কেন হাইব্রিড নয়
হাইব্রিড বীজ খারাপ নয়, বাণিজ্যিক চাষে এর বড় ভূমিকা আছে। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য স্বনির্ভরতা, আর হাইব্রিডের বীজ রেখে পরের বছর একই ফসল পাওয়া যায় না। তাই এই সিদ্ধান্ত।
তিন ধরনের জাত
| ধরন | কীভাবে তৈরি | বীজ রাখলে কী হয় | আমাদের খামারে |
|---|---|---|---|
| দেশি / মুক্ত-পরাগায়িত | প্রাকৃতিক পরাগায়নে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে থাকা জাত | মোটামুটি একই রকম গাছ, যদি অন্য জাতের সাথে পরাগায়ন না হয় | চলবে · প্রথম পছন্দ |
| ইনব্রেড | বারবার নিজের মধ্যে পরাগায়ন করিয়ে স্থির করা জাত; ব্রি-র বেশির ভাগ উচ্চফলনশীল ধান | একই রকম গাছ; ধান স্বপরাগী বলে বিশুদ্ধতাও সহজে থাকে | চলবে |
| হাইব্রিড (এফ১) | দুটি ভিন্ন মাতৃ ও পিতৃ লাইন ইচ্ছা করে সংকর করে প্রথম প্রজন্মের বীজ | পরের প্রজন্মে গাছগুলো এলোমেলো, ফলন ও গুণ অনিশ্চিত | চলবে না |
হাইব্রিডের বীজ কেন রাখা যায় না
ধরুন একটি টমেটোর মা-গাছ লম্বা ও রোগ সহনশীল, বাবা-গাছ বড় ফলের। দুটিকে সংকর করলে প্রথম প্রজন্মের (এফ১) সব গাছ একই রকম, আর প্রায়ই দুই বাবা-মায়ের চেয়ে বেশি সতেজ ও ফলনশীল। এটাই হাইব্রিডের আকর্ষণ। কিন্তু সেই এফ১ গাছের বীজ রেখে বুনলে পরের প্রজন্মে মা আর বাবার বৈশিষ্ট্যগুলো নতুন করে ভাগ হয়ে যায়।
এফ১ হাইব্রিড বীজ থেকে
সব গাছ একই রকম, ফলন বেশি। কৃষক খুশি।
সেই গাছের বীজ রাখলে
গাছ এলোমেলো: কেউ লম্বা, কেউ খাটো, কারও ফল ছোট, কারও রোগ। আবার বীজ কিনতে হয়।
কিছু হাইব্রিড আবার এমনভাবে তৈরি যে তাদের নিজেদের বীজই ঠিকমতো হয় না। ফলে প্রতি মৌসুমে বীজ কোম্পানির কাছে ফিরতে হয়। একটি বাণিজ্যিক খামারের জন্য এটা হয়তো গ্রহণযোগ্য খরচ, কিন্তু আমাদের স্বনির্ভরতার লক্ষ্যের সাথে এটা মেলে না।
কী হারাচ্ছি, কী পাচ্ছি
সৎভাবে মানতে হবে: অনেক ফসলে দেশি বা মুক্ত-পরাগায়িত জাতের ফলন হাইব্রিডের চেয়ে কম। ফলগুলোর আকারও সবসময় একরকম হয় না। কিন্তু অবাণিজ্যিক খামারে এগুলো বড় সমস্যা নয়।
যা হারাচ্ছি
- সর্বোচ্চ ফলন
- একই মাপের, বাজারে বিক্রির উপযোগী ফল
- কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রোগ প্রতিরোধ
যা পাচ্ছি
- প্রতি বছর বীজ কেনার খরচ ও নির্ভরতা নেই
- আমাদের মাঠে মানিয়ে নেওয়া জাত
- দেশি স্বাদ ও ঘ্রাণ, যেমন কালিজিরা ধান বা দেশি লাউ
- বীজ ভাগ করে প্রতিবেশীর সাথে সম্পর্ক
- হারিয়ে যেতে বসা জাত রক্ষায় ছোট অবদান
প্যাকেট দেখে চেনা
- প্যাকেটে “হাইব্রিড”, “এফ১”, “F1” বা “Hybrid” লেখা থাকলে কিনবেন না।
- সরকারি প্রতিষ্ঠানের জাতের নামের সাথে “হাইব্রিড” থাকলে, যেমন কিছু ধানের হাইব্রিড জাত, সেটাও বাদ।
- বিক্রেতা নিশ্চিত না হলে জাতের নাম লিখে এনে উপজেলা কৃষি অফিস বা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের জাত তালিকায় যাচাই।
- দামের অস্বাভাবিক পার্থক্যও একটি লক্ষণ: হাইব্রিড বীজ সাধারণত অনেক দামি।
ব্রি ও বারির জাত
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বেশির ভাগ উচ্চফলনশীল ধান ইনব্রেড, তাই আমাদের খামারে চলবে; তবে ব্রি-র যেসব জাতের নামে “হাইব্রিড” আছে, সেগুলো চলবে না। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) অনেক সবজি, ডাল ও তেলবীজের জাত মুক্ত-পরাগায়িত; প্রতিটি বীজের পাতায় আমরা উল্লেখ করেছি কোন ধরনের জাত বেছে নেওয়া হবে। জাতের সর্বশেষ তালিকা আর ধরন কেনার আগে প্রতিষ্ঠানের তথ্যের সাথে মিলিয়ে নিতে হবে।
জিনগত পরিবর্তিত জাত
জিনগত প্রকৌশলে তৈরি জাত হাইব্রিড নাও হতে পারে; কিছু ক্ষেত্রে তার বীজ রাখাও যায়। যেমন দেশে অনুমোদিত কিছু বিটি বেগুনের জাত। তবুও আমাদের জৈব খামারের নীতিতে জিনগত পরিবর্তিত কোনো জাত ব্যবহার হবে না। জৈব চাষের প্রচলিত মানদণ্ডেও এগুলো গ্রহণযোগ্য নয়, আর আমরা চাই খামারের প্রতিটি জাত প্রাকৃতিক প্রজননের।
ব্যতিক্রম কি আছে?
না। এটি খামারের মৌলিক নীতি, যা বদলাতে পাঁচ পরিবারের সর্বসম্মতি লাগবে (পরিচালনা, স্তর ৪)। কোনো ফসলের দেশি বা মুক্ত-পরাগায়িত বীজ না পাওয়া গেলে সেই ফসল আপাতত বাদ থাকবে, আর বীজের খোঁজ চলতে থাকবে।