শক্তি ও বায়োগ্যাস

বায়োগ্যাস স্লারি সার

বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট শুধু গ্যাস দেয় না; প্রতিদিন যে স্লারি বের হয়, তা খামারের সবচেয়ে নিয়মিত সারের উৎস। গোবরের পুষ্টি এতে প্রায় পুরোটাই থেকে যায়, আর পচে যাওয়ায় গাছ সহজে নিতে পারে।

স্লারি কী, কেন ভালো

ডাইজেস্টারে গোবরের কার্বন ভেঙে গ্যাস হয়, কিন্তু নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশ আর অন্যান্য পুষ্টি স্লারিতে থেকে যায়। কাঁচা গোবরের তুলনায় স্লারির গন্ধ কম, আগাছার বীজ ও কিছু রোগজীবাণু কমে যায়, আর পুষ্টি গাছের জন্য সহজলভ্য অবস্থায় থাকে। নিয়মিত ব্যবহারে মাটির জৈব পদার্থ বাড়ে, মাটি ঝুরঝুরে হয়, পানি ধরে রাখার ক্ষমতাও বাড়ে।

≈ ১০০ লি.প্রতিদিন, পাঁচটি গরুর গোবরে চলা প্ল্যান্ট থেকে
≈ ৩,০০০ লি.প্রতি মাসে
৩ রূপতরল, শুকনো, কম্পোস্ট
০রাসায়নিক সারের প্রয়োজন

তিন রূপে ব্যবহার

তরল স্লারি

পিট থেকে সরাসরি, সমান বা দ্বিগুণ পানিতে মিশিয়ে গাছের গোড়ায়। দ্রুত কাজ করে; বিশেষ করে ঘাস আর লতানো সবজিতে।

শুকনো স্লারি

ছায়াযুক্ত বেডে বা খড়ের ওপর ছড়িয়ে শুকানো। বহন করা ও মজুদ রাখা সহজ; জমি চাষের আগে মাটিতে মেশানো হয়।

কম্পোস্ট করা স্লারি

খড়, ঝরা পাতা, ফসলের অবশিষ্টাংশের স্তরের সাথে স্লারি মিশিয়ে কম্পোস্ট। স্লারি কম্পোস্টকে দ্রুত পচায়, আর তৈরি সার সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ।

ফসলভেদে প্রয়োগ

ফসলভেদে স্লারি প্রয়োগের নির্দেশনা
ফসলকোন রূপেকখন ও কীভাবে
সবজির বেডশুকনো বা কম্পোস্ট; পরে তরলবেড তৈরির সময় মাটিতে মেশানো; চারা লাগানোর দুই-তিন সপ্তাহ পর থেকে পাতলা তরল গোড়ায়, পাতায় নয়
শাককম্পোস্ট করাবোনার আগে মাটিতে; খাওয়ার পাতায় কাঁচা স্লারি একেবারেই নয়
ধানশুকনো বা কম্পোস্টশেষ চাষের সময় মাটিতে মেশানো, রোপণের আগে
নেপিয়ার ও পারা ঘাসতরলপ্রতিবার কাটার পর নালা দিয়ে; ঘাস দ্রুত নতুন করে গজায়
ফলগাছশুকনো বা কম্পোস্টবর্ষার শুরু ও শেষে গাছের চারপাশে চক্রাকার নালায়, গুঁড়ি থেকে একটু দূরে
মাচার লতানো সবজিতরলফুল আসার আগে ও ফল ধরার সময়, গোড়া থেকে একটু দূরে

কতটুকু: সাধারণ জৈব সারের মতো, প্রতি শতাংশ জমিতে মোটামুটি ২০–৪০ কেজি শুকনো স্লারি বা স্লারি-কম্পোস্ট, ফসল ও মাটির অবস্থা বুঝে। এটা একটি শুরুর পরিসর; বার্ষিক মাটি পরীক্ষা আর ফসলের চেহারা দেখে কম-বেশি করা হবে। জৈব সার বেশি দিলে সাধারণত ক্ষতি কম, তবে অতিরিক্ত তরল স্লারি একবারে দিলে গোড়া পচতে পারে।

পুকুরে সতর্কতা

অল্প পরিমাণে পুরোনো, পচা স্লারি পুকুরে দিলে প্ল্যাংকটন বাড়ে, যা মাছের প্রাকৃতিক খাবার। কিন্তু বেশি দিলে পানিতে অক্সিজেন কমে যায়, আর ভোরে মাছ ভেসে উঠে খাবি খেতে পারে। তাই:

  • শুধু কয়েক সপ্তাহ পুরোনো, ভালোভাবে পচা স্লারি; একবারে অল্প, কয়েক জায়গায় ভাগ করে।
  • পানির রং হালকা সবুজ থাকলে আর দেওয়া নয়; ঘন সবুজ বা বাদামি হলে বন্ধ।
  • মেঘলা, গুমোট দিনে কখনো নয়।
  • স্লারি পিটের নালা যেন বৃষ্টিতে উপচে সরাসরি পুকুরে না যায়।

বিস্তারিত পানির গুণমান ও জৈব খাদ্য পাতায়।

সংরক্ষণ

  • স্লারি পিট ছায়াযুক্ত ও ঢাকা, যাতে বৃষ্টিতে পুষ্টি ধুয়ে না যায় আর রোদে নাইট্রোজেন উড়ে না যায়।
  • পিট পূর্ণ হওয়ার আগেই খালি করা; উপচে পড়লে নলকূপ বা পুকুরে যাওয়ার ঝুঁকি।
  • শুকানোর বেড পাকা বা খড় বিছানো, বৃষ্টির সময় ঢেকে রাখা।
  • শুকনো স্লারি বস্তায় ভরে গুদামে, মাটি থেকে উঁচুতে।

স্বাস্থ্যবিধি

  • স্লারি নিয়ে কাজের সময় দস্তানা ও বুট; কাজ শেষে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া।
  • যেসব সবজি কাঁচা খাওয়া হয় (শসা, টমেটো, ধনিয়াপাতা), সেগুলোতে তোলার অন্তত তিন-চার সপ্তাহ আগে থেকে তরল স্লারি বন্ধ।
  • অসুস্থ পশুর গোবর আলাদা কম্পোস্টে, পুরোপুরি পচিয়ে তবেই ব্যবহার।
  • শিশুরা স্লারি পিটের কাছে একা যাবে না।

স্লারির পাশাপাশি খামারের অন্য জৈব সারের উৎস দেখুন কম্পোস্ট ও ভার্মি কম্পোস্ট পাতায়।