শক্তি ও বায়োগ্যাস

শক্তি ও বায়োগ্যাস

খামারে বিদ্যুৎ লাইনের কোনো সংযোগ থাকবে না। আলো, পাখা, পানি আর ফ্রিজ চলবে সূর্যের আলোয়; রান্না হবে গোয়ালঘরের গোবর থেকে তৈরি গ্যাসে।

৫.৪ কি.ও.প্রথম পর্যায়: ১২টি প্যানেল, প্রতিটি প্রায় ৪৫০ ওয়াট
১০+ কি.ও.দ্বিতীয় পর্যায়ে উন্নীত, জায়গা আগেই রাখা
≈ ১০ কি.ও.ঘ.প্রথম পর্যায়ের ব্যাটারি (লিথিয়াম আয়রন ফসফেট)
০ সিলিন্ডারলক্ষ্য: রান্নার সব গ্যাস বায়োগ্যাস থেকে

পুরো ব্যবস্থা এক নজরে

হলুদ রেখা বিদ্যুৎ, নীল রেখা গ্যাস, বাদামি রেখা সার। প্রতিটি অংশের বিস্তারিত নিচের পাতাগুলোতে।

খামারের শক্তি ব্যবস্থার নকশা সূর্যের আলো সোলার প্যানেলে যায়, প্যানেল থেকে চার্জ কন্ট্রোলার ও ইনভার্টারে, সেখান থেকে ব্যাটারি ও খামারের বাতি, পাখা, পাম্প ও ফ্রিজে। গরু-ছাগলের গোবর বায়োগ্যাস ডাইজেস্টারে যায়, সেখান থেকে গ্যাস রান্নাঘরে আর স্লারি ক্ষেত ও কম্পোস্টে। সূর্যদিনে ৪–৫ ঘণ্টা পূর্ণ রোদ সোলার প্যানেল১২টি · প্রায় ৫.৪ কি.ও. ইনভার্টার ও কন্ট্রোলার৫ কেভিএ, এমপিপিটি খামারের লোডদিনে ও রাতে ব্যাটারি≈ ১০ কি.ও.ঘ., রাতের জন্য বাতি পাখা ফ্রিজ পানির পাম্প গরু ও ছাগলপ্রতিদিনের গোবর বায়োগ্যাস ডাইজেস্টারমাটির নিচে, বাতাসহীন রান্নাঘরের চুলা স্লারি → ক্ষেত ও কম্পোস্ট

কেন গ্রিড ছাড়া

বিদ্যুৎ লাইনের সংযোগ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু খরচের হিসাব নয়। আমরা চাই খামারের শক্তিও খাবারের মতো নিজেদের হাতে থাকুক। লোডশেডিং বা বিলের ওঠানামা খামারের কাজ থামাবে না, আর সৌর ও বায়োগ্যাস দুটোই পরিচ্ছন্ন, স্থানীয় উৎস। এর বিনিময়ে একটি শৃঙ্খলা মানতে হবে: শক্তি সীমিত, তাই প্রতিটি যন্ত্র ভেবেচিন্তে বেছে নিতে হবে, আর ভারী কাজ দিনের রোদে করতে হবে।

দুই উৎস, দুই কাজ

সৌর বিদ্যুৎ চালাবে আলো, পাখা, পানির পাম্প, ফ্রিজ, মোবাইল ও কম্পিউটার চার্জ, আর ঘাস কাটার ছোট যন্ত্র। বায়োগ্যাস চালাবে রান্নার চুলা, আর জরুরি অবস্থায় গ্যাসের বাতি। বিদ্যুৎ দিয়ে রান্না করা হবে না, কারণ বৈদ্যুতিক চুলা খুব বেশি শক্তি টানে আর ব্যাটারি দ্রুত খালি করে।

দুই উৎসই খামারের অন্য অংশের সাথে যুক্ত। বায়োগ্যাসের স্লারি সার হয়ে ক্ষেতে যায়; সোলার পাম্প পুকুর আর সবজির জন্য পানি তোলে। তাই শক্তির পরিকল্পনা আসলে পুরো খামারের পরিকল্পনারই অংশ।

দুই পর্যায়

মনে রাখার মতো কয়েকটি সংখ্যা

  • বাংলাদেশে শুকনো মৌসুমে দিনে গড়ে প্রায় ৪–৫ ঘণ্টা পূর্ণ রোদের সমান শক্তি পাওয়া যায়; বর্ষার মেঘলা দিনে তা অনেক কমে যায়।
  • তাই ৫.৪ কিলোওয়াটের প্যানেল ভালো রোদে দিনে আনুমানিক ১৫–২০ ইউনিট দিতে পারে, আর টানা মেঘলা দিনে হয়তো ৫–৮ ইউনিট।
  • প্রথম পর্যায়ে প্রতিদিনের ব্যবহারের লক্ষ্য ১০–১২ ইউনিটের মধ্যে রাখা, যাতে মেঘলা দিনের জন্যও কিছু অবশিষ্ট থাকে।
  • বায়োগ্যাসের জন্য কয়েকটি গরুর নিয়মিত গোবর লাগে; সঠিক হিসাব বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট পাতার হিসাব যন্ত্রে।

এসব সংখ্যা পরিকল্পনার জন্য আনুমানিক। প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারির চূড়ান্ত মাপ একজন অভিজ্ঞ সোলার প্রকৌশলী সরেজমিন দেখে ঠিক করবেন।

এই বিভাগের সব পাতা