প্রাণিসম্পদ

ঘাস ও গো-খাদ্য চাষ

গরু-ছাগলের সংখ্যা ঠিক করে আসলে ঘাস। নিজেদের ঘাস না থাকলে প্রতিদিন কিনতে হয়, যা স্বনির্ভরতার উল্টো। এই পাতা দেখায় কতটুকু ঘাস লাগবে, কোথা থেকে আসবে, আর ঘাটতি কীভাবে মেটানো হবে।

কতটুকু ঘাস ও খড় লাগবে

০দৈনিক কাঁচা ঘাস (কেজি)
০পুরোটা নেপিয়ার থেকে হলে জমি
০নিজেদের ঘাসের জমি থেকে
০বছরে খড়ের চাহিদা

হিসাবের ভিত্তি (আনুমানিক): বড় দেশি গরু দিনে প্রায় ১৮ কেজি কাঁচা ঘাস ও ৪ কেজি খড়; বাছুর প্রায় ৬ কেজি ঘাস ও ১.৫ কেজি খড়; ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল প্রায় ২.৫ কেজি ঘাস-পাতা। নেপিয়ারের ফলন মাটি, সার, সেচ আর কাটার নিয়মে অনেক বদলায়; প্রথম বছরের মাপ থেকে সংশোধন হবে।

সৎ হিসাব

হিসাব যন্ত্রে দেখা যায়, পাঁচটি গরু আর ছয়টি ছাগলের পুরো কাঁচা ঘাস শুধু নেপিয়ার থেকে আনতে বেশ কয়েক দশ শতাংশ জমি লাগবে, যেখানে মাস্টারপ্ল্যানে আলাদা ঘাসের প্লট মাত্র কয়েক শতাংশ। খড়ের ক্ষেত্রেও নিজেদের ধানের খড় বছরের চাহিদার একটি অংশ মেটাবে। তাই ঘাসের পরিকল্পনা এক উৎসের নয়, কয়েকটির মিলিত:

  • আলাদা ঘাসের প্লটে নেপিয়ার ও পারা, স্লারি দিয়ে নিয়মিত সার।
  • ধানক্ষেতের আইল, পুকুরপাড়, দেয়ালের ধার আর ফলগাছের নিচের ঘাস কেটে আনা।
  • রবি মৌসুমে খেসারি আর মসুরের গাছ, আর সবজির পাতা-ডগা।
  • কাঁঠাল, ইপিল-ইপিল আর ধইঞ্চার পাতা, বিশেষ করে ছাগলের জন্য।
  • ঘাটতির খড় প্রতিবেশী কৃষকের কাছ থেকে মৌসুমে কেনা, আর বিনিময়ে গোবর সার দেওয়া।
  • হরিণের অনুমতি না পেলে সেই জায়গায় ফলবাগানের নিচে ঘাস।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম: ঘাসের জোগান না বাড়া পর্যন্ত গরু-ছাগলের সংখ্যা বাড়ানো হবে না।

কোন ঘাস

ঘাসের ধরন ও বৈশিষ্ট্য
ঘাসকোথায় ভালোলাগানো ও কাটা
নেপিয়ারউঁচু, ভালো নিষ্কাশিত জমি; জলাবদ্ধতা সহ্য করে নাকাণ্ডের কাটিং বা মোথা, বর্ষার শুরুতে; লাগানোর প্রায় দুই মাস পর প্রথম কাটা, তারপর প্রায় প্রতি মাসে; মাটি থেকে কয়েক আঙুল রেখে কাটা
পারানিচু, ভেজা জমি ও পুকুরপাড়; জলাবদ্ধতা সহ্য করেলতার কাটিং; দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, পাড়ের মাটি ধরে রাখে
জার্মান ঘাসনিচু ও আর্দ্র জমিকাটিং দিয়ে; বর্ষায় দ্রুত বাড়ে
খেসারি ও মসুর গাছরবি মৌসুমে ধানক্ষেতেডাল তোলার পর বা কিছু অংশ কাঁচা অবস্থায় কেটে খাওয়ানো
গাছের পাতাপুকুরপাড় ও সীমানাকাঁঠাল, ইপিল-ইপিল, ধইঞ্চা; ছাগলের প্রিয়

নেপিয়ারের প্লটে প্রতিবার কাটার পর পাতলা বায়োগ্যাস স্লারি নালা দিয়ে দেওয়া হবে; এতে ঘাস দ্রুত নতুন করে গজায়, আর রাসায়নিক সারের দরকার হয় না।

খড় সংরক্ষণ

আমন আর বোরো কাটার পর খড় ভালো করে রোদে শুকিয়ে উঁচু মাচায় বা গোলাকার পালায় রাখা হবে, ওপরে পলিথিন বা খড়ের ছাউনি। মাটির সংস্পর্শে বা ভেজা অবস্থায় রাখলে খড়ে ছত্রাক ধরে, যা গরুর জন্য ক্ষতিকর। খড়ের পালা গোয়াল ও রান্নাঘর থেকে নিরাপদ দূরত্বে, আগুনের ঝুঁকি মাথায় রেখে।

সাইলেজ

বর্ষায় ঘাস বেশি হয়, শুকনো মৌসুমে কম। বর্ষার বাড়তি নেপিয়ার কুচি করে বায়ুরোধী অবস্থায় চেপে রাখলে কয়েক সপ্তাহে টক-মিষ্টি গন্ধের সাইলেজ হয়, যা কয়েক মাস ভালো থাকে। ছোট পরিসরে মোটা পলিথিনের বস্তা বা ঢাকনাওয়ালা ড্রামে করা যায়: ঘাস আধা শুকিয়ে কুচি, স্তরে স্তরে শক্ত করে চাপ, মাঝে সামান্য চিটাগুড় মিশিয়ে, তারপর বাতাস বের করে মুখ বন্ধ। খোলার পর পচা বা ছত্রাকযুক্ত অংশ ফেলে দিতে হবে।

মৌসুমভেদে ঘাস

  • বর্ষা (আষাঢ়–আশ্বিন): ঘাস প্রচুর; সাইলেজ তৈরি, নতুন নেপিয়ার লাগানো।
  • হেমন্ত–শীত (কার্তিক–মাঘ): আমনের খড় আসে; নেপিয়ারের বৃদ্ধি ধীর; খেসারি-মসুর গাছ।
  • বসন্ত–গ্রীষ্ম (ফাল্গুন–জ্যৈষ্ঠ): সবচেয়ে টানের সময়; সাইলেজ, খড়, গাছের পাতা আর সেচ দেওয়া নেপিয়ার।