প্রাণিসম্পদ

দেশি পদ্ধতিতে ডিম ফোটানো

দেশি মুরগির সবচেয়ে বড় গুণ হলো সে নিজেই মা হতে চায়। কুঁচে মুরগি বিদ্যুৎ ছাড়া, নিখুঁত তাপে ডিম ফোটায় আর বাচ্চাকে চরে খেতে শেখায়। আমাদের খামারে বাচ্চা উৎপাদনের প্রধান পদ্ধতি এটাই।

≈ ২১ দিনমুরগির ডিম ফুটতে
≈ ২৮ দিনহাঁসের ডিম ফুটতে
≈ ৩০ দিনরাজহাঁসের ডিম ফুটতে
১০–১২টিএকটি কুঁচে মুরগির নিচে মুরগির ডিম

কুঁচে মুরগি চেনা

কয়েক দফা ডিম পাড়ার পর দেশি মুরগি বাসায় বসে থাকতে চায়, তুলতে গেলে ফোঁস করে, পালক ফুলিয়ে রাখে, আর রাতেও বাসা ছাড়ে না। এই অবস্থাকে কুঁচে হওয়া বলে। পরপর দুই-তিন দিন এমন আচরণ দেখলে বুঝতে হবে সে তা দিতে প্রস্তুত। শান্ত, সুস্থ, মাঝারি আকারের মুরগি ভালো মা হয়।

ডিম বাছাই

  • মোরগসহ দল থেকে পাওয়া উর্বর ডিম, সাত দিনের বেশি পুরোনো নয়।
  • মাঝারি আকার, স্বাভাবিক গড়ন; খুব ছোট, খুব বড় বা দুই কুসুমের ডিম নয়।
  • খোসা পরিষ্কার, ফাটলহীন; ময়লা ঘষে না তুলে শুকনো কাপড়ে আলতো মুছে নেওয়া, পানিতে ধোয়া নয়।
  • বসানোর আগ পর্যন্ত ঠান্ডা, ছায়াযুক্ত জায়গায়, সরু দিক নিচে রেখে।
  • একটি মুরগির নিচে তার শরীর যতগুলো ঢাকতে পারে, সাধারণত দশ-বারোটি মুরগির ডিম, বা সাত-আটটি হাঁসের ডিম।

বাসা তৈরি

একটি বাঁশের ঝুড়ি বা কাঠের বাক্সে নিচে মাটি বা ছাইয়ের স্তর, ওপরে শুকনো খড়; মাঝখানে সামান্য গর্ত, যাতে ডিম গড়িয়ে না যায়। খড়ে কয়েকটি নিমপাতা দিলে উকুন-মাইট কম হয়। বাসা রাখা হবে আধো-অন্ধকার, শান্ত কোণে, অন্য মুরগির নাগাল থেকে আলাদা, শিয়াল-বেজি থেকে নিরাপদ জায়গায়। মুরগিকে রাতে বাসায় বসিয়ে দিলে সাধারণত সহজে মেনে নেয়।

তা দেওয়ার সময়

  1. বাসার পাশে খাবার, পানি আর ধুলাস্নানের জায়গা; মুরগি দিনে এক-দুবার অল্প সময়ের জন্য নামে।
  2. প্রায় সপ্তম দিনে আর চৌদ্দতম দিনে অন্ধকার ঘরে টর্চের আলোয় ডিম পরীক্ষা: ভেতরে লালচে রক্তনালি দেখা গেলে ভ্রূণ বাড়ছে; পরিষ্কার স্বচ্ছ ডিম অনুর্বর, সরিয়ে ফেলা।
  3. হাঁসের ডিম মুরগির নিচে থাকলে শেষ সপ্তাহে প্রতিদিন হালকা কুসুম গরম পানি ছিটিয়ে দেওয়া, কারণ হাঁস নিজে বসলে ভেজা পালকে আর্দ্রতা দেয়।
  4. শেষ দুই-তিন দিন বাসা নাড়াচাড়া একেবারে নয়।
  5. বাচ্চা খোসা ভাঙতে সময় নেয়; জোর করে খোসা ছাড়ানো যাবে না।

বাচ্চার যত্ন

  • প্রথম দিন বাচ্চা কুসুমের পুষ্টিতে চলে; তারপর ভাঙা চালের খুদ, ভেজা ভুসি, সেদ্ধ ডিম কুচি আর পরিষ্কার পানি অগভীর পাত্রে।
  • মা মুরগি বাচ্চাকে উষ্ণ রাখে আর চরে খেতে শেখায়; প্রথম দুই-তিন সপ্তাহ মা ও বাচ্চা একটি ঢাকা খোঁয়াড়ে, যাতে কাক-চিল-বিড়াল নাগাল না পায়।
  • প্রথম সপ্তাহে রানীক্ষেতের চোখের ফোঁটা টিকা; বিস্তারিত রোগ প্রতিরোধ ক্যালেন্ডারে।
  • হাঁসের বাচ্চা প্রথম দুই-তিন সপ্তাহ গভীর পানিতে নয়।
  • বৃষ্টির দিনে বাচ্চা ভিজলে দ্রুত শুকনো, উষ্ণ জায়গায়।

ইনকিউবেটর: ঐচ্ছিক, দ্বিতীয় পর্যায়ে

একসাথে অনেক বাচ্চা দরকার হলে ছোট বৈদ্যুতিক ইনকিউবেটর ব্যবহার করা যায়, যা তিন-চার সপ্তাহ টানা চলে, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে, আর ডিম ঘুরিয়ে দেয়। কিন্তু টানা চালু থাকা যন্ত্র মেঘলা দিনে সৌর ব্যাটারির ওপর চাপ দেয়, আর বিদ্যুৎ বন্ধ হলে পুরো ব্যাচ নষ্ট হতে পারে। তাই প্রথম পর্যায়ে ইনকিউবেটর নয়; সৌর ব্যবস্থা ১০ কিলোওয়াটে উন্নীত হওয়ার পর, আর শুধু শুকনো মৌসুমে, ঐচ্ছিক হিসেবে। এর লোড লোড হিসাবে “ডিম ফোটানোর যন্ত্র” নামে যুক্ত আছে। দেশি পদ্ধতিই প্রধান থাকবে।

খাতা

প্রতিটি দফার তারিখ, কয়টি ডিম বসানো হলো, কয়টি উর্বর ছিল, কয়টি ফুটল আর কয়টি বাচ্চা এক মাস বয়স পর্যন্ত টিকল, খাতায় লেখা। কোন মা মুরগি বারবার ভালো ফল দেয়, তা জানা গেলে পরের দফায় তাকেই অগ্রাধিকার।