সৌর বিদ্যুৎ ওভারভিউ
একটি অফ-গ্রিড সোলার ব্যবস্থা পাঁচটি অংশের সমন্বয়: প্যানেল রোদ ধরে, কন্ট্রোলার নিয়ন্ত্রণ করে, ব্যাটারি জমা রাখে, ইনভার্টার ঘরের বিদ্যুৎ বানায়, আর তার ও সুরক্ষা যন্ত্র পুরোটাকে নিরাপদ রাখে।
ব্যবস্থার পাঁচ অংশ
সোলার প্যানেল
মনোক্রিস্টালাইন প্যানেল, প্রতিটি প্রায় ৪৫০ ওয়াট-পিক। কয়েকটি করে সিরিজে জুড়ে “স্ট্রিং” বানানো হয়, যাতে ভোল্টেজ কন্ট্রোলারের উপযোগী হয়।
এমপিপিটি চার্জ কন্ট্রোলার
প্যানেল থেকে সর্বোচ্চ শক্তি টেনে ব্যাটারিকে সঠিক মাত্রায় চার্জ করে। পুরোনো ধরনের পিডব্লিউএম কন্ট্রোলারের চেয়ে বেশি দক্ষ।
ব্যাটারি
দিনের বাড়তি বিদ্যুৎ রাতে ব্যবহারের জন্য জমা রাখে। আমাদের প্রস্তাব ৪৮ ভোল্টের লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ব্যাটারি; বিস্তারিত ব্যাটারি পাতায়।
ইনভার্টার
ব্যাটারির ডিসি বিদ্যুৎকে ২২০ ভোল্টের এসি বানায়, যাতে সাধারণ বাতি-পাখা চলে। অনেক অফ-গ্রিড ইনভার্টারে এমপিপিটি কন্ট্রোলার ভেতরেই থাকে।
তার, ফিউজ ও আর্থিং
সঠিক মাপের তার, প্যানেল ও ব্যাটারির দিকে ডিসি ব্রেকার ও ফিউজ, এসি দিকে এমসিবি, বজ্রপাত থেকে সুরক্ষার সার্জ প্রটেক্টর আর ভালো আর্থিং। এই অংশে কার্পণ্য করলে আগুন বা যন্ত্র নষ্টের ঝুঁকি থাকে। বাংলাদেশে বজ্রপাত বেশি হয়, তাই আর্থিং ও সার্জ সুরক্ষা অবশ্যই থাকবে।
কত বিদ্যুৎ পাওয়া যায়
প্যানেলের গায়ে লেখা ওয়াট হলো আদর্শ অবস্থার সর্বোচ্চ ক্ষমতা। বাস্তবে দিনের উৎপাদন নির্ভর করে কত ঘণ্টা পূর্ণ রোদের সমান আলো পড়ে (পিক সান আওয়ার), আর তাপ, ধুলা, তারের ক্ষতি ও ব্যাটারির ক্ষতির ওপর। একটি সহজ হিসাব:
দৈনিক ইউনিট ≈ প্যানেলের কিলোওয়াট × পূর্ণ রোদের ঘণ্টা × ০.৭৫
০.৭৫ হলো তাপ, ধুলা, তার, ইনভার্টার ও ব্যাটারির মিলিত ক্ষতির আনুমানিক হিসাব।
| সময় | পূর্ণ রোদের ঘণ্টা (আনুমানিক) | ৫.৪ কি.ও. থেকে দৈনিক | ১০.৮ কি.ও. থেকে দৈনিক |
|---|---|---|---|
| ফাল্গুন–জ্যৈষ্ঠ (শুকনো, রোদেলা) | ৪.৫–৫.৫ | ১৮–২২ ইউনিট | ৩৬–৪৫ ইউনিট |
| কার্তিক–মাঘ (শীত, কুয়াশা) | ৩.৫–৪.৫ | ১৪–১৮ ইউনিট | ২৮–৩৬ ইউনিট |
| আষাঢ়–আশ্বিন (বর্ষা, সাধারণ দিন) | ৩–৪ | ১২–১৬ ইউনিট | ২৪–৩২ ইউনিট |
| টানা মেঘলা বা বৃষ্টির দিন | ১–২ | ৪–৮ ইউনিট | ৮–১৬ ইউনিট |
এগুলো বাংলাদেশের সাধারণ রোদের পরিসর ধরে করা আনুমানিক হিসাব, নিশ্চিত সংখ্যা নয়। স্থানীয় রোদের তথ্য আর প্রথম বছরের নিজস্ব পরিমাপ দিয়ে পরে সংশোধন হবে।
প্যানেল কোথায়, কোন দিকে
- দক্ষিণমুখী: বাংলাদেশ বিষুবরেখার উত্তরে, তাই সারা বছর সূর্য দক্ষিণ আকাশে বেশি থাকে।
- প্রায় ২৩ ডিগ্রি হেলানো: আমাদের অক্ষাংশের কাছাকাছি কোণে সারা বছরের মোট উৎপাদন ভালো হয়, আর বৃষ্টিতে ধুলাও কিছুটা ধুয়ে যায়।
- ছায়ামুক্ত: সকাল নয়টা থেকে বিকেল তিনটার মধ্যে প্যানেলে কোনো ছায়া পড়বে না। একটি প্যানেলে আংশিক ছায়াও পুরো স্ট্রিংয়ের উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে। তাই নকশায় সোলারের দক্ষিণে কোনো উঁচু গাছ বা ঘর রাখা হয়নি।
- মাটিতে খুঁটির ওপর: ছাদের বদলে মাটিতে স্ট্যান্ডে বসালে পরিষ্কার করা, পরীক্ষা করা আর পরে বাড়ানো সহজ। নিচ থেকে বাতাস চলে, তাই প্যানেল কম গরম হয়।
- ব্যাটারি ঘরের কাছে: প্যানেল থেকে ব্যাটারি পর্যন্ত মোটা ডিসি তারের দৈর্ঘ্য যত কম, ক্ষতি তত কম।
- বন্যার ওপরে: স্ট্যান্ডের পা আর ব্যাটারি ঘরের মেঝে সাধারণ বন্যার উচ্চতার ওপরে।
ব্যবহারের তিনটি নিয়ম
- ভারী কাজ দুপুরে: পানির পাম্প, কাপড় ধোয়া, ইস্ত্রি, ঘাস কাটার যন্ত্র সকাল দশটা থেকে বিকেল তিনটার মধ্যে, যখন প্যানেল সরাসরি শক্তি দেয় আর ব্যাটারির ওপর চাপ পড়ে না।
- দক্ষ যন্ত্র: এলইডি বাতি, বিএলডিসি পাখা আর ইনভার্টার ফ্রিজ; পুরোনো ধরনের বাল্ব বা পাখা খামারে আনা হবে না।
- ব্যাটারিতে মজুদ: সন্ধ্যার পর ব্যাটারির চার্জ নির্দিষ্ট সীমার নিচে নামলে অপ্রয়োজনীয় লোড বন্ধ। বিস্তারিত বর্ষার পরিকল্পনা পাতায়।
সোলার ব্যবস্থার ডিসি দিকেও বিপজ্জনক ভোল্টেজ থাকে, আর ব্যাটারি শর্টসার্কিট হলে আগুন লাগতে পারে। স্থাপন ও মেরামত শুধু প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান করবেন; পরিবারের সদস্যরা শুধু পরিষ্কার আর মিটার দেখবেন।