প্রাণিসম্পদ

পশু কল্যাণ

যে প্রাণী আমাদের দুধ, ডিম আর মাংস দেয়, তার জীবনটা যেন ভালো কাটে, এটাই আমাদের দায়িত্ব। এই পাতার নিয়মগুলো সব পরিবার, তত্ত্বাবধায়ক আর শ্রমিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।

ইসলামের শিক্ষা

রাসুলুল্লাহ (সা.) পশুর প্রতি দয়ার বহু শিক্ষা দিয়েছেন। হাদিসে আছে, এক ব্যক্তি তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি খাইয়ে ক্ষমা পেয়েছিলেন, আর এক নারী একটি বিড়ালকে বেঁধে না খাইয়ে রাখার কারণে শাস্তির যোগ্য হয়েছিলেন। তিনি পশুর মুখে দাগ দেওয়া, অযথা কষ্ট দেওয়া আর জবাইয়ের আগে এক পশুর সামনে আরেক পশু জবাই বা ছুরি ধার দেওয়া নিষেধ করেছেন। প্রতিটি প্রাণের প্রতি সদয় আচরণে সওয়াব আছে। আমাদের খামারে এই শিক্ষাই পশু কল্যাণের ভিত্তি।

পাঁচটি স্বাধীনতা

আধুনিক পশু কল্যাণ বিজ্ঞানে পাঁচটি মৌলিক স্বাধীনতার কথা বলা হয়। আমাদের খামারে প্রতিটির জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম:

পাঁচ স্বাধীনতা ও খামারের নিয়ম
স্বাধীনতাখামারে কীভাবে
ক্ষুধা ও তৃষ্ণা থেকে মুক্তিপ্রতিদিন পর্যাপ্ত খাবার; পরিষ্কার পানি সবসময়, গরমে বাড়তি পাত্র; ঘাসের জোগানের চেয়ে বেশি পশু নয়
অস্বস্তি থেকে মুক্তিশুকনো মেঝে, ছায়া, বাতাস চলাচল; শীতে আড়াল; প্রতিটি প্রাণীর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা
ব্যথা, আঘাত ও রোগ থেকে মুক্তিটিকা, কৃমিনাশক, পরিষ্কার ঘর; অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা, প্রয়োজনে ওষুধও
স্বাভাবিক আচরণের স্বাধীনতামুরগির ধুলাস্নান ও চরা, হাঁসের পানিতে সাঁতার, গরু-ছাগলের চলাফেরা ও দলে থাকা
ভয় ও মানসিক কষ্ট থেকে মুক্তিশান্ত আচরণ, মারধর নয়, চিৎকার নয়; একা আলাদা রাখা শুধু অসুস্থতায়

আচরণের নিয়ম

  • লাঠি দিয়ে মারা, লেজ মোচড়ানো বা লাথি দেওয়া নিষেধ; গরু-ছাগল সরাতে হাতের ইশারা আর নরম কণ্ঠ।
  • নাকে দড়ি পরানোর প্রচলন আছে, তবে দড়ি নরম ও আরামদায়ক হবে, শক্ত করে টানা যাবে না।
  • পাখি ধরার সময় দুই হাতে ডানাসহ শরীর ধরা; পা ধরে উল্টো করে ঝুলিয়ে নেওয়া নয়।
  • দুপুরের কড়া রোদে পশুকে খোলা মাঠে বেঁধে রাখা নয়।
  • অতিরিক্ত বোঝা বা অতিরিক্ত কাজ নয়; হালের গরু হলে বিশ্রামসহ।
  • শিশুরা প্রাণীর সাথে খেলবে বড়দের তত্ত্বাবধানে, কষ্ট দিয়ে নয়।

যা আমরা করব না

  • হরমোন, স্টেরয়েড বা মোটাতাজাকরণের ওষুধ।
  • মুরগিকে খাঁচায় সারাজীবন আটকে রাখা, বা রাতে আলো জ্বালিয়ে জোর করে ডিম পাড়ানো।
  • অসুস্থ প্রাণীকে চিকিৎসা না দিয়ে ফেলে রাখা।
  • দুর্বল বা অসুস্থ প্রাণী হাটে বিক্রি করে দায় এড়ানো।
  • বন্যপ্রাণী অনুমতি ছাড়া বা অপর্যাপ্ত খাঁচায় রাখা।

বুড়ো ও অক্ষম প্রাণী

যে গাভী আর দুধ দেয় না বা যে প্রাণী বুড়ো হয়ে গেছে, তার বিষয়ে আগেই নীতি থাকা ভালো। সুস্থ প্রাণী হলে শরিয়তসম্মত উপায়ে জবাই করে খাওয়া যায়; অসুস্থ ও কষ্টে থাকা প্রাণীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে মানবিক সিদ্ধান্ত। কোনো অবস্থাতেই কষ্টে থাকা প্রাণীকে অবহেলায় ফেলে রাখা হবে না। জবাইয়ের নিয়ম কুরবানি ও হালাল জবাই পাতায়।

পরিবহন ও হস্তান্তর

পশু আনা-নেওয়ার সময় যানবাহনে পর্যাপ্ত জায়গা, পিচ্ছিলহীন মেঝে, ছায়া আর পানি থাকবে; দীর্ঘ যাত্রায় বিশ্রাম। গাদাগাদি করে বা পা বেঁধে ফেলে রাখা নয়। পাখি আনা হবে বাতাস চলাচলের সুবিধাসহ ঝুড়িতে, অল্প সংখ্যায়। হাটে নেওয়ার চেয়ে খামার থেকে সরাসরি পরিচিত পরিবারে হস্তান্তর পশুর জন্য কম কষ্টের।

মাসিক কল্যাণ পরীক্ষা

প্রতি মাসে প্রাণিসম্পদের দায়িত্বশীল একটি সহজ তালিকা পূরণ করবেন: প্রতিটি প্রাণীর শরীরের অবস্থা (খুব রোগা না খুব মোটা), লোম বা পালকের অবস্থা, খোঁড়ানো, ক্ষত, ঘরের মেঝে, পানির পাত্র, ছায়া। সমস্যা পেলে মাসিক সভায় তোলা আর সমাধান খাতায় লেখা।