দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার
দেশি গাভী কম দুধ দেয়, কিন্তু সেই দুধ ঘন, মিষ্টি আর নিজেদের ঘাসে তৈরি। পরিষ্কারভাবে দোহন আর সঠিকভাবে ফোটানো হলে পরিবারের শিশুদের জন্য এর চেয়ে ভালো খাবার কম।
আগে বাছুরের ভাগ
দেশি গাভীর দুধ প্রথমত তার বাছুরের। জন্মের পর প্রথম কয়েক দিনের শাল দুধ পুরোটাই বাছুর খাবে, কারণ তাতে রোগ প্রতিরোধের উপাদান থাকে। এরপরও প্রতিবার দোহনের আগে বা পরে বাছুরকে খেতে দেওয়া হবে, আর বাছুর পুরোপুরি ঘাস খাওয়া শুরু না করা পর্যন্ত তার ভাগ কমানো হবে না। পরিবারের জন্য দুধ আসবে বাছুরের ভাগের পরের অংশ থেকে। দিনে কতটুকু পাওয়া যাবে তা গাভী, খাবার আর বাছুরের বয়স অনুযায়ী বদলাবে; খাতায় প্রতিদিন লেখা হবে।
পরিষ্কার দোহন
- দোহনকারী হাত ও নখ সাবান দিয়ে ধোবেন; অসুস্থ থাকলে অন্য কেউ দোহন করবেন।
- গাভীর পেছনের অংশ ও বাঁট পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে আলাদা পরিষ্কার কাপড়ে মুছে নেওয়া।
- প্রতিটি বাঁট থেকে প্রথম দুই-তিন ফোঁটা আলাদা পাত্রে ফেলে দেখা: দুধে দলা, রক্ত বা পানির মতো ভাব থাকলে ওলান প্রদাহ (ম্যাস্টাইটিস) সন্দেহ, সেই দুধ খাওয়া নয়, চিকিৎসকের পরামর্শ।
- পুরো হাতের মুঠোয় নরমভাবে, একই ছন্দে দোহন; আঙুলে টেনে বাঁটে ব্যথা দেওয়া নয়।
- স্টিল বা অ্যালুমিনিয়ামের সরু মুখের পাত্র, প্রতিবার গরম পানিতে ধোয়া ও রোদে শুকানো।
- দোহন শেষে গাভীকে কিছু খাবার, যাতে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে আর বাঁটের মুখ বন্ধ হওয়ার সময় পায়।
ছাঁকা, ফোটানো ও রাখা
দোহনের পর পরিষ্কার পাতলা কাপড়ে ছেঁকে যত দ্রুত সম্ভব ফোটাতে হবে। কাঁচা দুধে ব্রুসেলোসিস বা যক্ষ্মার মতো রোগজীবাণু থাকতে পারে, তাই খামারে কাঁচা দুধ খাওয়া নিষেধ। ফুটে ওঠার পর কয়েক মিনিট জ্বাল দিয়ে নামিয়ে ঢেকে ঠান্ডা করা, তারপর ফ্রিজে। রান্নাঘরে বায়োগ্যাসের চুলায় দুধ ফোটানো দৈনিক রুটিনের অংশ। ফ্রিজের জায়গা সীমিত বলে দিনের দুধ সেদিনই বা পরদিনের মধ্যে ব্যবহার, বাড়তি দুধ দই বা ঘিতে।
ঘরে তৈরি দুগ্ধজাত
দই
ফোটানো দুধ হাতে সহনীয় গরম থাকতে আগের দিনের দইয়ের এক-দুই চামচ মিশিয়ে মাটির পাত্রে ঢেকে উষ্ণ জায়গায় রাখলে কয়েক ঘণ্টায় জমে যায়। মাটির পাত্র বাড়তি পানি টেনে দই ঘন করে। প্রতিবার নিজেদের দই থেকে বীজ দই রাখা যায়।
মাখন ও ঘি
কয়েক দিনের দুধের সর জমিয়ে দইয়ের মতো টক করে মন্থন করলে মাখন ওঠে। মাখন কম আঁচে জ্বাল দিলে পানি উড়ে গিয়ে সোনালি ঘি হয়, নিচে বাদামি গাদ জমে। ছেঁকে কাচের শুকনো পাত্রে রাখলে ঘি অনেক দিন ভালো থাকে। মন্থনের পর বাকি ঘোল পানীয় হিসেবে বা রান্নায়।
ছানা
ফুটন্ত দুধে লেবুর রস বা আগের ছানার পানি অল্প অল্প দিলে দুধ ফেটে ছানা আলাদা হয়। পাতলা কাপড়ে বেঁধে পানি ঝরিয়ে নিলে ছানা তৈরি; মিষ্টি বা তরকারিতে। ছানার পানি ফেলে না দিয়ে রুটি-পরোটার আটায় বা গাছের গোড়ায়।
ক্ষীর ও পায়েস
দুধ ধীরে জ্বাল দিয়ে ঘন করে ক্ষীর; কালিজিরা বা চিনিগুড়া চাল দিয়ে পায়েস, খামারের নিজের দুধ আর নিজের চালে উৎসবের রান্না।
স্বাস্থ্যবিধি ও পরিমাণ
- দুধের সব পাত্র আলাদা, অন্য কাজে নয়।
- গাভী চিকিৎসাধীন থাকলে ওষুধের প্রত্যাহার সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই দুধ পরিবারের খাবারে নয়; বাছুর খাবে কি না চিকিৎসক ঠিক করবেন।
- প্রতিদিনের দুধের পরিমাণ খাতায়; হঠাৎ কমে গেলে গাভীর স্বাস্থ্য দেখা।
- দুধ আর দুগ্ধজাত খাবার পরিবারগুলোর মধ্যে কীভাবে ভাগ হবে, তা উৎপাদন বণ্টন নীতি অনুযায়ী; শিশু, গর্ভবতী ও অসুস্থ সদস্যদের অগ্রাধিকার।