প্রাণিসম্পদ

কুরবানি ও হালাল জবাই

খামারে বড় হওয়া গরু-ছাগলের একটি অংশ কুরবানি আর পরিবারের মাংসের জন্য। জবাই একটি ইবাদতের অংশ, তাই তা হবে শরিয়তের নিয়ম মেনে, পশুর প্রতি সর্বোচ্চ দয়া রেখে, আর পরিচ্ছন্নভাবে।

আলেমের পরামর্শ

এই পাতা সাধারণ নির্দেশনা। কুরবানির পশুর বয়স, শরিক, মাংস বণ্টন বা কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন থাকলে একজন বিজ্ঞ আলেমের কাছ থেকে মাসআলা জেনে নিতে হবে।

কুরবানির পশুর শর্ত

  • বয়স: প্রচলিত মাসআলা অনুযায়ী ছাগল অন্তত এক বছর, গরু অন্তত দুই বছর পূর্ণ হতে হয়। খামারে জন্মানো পশুর জন্মতারিখ খাতায় থাকায় বয়স নিশ্চিত করা সহজ।
  • সুস্থতা ও ত্রুটিহীনতা: অন্ধ, স্পষ্টত খোঁড়া, খুব রোগা বা অসুস্থ পশু কুরবানির উপযুক্ত নয়। শিং ভাঙা, কান কাটা ইত্যাদি বিষয়ে মাসআলা আলেমের কাছে জেনে নেওয়া।
  • শরিক: একটি গরুতে সর্বোচ্চ সাতজন শরিক হতে পারেন; ছাগলে একজন। পাঁচ পরিবারের মধ্যে কে কোন পশুতে শরিক হবেন, ঈদের আগে লিখিতভাবে ঠিক করা।
  • প্রস্তুতি: মোটাতাজাকরণের ওষুধ বা হরমোন কখনো নয়; সারা বছর ঘাস আর ভালো যত্নে বড় হওয়া পশুই খামারের কুরবানির পশু।

জবাইয়ের পদ্ধতি

  1. জবাইকারী মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ বুদ্ধির হবেন; কুরবানির পশু নিজে জবাই করা উত্তম, না পারলে উপস্থিত থাকা।
  2. ছুরি খুব ধারালো হবে, আর পশুর চোখের আড়ালে ধার দেওয়া হবে।
  3. এক পশুর সামনে আরেক পশু জবাই করা হবে না; অপেক্ষমাণ পশু আড়ালে, শান্ত জায়গায়।
  4. পশুকে আলতোভাবে বাম কাত করে কিবলামুখী শোয়ানো; অপ্রয়োজনে টানাহেঁচড়া বা আঘাত নয়।
  5. “বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার” বলে দ্রুত, এক টানে গলার শ্বাসনালি, খাদ্যনালি ও প্রধান রক্তনালিগুলো কাটা, যাতে রক্ত পুরোপুরি বেরিয়ে যায়।
  6. পশু পুরোপুরি নিস্তেজ না হওয়া পর্যন্ত চামড়া ছাড়ানো বা ঘাড় ভাঙা নয়।

জায়গা ও পরিচ্ছন্নতা

জবাইয়ের জন্য গোয়ালের পাশে একটি নির্দিষ্ট পাকা জায়গা, যেখানে রক্ত ও পানি নালা দিয়ে একটি ঢাকা গর্তে যায়, খোলা মাঠে বা পুকুরে নয়। কাজের আগে জায়গা ধোয়া, পর্যাপ্ত পরিষ্কার পানি, পরিষ্কার চাটাই বা পলিথিন, আর মাংস রাখার ঢাকা পাত্র। যারা কাটাকুটি করবেন তারা হাত ধোবেন, আর কাজের পর সব যন্ত্র গরম পানি ও সাবানে ধুয়ে রোদে শুকাবেন।

মাংস বণ্টন

কুরবানির মাংস তিন ভাগ করার প্রচলিত রীতি: এক ভাগ নিজের পরিবারের, এক ভাগ আত্মীয়-প্রতিবেশীর, আর এক ভাগ দরিদ্রদের। খামারের শ্রমিক আর মসজিদের আশপাশের অভাবী পরিবারগুলো এই বণ্টনে অগ্রাধিকার পাবে। কসাই বা সাহায্যকারীর মজুরি মাংস বা চামড়া দিয়ে নয়, আলাদা টাকায় দেওয়া হবে। চামড়া বা তার মূল্য দান করা হবে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

  • রক্ত ঢাকা গর্তে, ওপরে মাটি ও কিছুটা ছাই দিয়ে ঢেকে দেওয়া; কয়েক সপ্তাহে তা মাটিতে মিশে সার হয়।
  • পেটের গোবর ও নাড়িভুঁড়ির অখাদ্য অংশ কম্পোস্টের স্তূপের গভীরে, খড়ের স্তরের নিচে, যাতে কুকুর-শিয়াল না টানে আর গন্ধ না ছড়ায়।
  • হাড় আলাদা করে রোদে শুকিয়ে গুঁড়া করলে ফলগাছের সার।
  • রাস্তার ধারে, পুকুরে বা খোলা জায়গায় কোনো বর্জ্য নয়; ঈদের দিনেই জায়গা পুরোপুরি পরিষ্কার।

বর্জ্য কীভাবে কম্পোস্টে যাবে, তার নিয়ম গোবর ব্যবস্থাপনা ও কম্পোস্ট পাতায়।

নিয়মিত মাংসের জন্য জবাই

ঈদ ছাড়াও পরিবারের প্রয়োজনে মুরগি, হাঁস বা ছাগল জবাই করা হবে একই নিয়মে: ধারালো ছুরি, বিসমিল্লাহ বলে, দ্রুত ও কষ্টহীনভাবে। অসুস্থ প্রাণী খাওয়ার জন্য জবাই করা হবে না, আর চিকিৎসাধীন প্রাণীর ক্ষেত্রে ওষুধের প্রত্যাহার সময় শেষ হতে হবে।