বীজ রেজিস্টার
বীজের বয়াম শুধু বীজ রাখে; রেজিস্টার রাখে তার ইতিহাস। কোন গাছ থেকে, কবে, কত গজায়, কাকে দেওয়া হলো, এই তথ্য না থাকলে কয়েক বছরে সীড ব্যাংক এলোমেলো বয়ামের স্তূপ হয়ে যায়।
লট নম্বর তৈরি
প্রতিটি আলাদা সংগ্রহ একটি “লট”। লট নম্বরের গঠন: ফসল / বঙ্গাব্দ / মৌসুম / ক্রমিক। একই মৌসুমে একই ফসলের দ্বিতীয় সংগ্রহ হলে ক্রমিক বাড়বে।
রেজিস্টারের ঘরগুলো
| ঘর | কী লিখবেন | কেন |
|---|---|---|
| লট নম্বর | ওপরের যন্ত্রে তৈরি নম্বর | বয়াম, খাম আর খাতার মধ্যে একক পরিচয় |
| ফসল ও জাত | স্থানীয় নাম আর জানা থাকলে প্রাতিষ্ঠানিক নাম | একই ফসলের ভিন্ন জাত আলাদা রাখা |
| জাতের ধরন | দেশি / মুক্ত-পরাগায়িত / ইনব্রেড / কন্দ | নিশ্চিত করা যে হাইব্রিড নয় |
| উৎস | নিজের মাঠ, অথবা কার কাছ থেকে পাওয়া | পরে আবার একই উৎসে খোঁজ |
| মাঠ ও গাছের সংখ্যা | কোন বেড বা খণ্ড, কয়টি গাছ থেকে | জিনগত বৈচিত্র্য ঠিক আছে কি না বোঝা |
| বিশুদ্ধতা | দূরত্ব, হাতে পরাগায়ন, বা ঝুঁকি থাকলে নোট | সংকরের সম্ভাবনা থাকলে সতর্ক থাকা |
| সংগ্রহ ও শুকানোর তারিখ | দুটোই | আয়ু হিসাব |
| পরিমাণ | গ্রাম বা কেজি, অথবা কন্দের সংখ্যা | কতটুকু জমিতে বোনা যাবে |
| অঙ্কুরোদগম | প্রতিটি পরীক্ষার তারিখ ও শতাংশ | মান কমছে কি না দেখা |
| পাত্র ও অবস্থান | কোন তাকের কোন বয়াম | দ্রুত খুঁজে পাওয়া |
| বিতরণ | কাকে কতটুকু দেওয়া হলো, ফেরত এসেছে কি না | বীজ ছড়ানো ও ফেরতের হিসাব |
| মন্তব্য | স্বাদ, রোগ সহনশীলতা, বিশেষ বৈশিষ্ট্য | পরের বছরের বাছাইয়ে সাহায্য |
নমুনা খাতা
| লট | জাত | উৎস ও গাছ | পরিমাণ | অঙ্কুরোদগম | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|---|
| লাউ/১৪৩৩/রবি/০১ | দেশি লম্বা লাউ | নিজের মাচা, ৬টি ফল (১৮ গাছ) | ২৪০ গ্রাম | ৮৫% (প্রথম পরীক্ষা) | হাতে পরাগায়ন; স্বাদ ভালো |
| কালিজিরা/১৪৩৩/খরিফ২/০১ | কালিজিরা ধান | উত্তর খণ্ড, ৩০ গোছা বাছাই | ৬ কেজি | ৯০% | ভিন্ন গাছ তুলে ফেলা হয়েছে |
| মসুর/১৪৩৩/রবি/০১ | বারির মুক্ত-পরাগায়িত জাত | বিএডিসি থেকে কেনা, প্রথম প্রজন্ম | ২ কেজি | ৮০% | পরের মৌসুমে নিজের বীজ রাখা হবে |
খাতা না কম্পিউটার?
দুটোই। বীজঘরে একটি শক্ত মলাটের খাতা থাকবে, যেখানে প্রতিটি কাজ হাতে লেখা হবে, কারণ সেখানে কম্পিউটার বা মোবাইল সবসময় থাকবে না। মাসে একবার দায়িত্বশীল এই খাতার তথ্য একটি সাধারণ স্প্রেডশিটে তুলবেন, যার কপি পরিবারগুলোর কাছে থাকবে। এতে খাতা হারালেও তথ্য হারায় না, আর মৌসুমি সভায় সহজে দেখানো যায়।
বয়ামের লেবেল
প্রতিটি বয়ামে বাইরে একটি লেবেল আর ভেতরে কাগজের একটি টুকরো, যাতে বাইরের লেবেল নষ্ট হলেও পরিচয় থাকে। লেবেলে থাকবে লট নম্বর, ফসল ও জাত, সংগ্রহের তারিখ, আর সর্বশেষ অঙ্কুরোদগমের হার। ওপরের যন্ত্র একটি নমুনা লেবেল দেখায়, যা প্রিন্ট করে কেটে লাগানো যায়।
মৌসুমি পর্যালোচনা
প্রতি মৌসুমি পরিকল্পনা সভার আগে সীড ব্যাংকের দায়িত্বশীল রেজিস্টার থেকে একটি ছোট প্রতিবেদন দেবেন: কোন বীজ যথেষ্ট আছে, কোনটির মজুদ কম, কোনটির অঙ্কুরোদগম কমছে, আর এই মৌসুমে কোন কোন ফসলের বীজের জন্য গাছ রাখতে হবে। সেই অনুযায়ী শস্য ক্যালেন্ডারে বীজের গাছ চিহ্নিত করা হবে।