দৈনিক রুটিন
খামারের দিন শুরু হয় ফজরের আজানে, শেষ হয় এশার পরে। নামাজের সময়গুলোই দিনের কাজকে স্বাভাবিকভাবে পাঁচ ভাগে ভাগ করে দেয়, আর দুপুরের কড়া রোদে বিশ্রামের সুযোগ দেয়।
একটি সাধারণ দিন
নিচের সূচি তত্ত্বাবধায়ক পরিবারের নিয়মিত দিনের জন্য; যেদিন কোনো অংশীদার পরিবারের পালা থাকে, তাঁরা সাধারণত সকাল বা বিকেলের অংশে যোগ দেন। নামাজের সময় মৌসুমভেদে বদলায়, তাই ঘড়ির সময় না দিয়ে নামাজ ধরে সাজানো হয়েছে।
| সময় | কাজ | ক্ষেত্র |
|---|---|---|
| ফজরের পর | মুরগি ও হাঁসের ঘর খোলা, পানি ও খাবার; গরু দোয়ানো; গোয়াল থেকে গোবর সংগ্রহ করে বায়োগ্যাসের ইনলেটে; ভোরে পুকুরে মাছ ভেসে খাবি খাচ্ছে কি না দেখা | পশু, পুকুর, শক্তি |
| সকাল | দুধ ফোটানো ও ঠান্ডা করা; গরু-ছাগলকে ঘাস; সবজিতে পানি (রোদ চড়ার আগে); ফসল তোলা; পোকা ও রোগ পরিদর্শন; ডিম সংগ্রহ | রান্নাঘর, ফসল |
| দুপুরের আগে | সোলার পাম্প চালিয়ে ট্যাংক ভরা; কাপড় ধোয়া বা ঘাস কাটার যন্ত্রের মতো ভারী কাজ; নিড়ানি বা মাচা মেরামত | শক্তি, ফসল |
| যোহর ও দুপুর | নামাজ, খাওয়া, বিশ্রাম; গ্রীষ্মে কড়া রোদে মাঠের কাজ বন্ধ; পশুর ছায়া ও পানি দেখা | সবাই |
| আসরের পর | বিকেলে আবার সবজিতে পানি; গরু-ছাগলকে চরানো বা ঘাস; পুকুরে মাছের খাবার; খাতা লেখা | ফসল, পশু, পুকুর |
| মাগরিবের আগে | হাঁস-মুরগি ঘরে তোলা ও গোনা; ছাগল ঘরে; ফটক বন্ধ; বাতি জ্বলছে কি না দেখা | পশু, নিরাপত্তা |
| এশার আগে-পরে | ইনভার্টারে ব্যাটারির চার্জ দেখে খাতায়; প্রয়োজনে বর্ষার ধাপ মেনে লোড কমানো; সমন্বয়ককে দিনের খবর ফোনে | শক্তি, সমন্বয় |
মৌসুমভেদে পরিবর্তন
গ্রীষ্ম (বৈশাখ–জ্যৈষ্ঠ)
দিন লম্বা, ফজর তাড়াতাড়ি। মাঠের ভারী কাজ ভোর থেকে সকাল দশটার মধ্যে আর বিকেলে, দুপুরে পুরোপুরি বিশ্রাম। পশুর পানি দিনে কয়েকবার দেখা; গোয়ালে পাখা থাকলে দুপুরে চালানো। কালবৈশাখীর পূর্বাভাসে ঢিলা জিনিস বেঁধে রাখা।
বর্ষা (আষাঢ়–শ্রাবণ)
বৃষ্টির ফাঁকে কাজ। সকালে নালা ও পানি নিষ্কাশন দেখা, পুকুরের পানি উপচে পড়ছে কি না, মাছ বেরিয়ে যাচ্ছে কি না। সন্ধ্যায় সাপের জন্য টর্চ আর বুট বাধ্যতামূলক। মেঘলা দিনে ভারী বৈদ্যুতিক কাজ বাদ।
শীত (পৌষ–মাঘ)
দিন ছোট, ভোরে কুয়াশা। মাঠের কাজ রোদ ওঠার পরে শুরু; এ সময় সবজির ভরা মৌসুম, তাই ফসল তোলা আর বিতরণের কাজ বেশি। মুরগির বাচ্চা ও বাছুরকে রাতে ঠান্ডা থেকে রক্ষা।
তত্ত্বাবধায়কের বিশ্রাম
পশুপালনের কাজে ছুটি কঠিন, কারণ গরু-মুরগি প্রতিদিন খাবার চায়। তাই তত্ত্বাবধায়ক পরিবারের সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পালার অংশীদার পরিবার বা একজন বদলি সহকারী সকাল-সন্ধ্যার নিয়মিত কাজ করবেন। বছরে কয়েক দিনের ছুটি আগে থেকে ঠিক করা থাকবে, বিশেষত দুই ঈদে।
দিনের খাতা
একটি ছোট দৈনিক খাতায় প্রতি সন্ধ্যায় কয়েক লাইন: দুধ কত লিটার, ডিম কয়টি, কী ফসল তোলা হলো, ব্যাটারির চার্জ, কোনো পশু অসুস্থ কি না, আর অস্বাভাবিক কিছু। এই খাতা থেকেই মাসিক হিসাব আর উৎপাদন বণ্টন তৈরি হয়।
সকাল আর বিকেলের হালকা কাজে তারা অংশ নিতে পারে, দুপুর ও সন্ধ্যার পরে পুকুরের কাছে নয়। বিস্তারিত শিশুদের শিক্ষা ও অংশগ্রহণ পাতায়।
খাতার শেষ লাইনে তত্ত্বাবধায়ক লিখবেন পরের দিনের জন্য কোনো বিশেষ কাজ বা কেনাকাটার প্রয়োজন আছে কি না, যাতে পালার পরিবার আসার সময় সেটা নিয়ে আসতে পারেন।