ফসল ও মাটি

গ্রীষ্মকাল

বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ, মধ্য এপ্রিল থেকে মধ্য জুন। বছরের সবচেয়ে গরম সময়, দুপুরে মাঠে কাজ কঠিন, আর বিকেলে যেকোনো দিন কালবৈশাখী আসতে পারে। একদিকে বোরো কাটা, অন্যদিকে খরিফের নতুন ফসল বেড়ে ওঠা।

আবহাওয়া

দিনের তাপমাত্রা প্রায়ই অনেক বেশি থাকে, বাতাস আর্দ্র। বৈশাখের প্রথম দিকে মাঝে মাঝে কালবৈশাখী ঝড়, সাথে শিলাবৃষ্টি আর বজ্রপাত। জ্যৈষ্ঠের শেষে দক্ষিণ থেকে বর্ষার আগাম বৃষ্টি শুরু হয়। মাটি দ্রুত শুকায়, তাই সেচ আর মালচিংয়ের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। সৌর বিদ্যুতের জন্য এটি সবচেয়ে ভালো সময়: দীর্ঘ রোদেলা দিন।

এই সময়ের ফসলের কাজ

নিচের তালিকা খামারের শস্য ক্যালেন্ডার থেকে সরাসরি তৈরি, তাই ক্যালেন্ডার বা বীজের পাতার সাথে কখনো অমিল হবে না। গ্রীষ্মকালে সময়ে কোন ফসল বুনতে, কোনটি তুলতে আর কোনটির বীজ রাখতে হবে, তা দেখুন; ফসলের নামে চাপ দিলে তার বীজ-পরিচিতির পাতা খুলবে।

মাঠের প্রধান কাজ

  • বোরো কাটা: শিষের চার ভাগের তিন ভাগ পাকলেই দেরি না করে কাটা, কালবৈশাখী আর আগাম বৃষ্টির আগে। বীজের অংশ আলাদা মাড়াই।
  • আউশের পরিচর্যা: চৈত্রে বোনা আউশে প্রথম ও দ্বিতীয় নিড়ানি; বৃষ্টি দেরিতে এলে পুকুর থেকে হালকা সেচ।
  • খরিফ-১-এর সবজি: ঢেঁড়স, ডাঁটা, পুঁইশাক, বরবটি, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, করলায় নিয়মিত পানি, খড়ের মালচ আর পাতলা স্লারি।
  • মুগ ও তিল: জ্যৈষ্ঠে পাকতে শুরু করে; বৃষ্টির আগে তুলে ফেলা, কারণ ভিজলে শুঁটি ও ক্যাপসুল ফেটে বীজ ঝরে।
  • আমনের প্রস্তুতি: বীজতলার জায়গা উঁচু করা, আমনের বীজের অঙ্কুরোদগম পরীক্ষা, আইল মেরামত।
  • গাছ লাগানোর গর্ত: জ্যৈষ্ঠে ফলগাছের গর্ত খুঁড়ে কম্পোস্ট ভরে রাখা, যাতে আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টিতে চারা লাগানো যায়।

পুকুরের যত্ন

পুকুরে পানি সবচেয়ে কম থাকে বৈশাখের শুরুতে, আর গরমে পানির অক্সিজেন কমে যায়। ভোরে মাছ ভেসে উঠে খাবি খাচ্ছে কি না দেখুন; খাবি খেলে পানিতে বাঁশ দিয়ে ঢেউ তোলা, খাবার কমানো আর জৈব সার বন্ধ। বৈশাখ থেকে আষাঢ় পোনা ছাড়ার উপযুক্ত সময়, তবে ছাড়ার আগে পুকুর প্রস্তুতি আর চুন প্রয়োগ। বিস্তারিত পানির গুণমান পাতায়।

পশুপাখির যত্ন

  • গোয়াল আর মুরগির ঘরে বাতাস চলাচল; দুপুরে গোয়ালের পাখা চালানো।
  • সারাদিন পরিষ্কার, ঠান্ডা পানি; দুপুরে পশুকে চরতে না দিয়ে ছায়ায় রাখা।
  • গরমে মুরগির খাবার ভোরে আর বিকেলে; দুপুরে নয়।
  • বর্ষার আগে গরু-ছাগলের টিকা ও কৃমিনাশকের সূচি দেখা; বিস্তারিত রোগ প্রতিরোধ ক্যালেন্ডার।

বীজের কাজ

বোরো, আউশের আগাম অংশ, মুগ আর তিলের বীজ এই সময়েই আসে। গরম রোদে বীজ শুকানো সহজ, কিন্তু দুপুরের পাকা মেঝেতে নয়; চাটাই বা কাপড়ে সকালের রোদে। বর্ষা আসার আগেই সব বীজ বায়ুরোধী পাত্রে তুলে ফেলতে হবে।

ঝুঁকি ও প্রস্তুতি

কালবৈশাখী

আকাশ হঠাৎ কালো হলে মাঠ থেকে সবাই ঘরে; খোলা মাঠে বা পুকুরে থাকা যাবে না, কারণ বজ্রপাতের ঝুঁকি। ঝড়ের আগে মাচা, সোলার স্ট্যান্ড আর ঘরের টিন পরীক্ষা; ঝড়ের পর হেলে পড়া গাছ সোজা করা, ভাঙা ডাল কেটে ফেলা।

অতিরিক্ত গরমে মানুষেরও কষ্ট হয়: মাঠের কাজ ভোরে আর বিকেলে, দুপুরে বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি আর মাথা ঢাকা।

গ্রীষ্মের চেকলিস্ট

  • বোরোর বীজ আলাদা মাড়াই, শুকানো ও রেজিস্টারে লেখা
  • সবজির বেডে খড়ের মালচ ও নিয়মিত সেচ
  • পুকুরের পানির স্তর ও অক্সিজেন পর্যবেক্ষণ
  • আমনের বীজতলার জায়গা ও বীজ প্রস্তুত
  • ফলগাছের গর্ত তৈরি
  • পশুর পানি, ছায়া ও বাতাস চলাচল