ওয়াকফ ও মসজিদ

ছোট মসজিদের নকশা ও সৌর সংযোগ

মসজিদটি হবে ছোট, সাদামাটা, ঠান্ডা আর আলো-বাতাসে ভরা। বাংলার ঐতিহ্যবাহী মসজিদের মতো পুরু দেয়াল আর গম্বুজ, কিন্তু খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণ সহজ। বিদ্যুৎ আসবে ছাদের নিজস্ব সোলার থেকে।

মূল নকশা

≈ ৯ × ৯ মিনামাজের মূল ঘর, প্রায় ৮০–১০০ জনের জায়গা
≈ ১২ × ১২ মিউঁচু ভিটা, চারপাশে খোলা চত্বর
১টি গম্বুজমাঝখানে, নিচে বাতাস চলাচলের জানালা
১টি মিনারএক কোণে, ছোট ও সরল

ধারণক্ষমতার হিসাব: প্রতি মুসল্লির জন্য সারিতে প্রায় ষাট সেন্টিমিটার চওড়া আর সারির গভীরতা এক মিটারের কিছু বেশি ধরলে নয় মিটার চওড়া ঘরে এক সারিতে চৌদ্দ-পনেরো জন, আর ইমামের জায়গা বাদে ছয়-সাতটি সারি। জুমায় বাড়তি মুসল্লির জন্য সামনের পাকা চত্বর আর বারান্দা ব্যবহার করা যাবে। থ্রিডি ভিউতে এই নকশার সরল রূপ দেখানো আছে।

কিবলা ও বিন্যাস

বাংলাদেশ থেকে কিবলা মোটামুটি পশ্চিমে, সামান্য উত্তর ঘেঁষে। ভিত দেওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য কম্পাস বা কিবলা নির্ণয়ের পদ্ধতি দিয়ে, একজন আলেমের উপস্থিতিতে দিক নির্ধারণ করা হবে, আর মেহরাব থাকবে পশ্চিম দেয়ালে। মূল প্রবেশপথ পূর্ব বা দক্ষিণ দিকে, রাস্তার দিক থেকে আসা পথের সাথে মিলিয়ে।

ঠান্ডা ও আলো-বাতাস

  • উঁচু ভিটা: সাধারণ বন্যার ওপরে; মেঝে শুকনো থাকে।
  • পুরু দেয়াল ও উঁচু ছাদ: দিনের গরম ভেতরে কম ঢোকে।
  • মুখোমুখি জানালা: উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে বড় জানালা, যাতে আড়াআড়ি বাতাস চলে; গম্বুজের নিচে ছোট ভেন্ট দিয়ে গরম বাতাস বেরিয়ে যায়।
  • বারান্দা ও কার্নিশ: সামনের বারান্দা আর চওড়া কার্নিশ রোদ-বৃষ্টি থেকে দেয়াল আর জানালা রক্ষা করে।
  • হালকা রং: সাদা চুনকাম তাপ প্রতিফলিত করে, ভেতর আলোকিত রাখে।
  • চারপাশে গাছ: পূর্ব-পশ্চিমে ছায়াদার গাছ, তবে ছাদের সোলারের দক্ষিণে নয়।

অন্যান্য জায়গা

  • অজুখানা: মূল ঘরের পাশে আলাদা ছাউনি, বসে অজু করার পাকা আসন, পানির কল আর ভালো নিষ্কাশন। পানি আসবে প্লটের নিজস্ব নলকূপ ও ছোট ট্যাংক থেকে; অজুর পানি নালা দিয়ে গাছের গোড়ায় বা শোষণ গর্তে, রাস্তায় নয়।
  • নারী মুসল্লিদের জায়গা: আলাদা প্রবেশপথসহ পর্দাঘেরা নির্দিষ্ট অংশ, আর তাঁদের জন্য আলাদা অজুর ব্যবস্থা।
  • প্রবেশগম্যতা: ভিটায় ওঠার জন্য সিঁড়ির পাশে ঢালু পথ, বয়স্কদের জন্য কয়েকটি চেয়ার, আর পিছলে না যাওয়ার মেঝে।
  • জুতা রাখার তাক ও ছোট বইয়ের তাক: কুরআন শরিফ ও মক্তবের বইয়ের জন্য।
  • শৌচাগার: মূল ঘর থেকে দূরে, প্লটের এক কোণে, স্বাস্থ্যসম্মত সেপটিক ট্যাংকসহ।

নিজস্ব সৌর ব্যবস্থা

মসজিদের বিদ্যুৎ খামারের ব্যাটারি থেকে নেওয়া হবে না, যাতে ওয়াকফ আর খামারের সম্পদ আলাদা থাকে, আর খামারের মেঘলা দিনের সংকট মসজিদে না পৌঁছায়। ছাদে দক্ষিণমুখী দুটি প্যানেল দিয়ে শুরু, প্রয়োজনে চারটি পর্যন্ত বাড়ানোর জায়গা রেখে; সাথে একটি ছোট লিথিয়াম ব্যাটারি আর ইনভার্টার। নিচের যন্ত্রে নিজেদের সংখ্যা বসিয়ে দেখুন।

০দৈনিক ব্যবহার (ইউনিট)
০রোদেলা দিনে উৎপাদন
০মেঘলা দিনে উৎপাদন
০প্রস্তাবিত ব্যাটারি

হিসাবের ভিত্তি খামারের সৌর বিদ্যুৎ পাতার মতোই: প্যানেলের কিলোওয়াট × পূর্ণ রোদের ঘণ্টা (রোদেলা দিনে ৫, মেঘলা দিনে ১.৫) × ০.৭৫। ব্যাটারি ধরা হয়েছে দৈনিক ব্যবহারের প্রায় দেড় গুণ, যাতে সন্ধ্যা আর এশা থেকে ফজর পর্যন্ত নিশ্চিন্তে চলে।

উপকরণ ও খরচ

স্থানীয় ইট, চুন-সুরকি বা সিমেন্টের প্লাস্টার, আর এলাকার অভিজ্ঞ রাজমিস্ত্রি। অলংকরণ সীমিত: মেহরাবের চারপাশে সাধারণ নকশা, জানালায় জালি। মার্বেল, ঝাড়বাতি বা ব্যয়বহুল টাইলস নয়; মসজিদের সৌন্দর্য পরিচ্ছন্নতা আর মুসল্লির উপস্থিতিতে। কাঠামোর নকশা ও ভিতের মাপ একজন প্রকৌশলী ঠিক করবেন।