প্রাণিসম্পদ
খামারের প্রাণীরা শুধু দুধ, ডিম আর মাংসের উৎস নয়; তারা গোবরে বায়োগ্যাস দেয়, সার দেয়, আগাছা খায়, পোকা খায়, পাহারা দেয়। আমরা তাদের দেখি আমানত হিসেবে, যাদের প্রতি দয়া আর যত্ন আমাদের দায়িত্ব।
কোন প্রাণী, কতটি, কোথায়
| প্রাণী | শুরুর সংখ্যা | ঘর ও অবস্থান (মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী) | প্রধান অবদান | কখন |
|---|---|---|---|---|
| দেশি গরু ও রেড চিটাগং | প্রায় ৫টি (গাভী ও বাছুরসহ) | পূর্ব দিকে ১৪ × ১০ মিটারের খোলা গোয়ালঘর; পাশেই বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট | দুধ, গোবর, বায়োগ্যাস, প্রয়োজনে হাল | পর্যায় ২ |
| ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল | প্রায় ৬টি (৫টি ছাগী, ১টি পাঁঠা অথবা প্রজননে প্রতিবেশীর পাঁঠা) | ঘাসের প্লটের দক্ষিণে প্রায় ১ মিটার উঁচু মাচার ঘর, ১০ × ৬ মিটার | মাংস, কুরবানি, সার | পর্যায় ২ |
| দেশি মুরগি | ১৫–২৫টি | ৬ × ৪ মিটারের রাতের ঘর ও জাল ঘেরা চরার মাঠ | ডিম, মাংস, পোকা দমন | পর্যায় ১ |
| হাঁস | প্রায় ১০টি | ছোট পুকুরের দক্ষিণ পাড়ে ৬ × ৩ মিটারের ঘর | ডিম, শামুক ও পোকা দমন, পুকুরে প্রাকৃতিক খাবার | পর্যায় ১ |
| রাজহাঁস | ৪–৬টি | বড় পুকুরের পশ্চিম পাড়ে ঘাসে ঢাকা ঘেরা জায়গা ও ছোট ঘর | ঘাস নিয়ন্ত্রণ, পাহারা, ডিম ও মাংস | পর্যায় ২ |
| ময়ূর (শখ) | ২টি (অনুমতি সাপেক্ষে) | ১০ × ৮ মিটারের উঁচু জাল ঘেরা খাঁচা | সৌন্দর্য ও শিক্ষা | পর্যায় ৩, বন বিভাগের অনুমতির পর |
| হরিণ (ভবিষ্যৎ) | অনুমতি পেলে অল্প কয়েকটি | ১৮ × ২৮ মিটারের সংরক্ষিত জায়গা, নকশায় বিন্দুরেখায় | শখ ও শিক্ষা | পর্যায় ৪, শুধু অনুমতি পেলে |
সংখ্যাগুলো শুরুর পরিকল্পনা। ঘাসের জোগান, পরিবারগুলোর সময় আর প্রথম বছরের অভিজ্ঞতা দেখে মৌসুমি সভায় বাড়ানো বা কমানো হবে। কোন প্রাণী কোথায় আছে, তা থ্রিডি ভিউ ও মাস্টারপ্ল্যানে দেখা যাবে।
প্রাণিপালনের নীতি
- দেশি জাত: আমাদের আবহাওয়া, রোগ আর খাবারের সাথে মানিয়ে নেওয়া জাত; কম খরচে টেকে, স্বাদও ভালো। বিদেশি বা সংকর জাত নয়।
- নিজেদের খাবার: ঘাস, খড়, ভুসি, কুঁড়া, রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট আর চরে খাওয়া; বাজারের তৈরি দানাদার খাবার যত কম সম্ভব।
- হরমোন ও বৃদ্ধিবর্ধক নয়: মোটাতাজাকরণের ওষুধ, স্টেরয়েড বা নিয়মিত অ্যান্টিবায়োটিক কখনো নয়।
- সংখ্যা জোগানের মধ্যে: প্রাণীর সংখ্যা ঠিক হবে খামারের ঘাস আর খড়ের জোগান দেখে, শখ বা লোভ দেখে নয়।
- প্রতিরোধই প্রধান চিকিৎসা: সময়মতো টিকা, কৃমিনাশক, পরিষ্কার ঘর আর পরিষ্কার পানি।
- দয়া: জায়গা, ছায়া, পানি, বিশ্রাম আর কষ্টহীন আচরণ; বিস্তারিত পশু কল্যাণ পাতায়।
খামারের চক্রে প্রাণী
গরুর গোবর যায় বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে, সেখান থেকে রান্নার গ্যাস আর স্লারি সার। ছাগল আর মুরগির বিষ্ঠা যায় কম্পোস্ট ও কেঁচো সারে। হাঁস পুকুরে চরে শামুক-পোকা খায়, তাদের বিষ্ঠা মাছের প্রাকৃতিক খাবার বাড়ায়। রাজহাঁস পুকুরপাড়ের ঘাস ছোট রাখে। মুরগি সবজি ক্ষেতের ফসল তোলার পর পোকা আর আগাছার বীজ খায়। বিনিময়ে প্রাণীরা খায় খামারের ঘাস, খড়, ধানের কুঁড়া আর রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট। এই আদান-প্রদানই খামারকে স্বনির্ভর করে।
কোনটি আগে
প্রথম বছরে দেশি মুরগি আর হাঁস, কারণ এদের ঘর সহজ, খরচ কম, আর শেখার জন্য ভালো। দ্বিতীয় বছরে গোয়ালঘর, গরু, বায়োগ্যাস, ছাগল আর রাজহাঁস, যখন ঘাসের প্লট তৈরি হয়ে গেছে। ময়ূর আর হরিণ আসবে কেবল বন বিভাগের লিখিত অনুমতি পাওয়ার পর, আর হরিণ শুধু চতুর্থ পর্যায়ে। পুরো ক্রম রোডম্যাপে।
দেখাশোনা
একটি পরিবারের সদস্য প্রাণিসম্পদ বিভাগের দায়িত্বশীল, সাথে খামারে থাকা তত্ত্বাবধায়ক প্রতিদিনের খাওয়ানো, পরিষ্কার আর দোহন করবেন। প্রতিটি প্রাণীর জন্য একটি খাতায় জন্মতারিখ, টিকা, কৃমিনাশক, অসুখ আর চিকিৎসা লেখা থাকবে। সারা বছরের টিকা ও কৃমিনাশকের সূচি রোগ প্রতিরোধ ক্যালেন্ডারে, আর জরুরি অবস্থার প্রস্তুতি প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স পাতায়।
ময়ূর ও হরিণ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী সংরক্ষিত প্রাণী। এদের সংগ্রহ বা পালনের আগে বন বিভাগের লাইসেন্স বা অনুমতি লাগবে, আর শর্ত মানতে হবে। অনুমতি না পেলে এই দুটি প্রাণী খামারে আসবে না।