ফসল ও মাটি

হেমন্তকাল

কার্তিক-অগ্রহায়ণ, মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য ডিসেম্বর। নবান্নের ঋতু: সোনালি আমন কাটা হয়, ঘরে নতুন চাল আসে। একই সাথে রবি মৌসুমের সবচেয়ে ব্যস্ত বপনের সময়।

আবহাওয়া

বৃষ্টি প্রায় থেমে যায়, দিন রোদেলা আর আরামদায়ক, রাতে ঠান্ডা বাড়ে, ভোরে শিশির। মাটিতে জো থাকে, যা রবি ফসল বোনার জন্য আদর্শ। কার্তিকে মাঝে মাঝে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টি হতে পারে, তাই পূর্বাভাসে নজর রাখা দরকার।

এই সময়ের ফসলের কাজ

নিচের তালিকা খামারের শস্য ক্যালেন্ডার থেকে সরাসরি তৈরি, তাই ক্যালেন্ডার বা বীজের পাতার সাথে কখনো অমিল হবে না। হেমন্তকালে সময়ে কোন ফসল বুনতে, কোনটি তুলতে আর কোনটির বীজ রাখতে হবে, তা দেখুন; ফসলের নামে চাপ দিলে তার বীজ-পরিচিতির পাতা খুলবে।

মাঠের প্রধান কাজ

  • আমন কাটা: শিষ পাকলে কাটা, মাড়াই, শুকানো; সুগন্ধি কালিজিরা ও চিনিগুড়া অগ্রহায়ণে। বীজের অংশ আলাদা।
  • খড় সংরক্ষণ: শুকনো খড় উঁচু মাচায় গাদা করে ওপরে ঢাকনা; সারা বছরের গরুর খাবার।
  • রবি সবজি রোপণ: বেগুন, টমেটো, মরিচের চারা মূল বেডে; মুলা, লালশাক, পালং, ধনিয়ার পরের দফা।
  • সরিষা, মসুর, কালোজিরা: কার্তিকে বোনা; সরিষা দেরিতে বুনলে জাব পোকা বেশি লাগে।
  • পেঁয়াজ ও রসুন: কার্তিকে রসুনের কোয়া আর পেঁয়াজের বীজতলা বা কন্দ।
  • মিষ্টিকুমড়া ও মিষ্টি আলু: মাদায় কুমড়ার বীজ আর বেলে-দোআঁশ মাটিতে মিষ্টি আলুর লতা।
  • বোরোর বীজতলা: অগ্রহায়ণে, ঠান্ডা থেকে রক্ষার প্রস্তুতিসহ।

পুকুরের যত্ন

ঠান্ডা শুরু হলে মাছের খাওয়া কমে, তাই খাবারও কমানো। বছরের শেষ বড় আহরণের ভালো সময়: জাল টেনে বড় মাছ পরিবারগুলোতে ভাগ, আর ছোট মাছ রেখে দেওয়া। শুকনো মৌসুমের আগে পুকুরপাড় মেরামত।

পশুপাখির যত্ন

  • নতুন খড় এলে ধীরে ধীরে খাবারে মেশানো, হঠাৎ বদল নয়।
  • রাতের ঠান্ডা থেকে বাছুর, ছাগলছানা ও মুরগির বাচ্চার সুরক্ষা।
  • গরুর খুরা রোগের টিকার সূচি দেখা।
  • হাঁস ধানক্ষেতে নামিয়ে ঝরা ধান ও শামুক খাওয়ানো, আমন কাটার পর।

বীজের কাজ

আমন আর সুগন্ধি ধানের বীজ সংগ্রহের মূল সময়। দেরি না করে শুকিয়ে বায়ুরোধী পাত্রে, কারণ পরের আষাঢ় পর্যন্ত রাখতে হবে। পুঁইশাক আর কলমি শাকের বীজও এই সময়ে পাকে। রেজিস্টারে প্রতিটি লটের তথ্য।

ঝুঁকি ও প্রস্তুতি

আগাম ঝড় ও ইঁদুর

পাকা আমনে ঘূর্ণিঝড়ের বৃষ্টি পড়লে ধান মাটিতে লুটিয়ে গজিয়ে যায়; পূর্বাভাস দেখে কাটার সময় ঠিক করা। পাকা ধানে ইঁদুরের উপদ্রব বাড়ে; আইলের গর্ত বন্ধ, ফাঁদ, আর পেঁচার বসার জায়গা।

রান্নাঘরে এই সময়

হেমন্ত নবান্নের ঋতু। নতুন আমন চালের ভাত, পিঠা আর পায়েস, বিশেষ করে সুগন্ধি কালিজিরা ও চিনিগুড়ার চাল দিয়ে। শীতের প্রথম মুলা, লালশাক আর পালং বেডে উঠতে শুরু করে, আর মাচায় লাউয়ের ফুল। পুকুরের বড় আহরণ থেকে পরিবারগুলো একসাথে মাছ ভাগ করে। খামারে প্রথম নবান্নের দিনটি পরিবারগুলোর একটি ছোট উৎসব হতে পারে, যেখানে শিশুরা ধান কাটা আর মাড়াই নিজের চোখে দেখে।

মাটির যত্ন

আমন কাটার পর নাড়া পুড়িয়ে নয়, মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হবে, যাতে জৈব পদার্থ বাড়ে। যে খণ্ডে মসুর বা খেসারি যাবে, সেখানে ভেজা মাটিতে দ্রুত বোনা, কারণ দেরি হলে মাটি শুকিয়ে যায়। সবজির বেডে নতুন কম্পোস্ট আর কেঁচো সার। বছরের মাটি পরীক্ষার নমুনা এই সময়ে নেওয়া সুবিধাজনক, কারণ মাঠ শুকনো আর ফসল সবে উঠেছে।

হেমন্তের চেকলিস্ট

  • আমন কাটা, বীজ আলাদা, খড় সংরক্ষণ
  • রবি সবজির চারা রোপণ
  • সরিষা, মসুর, কালোজিরা, পেঁয়াজ, রসুন বোনা
  • বোরোর বীজতলা
  • পুকুরে বছরের বড় আহরণ
  • বাচ্চা পশুপাখির ঠান্ডা থেকে সুরক্ষা