বর্ষাকাল
আষাঢ়-শ্রাবণ, মধ্য জুন থেকে মধ্য আগস্ট। মাঠ পানিতে ভরে, আমন রোপণের ব্যস্ততা শুরু হয়। এ সময়ের সবচেয়ে বড় কাজ পানিকে কাজে লাগানো আর অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়া।
আবহাওয়া
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুতে প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টি, কখনো টানা কয়েক দিন। মাটি ভেজা, বাতাসে আর্দ্রতা খুব বেশি, ছত্রাকজনিত রোগ বাড়ে। মাঝে মাঝে লঘুচাপে কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি, আর নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা বা বন্যা। সৌর উৎপাদন কমে যায়; শক্তি ব্যবহারের নিয়ম বর্ষার পরিকল্পনা পাতায়।
এই সময়ের ফসলের কাজ
নিচের তালিকা খামারের শস্য ক্যালেন্ডার থেকে সরাসরি তৈরি, তাই ক্যালেন্ডার বা বীজের পাতার সাথে কখনো অমিল হবে না। বর্ষাকালে সময়ে কোন ফসল বুনতে, কোনটি তুলতে আর কোনটির বীজ রাখতে হবে, তা দেখুন; ফসলের নামে চাপ দিলে তার বীজ-পরিচিতির পাতা খুলবে।
মাঠের প্রধান কাজ
- আউশ কাটা: আষাঢ়-শ্রাবণে আউশ পাকে; রোদের দিন দেখে কাটা, ছাউনির নিচে মাচায় শুকানো, দ্রুত মাড়াই।
- আমনের বীজতলা ও রোপণ: উঁচু বীজতলায় বীজ, এক মাসের চারা শ্রাবণে রোপণ; সুগন্ধি কালিজিরা ও চিনিগুড়ার বীজতলা শ্রাবণে।
- শিমের বীজ বোনা: আষাঢ় থেকে উঁচু মাদায় দেশি শিম, যাতে শীতের শুরুতেই ফুল আসে।
- মাচা সবজি: ঝিঙা, চিচিঙ্গা, চালকুমড়া, কাকরোলের লতা মাচায় তুলে দেওয়া; গোড়ায় পানি জমতে না দেওয়া।
- গাছ লাগানো: আষাঢ়ের প্রথম ভালো বৃষ্টিতে পুকুরপাড় ও সীমানায় ফলগাছের চারা; বিস্তারিত পুকুর পাড়ের গাছ।
- ঘাসের প্লট: নেপিয়ার ও পারা ঘাসের কাটিং লাগানোর সেরা সময়।
পানি নিষ্কাশন
বর্ষায় সবজির বেডের সবচেয়ে বড় শত্রু জলাবদ্ধতা। বেড উঁচু রাখা, বেডের মাঝের নালা পরিষ্কার, আর মাঠ থেকে পুকুরের দিকে পানি যাওয়ার পথ খোলা রাখা। তবে গোয়াল আর কম্পোস্টের পানি সরাসরি পুকুরে যেন না যায়। দেয়ালের নিচের নালামুখের জালি পরিষ্কার রাখা, যাতে পাতা জমে পানি আটকে না যায়।
পুকুরের যত্ন
ভারী বৃষ্টিতে পুকুরের পানি উপচে মাছ বেরিয়ে যেতে পারে; পাড়ের নিচু অংশে জাল বা বাঁশের বানা। বৃষ্টির পর পানির রং ও মাছের আচরণ দেখুন, প্রয়োজনে চুন। আকাশ মেঘলা থাকলে প্ল্যাংকটন কম জন্মায় আর অক্সিজেন কমে, তাই সার ও খাবার পরিমিত।
পশুপাখির যত্ন
- গোয়াল ও ছাগলের মাচাঘরের মেঝে শুকনো রাখা; ছাগল ভেজা মাটিতে থাকলে রোগ বাড়ে।
- বর্ষায় কৃমি আর খুরের রোগ বাড়ে; কৃমিনাশক ও খুর পরীক্ষা।
- হাঁসের জন্য সবচেয়ে ভালো সময়, পুকুর আর ধানক্ষেতে খাবারের অভাব নেই।
- শুকনো খড় উঁচু মাচায় ঢেকে রাখা; ভেজা খড় পচে গিয়ে পশুর অসুখ করে।
বীজের কাজ
আউশের বীজ শুকানো এই ঋতুর সবচেয়ে কঠিন কাজ। ছাউনির নিচে পাতলা করে ছড়িয়ে রাখা, রোদ উঠলেই রোদে দেওয়া, কখনো ভেজা অবস্থায় গাদা করে না রাখা। সীড ব্যাংকের ভেন্ট বন্ধ, সিলিকা জেল পরীক্ষা, আর কোনো পাত্রে ছত্রাক এলো কি না দেখা।
ঝুঁকি ও প্রস্তুতি
পূর্বাভাসে ভারী বৃষ্টি বা বন্যার খবর থাকলে বীজ, সার আর যন্ত্রপাতি উঁচু জায়গায়; ব্যাটারি ঘরের মেঝে পরীক্ষা; পশুকে উঁচু স্থানে সরানোর পরিকল্পনা। আমনের বীজতলার একটি অংশ পরে রোপণের জন্য সংরক্ষিত রাখা, যাতে বন্যায় চারা নষ্ট হলে আবার লাগানো যায়।
সাপের উপদ্রব বাড়ে; রাতে টর্চ, বুট আর পথের বাতি জরুরি।
বর্ষার চেকলিস্ট
- আউশ কাটা, শুকানো ও বীজ আলাদা রাখা
- আমনের বীজতলা ও সময়মতো রোপণ
- সবজির বেড ও মাঠের নালা পরিষ্কার
- ফলগাছ ও ঘাসের কাটিং লাগানো
- পুকুরপাড়ে বানা, পানির রং পর্যবেক্ষণ
- গোয়াল ও মাচাঘর শুকনো, কৃমিনাশক