হাঁস
হাঁস আর পুকুর একে অপরের পরিপূরক। হাঁস পানিতে চরে শামুক, পোকা আর আগাছা খায়, তার বিষ্ঠা মাছের প্রাকৃতিক খাবার বাড়ায়, আর বিনিময়ে প্রায় সারা বছর ডিম দেয়।
জাত
দেশি হাঁস (সাদা, খাকি বা মিশ্র রঙের) আমাদের জন্য উপযুক্ত: চরে খায়, রোগ সহ্য করে, বছরে ভালো সংখ্যক ডিম দেয়। হাওর অঞ্চলের দেশি হাঁসের জাত বা ডিমের জন্য পরিচিত দেশি ধরনের হাঁস স্থানীয় খামারি থেকে সংগ্রহ করা হবে। প্রথম দলে মাদি হাঁস বেশি, অল্প একটি-দুটি পুরুষ।
ঘর
- অবস্থান: ছোট পুকুরের দক্ষিণ পাড়ে প্রায় ৬ × ৩ মিটারের নিচু ঘর, পুকুরে নামার ঢালু পথসহ।
- জায়গা: প্রতিটি হাঁসের জন্য রাতে প্রায় ০.৩ বর্গমিটার; দশটি হাঁসের জন্য যথেষ্ট, বাড়লেও জায়গা থাকবে।
- মেঝে: উঁচু ভিটা, শুকনো খড় বা তুষের লিটার; হাঁসের ঘর দ্রুত ভেজে, তাই লিটার ঘন ঘন বদলানো।
- ডিমের কোণ: হাঁস সাধারণত ভোরে ঘরেই ডিম পাড়ে, তাই সকালে ডিম তুলে তবেই পুকুরে ছাড়া।
- সুরক্ষা: রাতে দরজা বন্ধ; শিয়াল আর বনবিড়ালের জন্য শক্ত জাল ও তালা।
খাবার
দিনের বেশির ভাগ খাবার হাঁস নিজেই খুঁজে নেয়: পুকুরের শামুক, কেঁচো, জলজ পোকা, ক্ষুদিপানা। আমন কাটার পর ধানক্ষেতে ছেড়ে দিলে ঝরা ধান আর পোকা খায়, যা খরচ কমায়। সম্পূরক হিসেবে সকাল-বিকেল ভাঙা চাল, কুঁড়া, ভুসি, ভেজানো গম; দিনে প্রতিটি হাঁসের আনুমানিক ৬০–১০০ গ্রাম, চরার সুযোগ অনুযায়ী কম-বেশি। ডিম পাড়া হাঁসের জন্য শামুক-ঝিনুকের খোসা গুঁড়া। খাবার সবসময় পানির পাশে দিতে হয়, কারণ হাঁস খাবার গিলতে পানি লাগে।
পুকুর ও মাছের সাথে
দশটি হাঁস ছোট পুকুরের জন্য উপযুক্ত সংখ্যা। বেশি হাঁস হলে পানিতে অতিরিক্ত জৈব পদার্থ জমে অক্সিজেন কমতে পারে, আর পাড় ভেঙে যায়। পোনা ছাড়ার পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ হাঁস পুকুরের একটি অংশে সীমিত রাখা হবে, যাতে ছোট পোনা খেয়ে না ফেলে। মাছের সাথে সমন্বয়ের বিস্তারিত মিশ্র চাষ মডেল পাতায়।
টিকা ও স্বাস্থ্য
| রোগ | কখন (সাধারণ সূচি) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ডাক প্লেগ | বাচ্চার প্রায় তিন সপ্তাহ বয়সে, তারপর বুস্টার, তারপর প্রতি ছয় মাসে (বৈশাখ ও কার্তিক) | হঠাৎ দুর্বলতা, চোখ দিয়ে পানি, সবুজ পায়খানা; মৃত্যুহার বেশি |
| ডাক কলেরা | প্রায় দুই মাস বয়সে, তারপর প্রতি ছয় মাসে (জ্যৈষ্ঠ ও অগ্রহায়ণ) | হঠাৎ মৃত্যু, জ্বর, পাতলা পায়খানা |
| কৃমি | চিকিৎসকের পরামর্শে | শামুক খায় বলে কৃমির ঝুঁকি থাকে |
টিকার নাম, বয়স, মাত্রা ও পুনরাবৃত্তির সময় এলাকা, রোগের প্রাদুর্ভাব আর টিকার ধরন অনুযায়ী বদলায়। এখানে দেওয়া সূচি সাধারণ পরিকল্পনা; চূড়ান্ত সূচি উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস বা নিবন্ধিত পশু চিকিৎসকের পরামর্শে ঠিক হবে। সরকারি টিকা সাধারণত উপজেলা অফিসে স্বল্পমূল্যে পাওয়া যায়।
অ্যান্টিবায়োটিক নীতি: নিয়মিত বা রোগ প্রতিরোধের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন বা বৃদ্ধিবর্ধক কখনো নয়। কোনো প্রাণী অসুস্থ হলে পশু চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা হবে, কারণ কষ্ট দেখেও চিকিৎসা না করা পশু কল্যাণের পরিপন্থী। চিকিৎসার পর ওষুধের নির্ধারিত “প্রত্যাহার সময়” পর্যন্ত সেই প্রাণীর দুধ, ডিম বা মাংস খাওয়া হবে না, আর বিষয়টি চিকিৎসার খাতায় লেখা থাকবে।
হাঁসের বাচ্চা
হাঁস নিজে সবসময় ভালো তা দেয় না; দেশি কুঁচে মুরগির নিচে হাঁসের ডিম দিয়ে ফোটানো প্রচলিত পদ্ধতি, যাতে প্রায় চার সপ্তাহ লাগে। প্রথম দুই-তিন সপ্তাহ বাচ্চাকে গভীর পানিতে ছাড়া যাবে না, কারণ পালকে তেল আসার আগে ভিজে ঠান্ডা লাগে। বিস্তারিত ডিম ফোটানো পাতায়।