্বীকৃত প্রাথমিক চিকিৎসা ও সিপিআর প্রশিক্ষণ নেবেন।