শস্য ক্যালেন্ডার
বারো মাসের কাজ এক টেবিলে। একটি মাস বাছাই করলে দেখাবে সেই মাসে কী বুনতে হবে, কী তুলতে হবে আর কোন বীজ সংগ্রহ করতে হবে।
এই মাসে
কীভাবে পড়বেন
টেবিলের প্রতিটি সারি একটি ফসল, প্রতিটি কলাম একটি বাংলা মাস। মাসের নিচে ছোট করে ইংরেজি মাসের সময় দেওয়া আছে; বাংলা মাস মোটামুটি ইংরেজি মাসের মাঝামাঝি শুরু হয়। সবুজ দাগ মানে সেই মাসে বীজ বোনা বা চারা রোপণ, হলুদ দাগ মানে ফসল তোলা, আর বাদামি বিন্দু মানে বীজের জন্য রাখা ফল বা গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ।
ওপরের সারিতে তিন ফসল মৌসুম (খরিফ-১, খরিফ-২, রবি) আর ছয় ঋতু দেখানো আছে। কোনো ফসলের নামে চাপ দিলে তার বীজ-পরিচিতির পাতায় যাবেন, যেখানে দূরত্ব, পরিচর্যা, রোগ-পোকা আর বীজ রাখার পদ্ধতি বিস্তারিত।
তিন মৌসুম এক নজরে
খরিফ-১
চৈত্র–আষাঢ় · মধ্য মার্চ – মধ্য জুলাই
গরম, কালবৈশাখী আর প্রাক-বর্ষা। আউশ ধান, মুগ, তিল আর লতানো সবজির সময়।
খরিফ-২
শ্রাবণ–আশ্বিন · মধ্য জুলাই – মধ্য অক্টোবর
ভরা বর্ষা ও শরৎ। আমন রোপণ, আর শীতের শিম-লাউয়ের বীজ বোনা।
রবি
কার্তিক–ফাল্গুন · মধ্য অক্টোবর – মধ্য মার্চ
শুকনো ঠান্ডা মৌসুম। বেশির ভাগ সবজি, ডাল, সরিষা, মসলা আর বোরো ধান।
মনে রাখার বিষয়
- সময় আনুমানিক। দেশের উত্তর ও দক্ষিণে, আর বছরভেদে বৃষ্টির সময় অনুযায়ী বপনের সময় দুই-এক সপ্তাহ আগে-পিছে হতে পারে। স্থানীয় উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ আর নিজেদের খাতার অভিজ্ঞতা মিলিয়ে নিন।
- আমন ও সুগন্ধি ধান দিনের দৈর্ঘ্য বোঝে। কালিজিরা ও চিনিগুড়ার মতো জাত দেরিতে রোপণ করলেও মোটামুটি একই সময়ে, অগ্রহায়ণে, ফুল ও ফল দেয়। তাই খুব দেরিতে রোপণ করলে ফলন কমে।
- বোরো সেচনির্ভর। শুকনো মৌসুমে পুকুর আর নলকূপের পানির ওপর চাপ পড়ে। তাই বোরো এলাকা ছোট রাখা হবে; বিস্তারিত সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা পাতায়।
- বীজের গাছ আলাদা চিহ্নিত। যে গাছ বা ফল বীজের জন্য রাখা হবে, তা শুরুতেই চিহ্নিত করে খাওয়ার জন্য তোলা হবে না। পদ্ধতি বীজ সংরক্ষণ পাতায়।
- দুই মৌসুমের ফসল। লালশাক, বেগুন, মরিচ, শসা, মিষ্টিকুমড়ার মতো কিছু ফসল দুই মৌসুমেই হয়। টেবিলে প্রধান সময় দেখানো আছে; দ্বিতীয় মৌসুমের কথা প্রতিটি ফসলের পাতায়।
ফসল তোলা আর বীজ সংগ্রহ কেন আলাদা সময়ে
খাওয়ার জন্য লাউ, ঝিঙা, ঢেঁড়স বা শিম তোলা হয় কচি অবস্থায়। কিন্তু বীজের জন্য সেই একই গাছের কয়েকটি ফল গাছেই পুরোপুরি পাকতে আর শুকাতে দিতে হয়, যাতে ভেতরের বীজ পরিপক্ব হয়। তাই টেবিলে বীজ সংগ্রহের বাদামি বিন্দু সাধারণত ফসল তোলার শেষ মাসে বা তার পরের মাসে পড়ে। ধান, ডাল আর তেলবীজে ফসল ও বীজ একই সময়ে আসে, তবে বীজের জন্য সবচেয়ে সুস্থ গাছের খণ্ড আলাদা করে কাটা হয়। মুলা, পালং, ধনিয়ার মতো শাকে বীজের জন্য কিছু গাছ মাঠে রেখে দিতে হয়, যাতে শীতের শেষে ফুল ও বীজ আসে।
ছয় ঋতুর পাতা
প্রতিটি ঋতুর আবহাওয়া, মাঠের কাজ, পুকুর ও পশুর যত্নের বিস্তারিত তালিকা আলাদা পাতায়: