প্রাণিসম্পদ

হরিণ (ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা)

হরিণ খামারের সবচেয়ে দূরের আর সবচেয়ে অনিশ্চিত পরিকল্পনা। তাই মাস্টারপ্ল্যান আর থ্রিডি ভিউতে এর জায়গা বিন্দুরেখায় আঁকা: জায়গা রাখা আছে, কিন্তু অনুমতি না পেলে কিছুই হবে না।

১৮ × ২৮ মিসংরক্ষিত জায়গা, প্রায় ৫০০ ব.মি.
পর্যায় ৪সবশেষে, অনুমতি সাপেক্ষে
অল্প কয়েকটিঅনুমতির শর্ত অনুযায়ী
বিকল্পঅনুমতি না পেলে ফলবাগান বা ঘাস

পরিকল্পনার অবস্থা

শখের বসে হরিণ পালনের ইচ্ছা পরিবারের অনেকের। কিন্তু হরিণ সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী, তাদের লাগে বড় জায়গা, শান্ত পরিবেশ আর বিশেষ যত্ন। তাই এই পরিকল্পনা রোডম্যাপের চতুর্থ ও শেষ পর্যায়ে, যখন খামারের সব মূল কাজ স্থির, আর কেবল বন বিভাগের লিখিত অনুমতি পাওয়ার পর। অনুমতি না মিললে এই পরিকল্পনা কোনো দুঃখ ছাড়াই বাদ যাবে।

অনুমতির জন্য যা জানতে হবে

  • ব্যক্তিগত বা পারিবারিক খামারে হরিণ রাখার অনুমতি দেওয়া হয় কি না, আর কোন শর্তে।
  • ঘেরের ন্যূনতম মাপ, বেড়ার উচ্চতা ও ধরন, আশ্রয় আর পানির ব্যবস্থার শর্ত।
  • হরিণের বৈধ উৎস: অনুমোদিত প্রজনন কেন্দ্র বা লাইসেন্সধারী খামার।
  • নিবন্ধন, বার্ষিক নবায়ন, প্রজনন বা মৃত্যুর তথ্য জানানোর নিয়ম।
  • পশু চিকিৎসার জন্য বন্যপ্রাণী বিষয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের প্রাপ্যতা।

সংরক্ষিত জায়গা

মাস্টারপ্ল্যানে খামারের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে প্রায় ১৮ × ২৮ মিটার জায়গা রাখা আছে। অনুমতি পেলে সেখানে যা থাকবে:

  • উঁচু, শক্ত বেড়া, কারণ হরিণ অনেক উঁচুতে লাফাতে পারে; প্রকৃত উচ্চতা অনুমতির শর্ত অনুযায়ী।
  • বেড়ার ভেতরে দৃষ্টি আড়াল করা ঝোপ বা চটের পর্দা, যাতে হরিণ ভয় পেয়ে বেড়ায় ধাক্কা না খায়।
  • ছায়াদার গাছ আর একটি খোলা ছাউনি।
  • পরিষ্কার পানির পাত্র আর শুকনো, উঁচু বিশ্রামের জায়গা।
  • ঘাসের পালা ব্যবস্থার জন্য ভেতরে দুটি ভাগ।

জায়গাটি কয়েকটির বেশি হরিণের জন্য নয়; বেশি হরিণে ঘাস দ্রুত শেষ হয়, মাটি শক্ত হয়, আর চাপজনিত রোগ বাড়ে। প্রকৃত সংখ্যা অনুমতি ও জায়গা দেখে ঠিক হবে।

খাদ্য ও যত্ন

চিত্রা হরিণ মূলত ঘাস ও গাছের পাতা খায়; সাথে কিছু ফল, সবজি আর দানাদার। খামারের নেপিয়ার ও পারা ঘাস, কাঁঠাল পাতা আর মৌসুমি ফল দিয়ে চলবে, তবে খাদ্য পরিকল্পনা অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে ঠিক হবে। হরিণ ভীতু প্রাণী: হঠাৎ শব্দ, কুকুর বা ভিড়ে আতঙ্কিত হয়ে আঘাত পেতে পারে। তাই ঘেরের কাছে কুকুর থাকবে না, দর্শনার্থী সীমিত, আর শিশুরা দূর থেকে দেখবে।

ঝুঁকি

  • বেড়া থেকে পালিয়ে গেলে নিজের ও প্রতিবেশীর ফসলের ক্ষতি, আর আইনি জটিলতা।
  • পুরুষ হরিণ প্রজনন মৌসুমে শিং নিয়ে আক্রমণাত্মক হতে পারে।
  • বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সহজে পাওয়া যায় না।
  • ঘাসের জোগান গরু-ছাগলের সাথে ভাগ হবে; ঘাসের হিসাব এমনিতেই টানটান।

অনুমতি না পেলে

জায়গাটি হবে আম, পেয়ারা, লেবু ও কাঁঠালের ফলবাগান, যার নিচে নেপিয়ার বা পারা ঘাস। এতে ঘাসের ঘাটতিও কিছুটা মিটবে। এই বিকল্প ফলের গাছ আর ঘাস ও গো-খাদ্য পরিকল্পনার সাথে মিলিয়ে নেওয়া হবে।