শীতকাল
পৌষ-মাঘ, মধ্য ডিসেম্বর থেকে মধ্য ফেব্রুয়ারি। সবজির ভরা মৌসুম: মাচায় লাউ-শিম, বেডে টমেটো-বেগুন-শাক, মাঠে হলুদ সরিষা। আবার কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহের সময়ও এটি।
আবহাওয়া
শুকনো, ঠান্ডা আবহাওয়া; উত্তরাঞ্চলে কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহ। ভোরে ঘন কুয়াশা, কখনো দুপুর পর্যন্ত। বৃষ্টি প্রায় নেই, তাই সেচ লাগে। কুয়াশা আর ধুলায় সোলার প্যানেলে দাগ পড়ে, তাই পরিষ্কার বেশি দরকার। দিন ছোট, ফলে সৌর উৎপাদনও গ্রীষ্মের চেয়ে কম।
এই সময়ের ফসলের কাজ
নিচের তালিকা খামারের শস্য ক্যালেন্ডার থেকে সরাসরি তৈরি, তাই ক্যালেন্ডার বা বীজের পাতার সাথে কখনো অমিল হবে না। শীতকালে সময়ে কোন ফসল বুনতে, কোনটি তুলতে আর কোনটির বীজ রাখতে হবে, তা দেখুন; ফসলের নামে চাপ দিলে তার বীজ-পরিচিতির পাতা খুলবে।
মাঠের প্রধান কাজ
- সবজি তোলা: লাউ, শিম, টমেটো, বেগুন, মুলা, পালং, লালশাক নিয়মিত তোলা; বীজের গাছ চিহ্নিত রেখে।
- বোরো রোপণ: পৌষ-মাঘে চারা রোপণ; ঠান্ডায় চারা হলুদ হলে কয়েক দিন অপেক্ষা।
- সেচ: বেডে সকাল বা বিকেলে পানি; ড্রিপ লাইন চালু; মালচ।
- আদা ও হলুদ তোলা: পাতা শুকিয়ে গেলে কন্দ তোলা, বীজের কন্দ আলাদা সংরক্ষণ।
- সরিষা কাটা: টরি জাত পৌষে পাকে; শুঁটি বেশির ভাগ হলুদ হলে সকালে কাটা, যাতে দানা না ঝরে।
- করলা ও কাকরোলের প্রস্তুতি: মাঘে মাদা তৈরি আর কাকরোলের কন্দ লাগানো।
কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহ থেকে সুরক্ষা
টমেটো ও আলুজাতীয় ফসলে কুয়াশার সময় নাবি ধসা রোগ দ্রুত ছড়ায়: পাতায় ভেজা কালচে দাগ, তারপর গাছ পচে যায়। প্রতিরোধে গাছ ঘন না লাগানো, নিচের পাতা ছেঁটে বাতাস চলাচল, সকালে শিশির ঝরিয়ে দেওয়া, আর আক্রান্ত পাতা তুলে নষ্ট করা। বোরোর বীজতলা রাতে পলিথিনে ঢেকে সকালে খুলে দেওয়া। বিস্তারিত জৈব কীটনাশক পাতায়।
পুকুরের যত্ন
ঠান্ডায় মাছ কম খায়, বাড়েও কম; খাবার অনেক কমিয়ে দেওয়া। শীতে মাছের গায়ে ক্ষত রোগ দেখা দিতে পারে; পানির মান ঠিক রাখা আর প্রয়োজনে চুন। শুকনো মৌসুমে পানি কমতে থাকে, তাই সেচের জন্য পানি তোলার সময় পুকুরের মাপকাঠি দেখা।
পশুপাখির যত্ন
- রাতে গোয়ালের খোলা দিক চট বা পর্দা দিয়ে ঢাকা, তবে বাতাস চলাচল রেখে।
- বাছুর ও ছাগলছানার বিছানায় শুকনো খড়; ভেজা বিছানায় নিউমোনিয়ার ঝুঁকি।
- মুরগির বাচ্চার ঘরে উষ্ণতার ব্যবস্থা।
- বায়োগ্যাস কম হয়; রান্নার পরিকল্পনা আর গম্বুজে খড়ের আবরণ।
বীজের কাজ
সরিষা, টমেটো আর শসার বীজ এই সময়ে আসে। টমেটোর বীজ গাঁজন করে ধুয়ে শুকানো; সরিষা মাড়াই করে কুলায় ঝেড়ে রাখা। মুলা, পালং, ধনিয়া আর পেঁয়াজের বীজের গাছ মাঠে রেখে দেওয়া, যাতে বসন্তে ফুল ও বীজ আসে।
ঝুঁকি ও প্রস্তুতি
টানা কয়েক দিন সূর্য না দেখা গেলে সৌর উৎপাদন অনেক কমে যায়, তখন বিদ্যুতের সংযমের নিয়ম মানতে হবে। কুয়াশায় রাস্তায় চলাচলে সতর্কতা, আর বয়স্ক ও শিশুদের ঠান্ডা থেকে সুরক্ষা।
রান্নাঘরে এই সময়
শীত সবজির ভরা মৌসুম: লাউ, শিম, টমেটো, বেগুন, মুলা, পালং, লালশাক, ধনিয়াপাতা। উদ্বৃত্ত সবজি থেকে টমেটোর আচার বা শুকনো শাক রেখে দেওয়া যায় বর্ষার টানের মাসগুলোর জন্য। খেজুর গাছ থাকলে রস আর গুড়ের সময়ও এটি।
শীতের চেকলিস্ট
- সবজি তোলা, বীজের গাছ চিহ্নিত
- বোরো রোপণ ও বীজতলার সুরক্ষা
- টমেটোর নাবি ধসা প্রতিরোধ
- আদা-হলুদ তোলা, বীজ কন্দ সংরক্ষণ
- সরিষা কাটা ও বীজ রাখা
- গোয়াল ও বাচ্চার ঘর ঠান্ডা থেকে রক্ষা