লেআউট মাস্টারপ্ল্যান
দশ বিঘা জমিকে ছয়টি অঞ্চলে ভাগ করে সাজানো হয়েছে, যাতে প্রতিদিনের হাঁটাপথ ছোট হয়, এক অংশের বর্জ্য আরেক অংশের কাজে লাগে, আর সোলার প্যানেলে কখনো ছায়া না পড়ে।
সমতল নকশা
নিচের নকশায় উত্তর দিক ওপরে, প্রধান ফটক দক্ষিণে রাস্তার দিকে। যেকোনো অংশে চাপ দিলে সেই বিষয়ের বিস্তারিত পাতায় যাবেন। বিন্দুরেখার অংশগুলো ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষিত।
জমি ধরা হয়েছে ১৩৪ × ১০০ মিটারের আয়তক্ষেত্র। আসল জমির আকার, ঢাল আর রাস্তার দিক অনুযায়ী এই নকশা নতুন করে সাজাতে হবে, তবে অঞ্চলগুলোর পারস্পরিক অবস্থান মোটামুটি একই রাখার চেষ্টা থাকবে।
নকশার মূলনীতি
- যা রোজ লাগে, তা বাড়ির কাছে। সবজির বেড, মুরগির ঘর, রান্নাঘর আর পানির ট্যাংক বসতঘরের কয়েক মিনিটের হাঁটাপথে।
- বর্জ্যের পথ ছোট। গোয়াল, বায়োগ্যাস, কম্পোস্ট আর ঘাসের প্লট পাশাপাশি, যাতে গোবর আর স্লারি বহন করতে হয় কম।
- রোদ সোলারের, ছায়া মানুষের। সোলার প্যানেল উত্তর-পূর্ব কোণে, যার দক্ষিণে কোনো উঁচু গাছ বা ঘর নেই। বসার জায়গা আর ঘাটে গাছের ছায়া।
- পানি নিচু দিকে। বর্ষার পানি ঢাল বেয়ে পুকুরে যাবে; পুকুর দুটিই পানির প্রধান মজুদ।
- বাইরের মানুষ বাইরে। মসজিদ দেয়ালের বাইরে ওয়াকফ প্লটে, রাস্তা থেকে সরাসরি প্রবেশ।
- ভবিষ্যতের জায়গা এখনই রাখা। ১০ কিলোওয়াটের প্যানেল আর হরিণের ঘেরের জায়গা খালি রাখা হয়েছে।
ছয়টি অঞ্চল
পানি ও পাড়
খামারের মাঝখানে বড় পুকুর, তার দক্ষিণ পাড়ে বসতঘরের দিকে মুখ করা বাঁধানো ঘাট, বেঞ্চ আর একটি ছাউনি। উত্তর আর পূর্ব পাড়ে বাঁশের মাচায় লাউ, শিম, ঝিঙা, চিচিঙ্গা। পশ্চিম পাড়ে রাজহাঁসের ঘেরা জায়গা। বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিমে ছোট পুকুর, যার পাড়ে হাঁসের ঘর। বিস্তারিত পুকুর নকশা পাতায়।
ফসল ও বীজ
পশ্চিম দিকের বড় অংশ ধানক্ষেত, আইল দিয়ে চার খণ্ডে ভাগ, যাতে একেক খণ্ডে একেক মৌসুমের ধান বা ডাল চলতে পারে। তার দক্ষিণে উঁচু বেডে মৌসুমি সবজি। সীড ব্যাংক বসতঘরের কাছে উঁচু ভিটার ওপর, যাতে বন্যা আর আর্দ্রতা থেকে নিরাপদ থাকে। বিস্তারিত ফসল ও মাটি বিভাগে।
শক্তি ও পানি
উত্তর-পূর্ব কোণে বারোটি সোলার প্যানেল, পাশে ব্যাটারি ঘর, আর তার পূর্বে দ্বিতীয় পর্যায়ের প্যানেলের জন্য খালি জায়গা। বসতঘরের পূর্বে নলকূপ, সোলার পাম্প আর উঁচু পানির ট্যাংক, যেখান থেকে মাধ্যাকর্ষণে পানি সব দিকে যায়। বিস্তারিত শক্তি ও বায়োগ্যাস বিভাগে।
প্রাণী
পূর্ব দিকে এক সারিতে গোয়ালঘর, তার পাশে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট, কম্পোস্ট ও কেঁচো সারের ছাউনি, নেপিয়ার ঘাসের প্লট আর মাচার ওপর ছাগলের ঘর। এর দক্ষিণে দেশি মুরগির ঘর ও জাল ঘেরা চরার মাঠ, ময়ূরের খাঁচা আর ভবিষ্যৎ হরিণের ঘের। বিস্তারিত প্রাণিসম্পদ বিভাগে।
বসত
বসতঘর খামারের কেন্দ্রে, যাতে সব দিকে নজর রাখা যায়। সামনে বারান্দা, পূর্বে রান্নাঘর, যেখানে বায়োগ্যাসের পাইপ এসে পৌঁছায়। পাশে একটি ছোট অতিথিশালা। ফটক থেকে ইটবিছানো পথ সোজা বসতঘর পর্যন্ত, আর বাড়ির পেছন দিয়ে ঘাটে যাওয়ার পথ।
ওয়াকফ প্লট
পূর্ব দেয়ালের বাইরে, রাস্তার ধারে আলাদা ওয়াকফকৃত জমিতে ছোট মসজিদ, অজুখানা আর নিজস্ব সোলার প্যানেল। চারপাশে নিচু বেড়া, প্রবেশপথ রাস্তার দিকে। বিস্তারিত ওয়াকফ ও মসজিদ বিভাগে।
আনুমানিক আয়তন
মডেলের মাপ থেকে হিসাব করা; ১ শতাংশ ≈ ৪০.৫ বর্গমিটার।
চলাচল ও পথ
মূল পথ একটিই: ফটক থেকে বসতঘর পর্যন্ত ইটবিছানো রাস্তা, যা দিয়ে ভ্যান বা পিকআপ ঢুকতে পারে। বাকি সব পথ সরু, পায়ে হাঁটার। গোয়াল আর কম্পোস্টের দিকে একটি আলাদা সার্ভিস পথ থাকবে, যাতে গোবর বা খড় বসতঘরের সামনে দিয়ে নিতে না হয়। বর্ষায় কাদা এড়াতে প্রধান পথগুলো আশপাশের জমির চেয়ে কিছুটা উঁচু হবে।
পানির পথ ও নিষ্কাশন
খামারের ঢাল যতটা সম্ভব পুকুরের দিকে রাখা হবে। ঘরের চালের পানি নালা দিয়ে পুকুরে যাবে। তবে গোয়াল আর কম্পোস্টের পানি সরাসরি পুকুরে যাবে না; সেটা আগে স্লারি পিট আর কম্পোস্টে শোষিত হবে, নইলে পুকুরের পানি নষ্ট হতে পারে। ধানক্ষেতের পানি আইল দিয়ে নিয়ন্ত্রণ হবে, আর অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি দেয়ালের নিচের জালিদার নালামুখ দিয়ে বের হবে।
নির্মাণের ক্রম
নকশার সবকিছু একসাথে হবে না। প্রথমে মাটির কাজ (পুকুর খনন, ভিটা উঁচু করা, আইল) শুকনো মৌসুমে; তারপর দেয়াল, নলকূপ ও সোলার; এরপর ঘরবাড়ি আর পশুর ঘর। গাছ লাগানো হবে বর্ষার শুরুতে। পুরো ক্রম রোডম্যাপ পাতায়।