ওয়াকফ ও মসজিদ

ওয়াকফ জমির উদ্দেশ্য

ওয়াকফ শব্দের অর্থ থামিয়ে রাখা বা আটকে রাখা: সম্পদটির মালিকানা মানুষের হাত থেকে সরিয়ে আল্লাহর মালিকানায় স্থির করে দেওয়া, আর তার উপকার নির্দিষ্ট ভালো কাজে চিরকাল প্রবাহিত রাখা।

ওয়াকফের তাৎপর্য

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তিনটি ছাড়া: সদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান, আর নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে (সহিহ মুসলিম)। ওয়াকফ সদকায়ে জারিয়ার সবচেয়ে পরিচিত রূপ। ইসলামের ইতিহাসে উমর (রা.) খায়বারে পাওয়া তাঁর মূল্যবান জমির ব্যাপারে রাসূলুল্লাহর (সা.) পরামর্শ চাইলে তিনি বলেছিলেন মূল সম্পদ আটকে রেখে তার ফল দান করে দিতে; সেই জমি বিক্রি, দান বা উত্তরাধিকারে হস্তান্তর করা যাবে না। এটিই ওয়াকফের মূল কাঠামো।

বাংলার গ্রামে গ্রামে মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান আর ঈদগাহের জমি বহু প্রজন্ম আগে কোনো না কোনো পরিবারের ওয়াকফ। আমরা সেই ধারার অংশ হতে চাই।

ওয়াকফের মূল শর্ত

  • বৈধ মালিকানা: যিনি ওয়াকফ করবেন (ওয়াকিফ), জমি তাঁর নিজের, নিষ্কণ্টক আর বিবাদমুক্ত হতে হবে।
  • স্থায়িত্ব: সাময়িক ওয়াকফ নয়; একবার ওয়াকফ হলে ফেরত নেওয়া যায় না।
  • সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য: কোন কাজে জমি ব্যবহার হবে, তা দলিলে স্পষ্ট।
  • মুতাওয়াল্লি: কে দেখাশোনা করবেন, আর তাঁর পরে কে, তার নিয়ম।
  • স্বেচ্ছায়: কারও চাপে নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।

খুঁটিনাটি মাসআলার জন্য একজন বিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নেওয়া হবে, আর আইনি দিক আইনি নিবন্ধন পাতায়।

আমাদের ওয়াকফের উদ্দেশ্য

দলিলে প্রস্তাবিত উদ্দেশ্যগুলো হবে:

  1. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও জুমার জন্য একটি মসজিদ, সবার জন্য উন্মুক্ত।
  2. অজুখানা ও পানির ব্যবস্থা, যা পথচারীরাও ব্যবহার করতে পারবেন।
  3. শিশুদের কুরআন শিক্ষার জন্য সকালের মক্তব, মসজিদের ভেতরে বা বারান্দায়।
  4. প্লটে কয়েকটি ফল ও ছায়াদার গাছ, যার ফল মসজিদের খরচে বা মুসল্লিদের মধ্যে বিতরণে।

কে ওয়াকফ করবেন, কতটুকু

ওয়াকফের জমি খামারের যৌথ সম্পত্তির অংশ হবে না। এক বা একাধিক পরিবার নিজেদের অর্থে আলাদা করে জমি কিনে বা নিজের মালিকানার জমি থেকে ওয়াকফ করবেন। কতটুকু জমি, তা নির্ভর করবে মসজিদ, অজুখানা, পথ আর কিছু গাছের জায়গার ওপর; নকশায় ধরা হয়েছে প্রায় পাঁচশ বর্গমিটারের একটি প্লট। কোনো পরিবার ওয়াকফে অংশ না নিলেও খামারে তাঁর অংশ বা মর্যাদা কোনোভাবেই কমবে না; এটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়।

যা ওয়াকফের অংশ নয়

  • খামারের দেয়ালের ভেতরের কোনো জমি বা স্থাপনা।
  • খামারের সৌর ব্যবস্থা, পানি বা অন্য সম্পদ; মসজিদের নিজস্ব ব্যবস্থা থাকবে।
  • পরিবারগুলোর ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক কোনো কাজ।

নিয়ত ও বিনয়

মসজিদ বানানো সম্মানের কাজ, কিন্তু নাম বা খ্যাতির জন্য নয়। তাই মসজিদের গায়ে কোনো পরিবারের নাম খোদাই করার পরিকল্পনা নেই; শুধু ওয়াকফ দলিলে আর প্রয়োজনীয় সরকারি নথিতে ওয়াকিফের নাম থাকবে। আমাদের দোয়া, আল্লাহ যেন এই ছোট উদ্যোগ কবুল করেন, আর এর মাধ্যমে প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্ক আরও মধুর হয়।

মক্তব ও শিশুরা

ফজরের পর বা সকালে মসজিদের বারান্দায় এলাকার শিশুদের কুরআন পড়া শেখানোর একটি ছোট মক্তব ওয়াকফের অন্যতম উদ্দেশ্য। খামারের পরিবারগুলোর সন্তানেরা ছুটির দিনে সেখানে অংশ নিতে পারবে, আর তত্ত্বাবধায়ক পরিবারের সন্তানেরা নিয়মিত। শিক্ষকের সম্মানী মসজিদের নিজস্ব দান থেকে আসবে, আর পাঠ হবে স্নেহ ও ধৈর্যের সাথে, যাতে শিশুরা মসজিদকে ভালোবাসার জায়গা হিসেবে চেনে।