মাছ ও পুকুর

মিশ্র চাষ মডেল

এক পুকুরে এক মাছ নয়, স্তরে স্তরে ভিন্ন মাছ। ওপরে কাতলা, মাঝে রুই, তলায় মৃগেল-কালিবাউশ, আর সবখানে ছোট দেশি মাছ; প্রত্যেকে নিজের খাবার খায়, পুকুরের কিছুই নষ্ট হয় না।

তিন স্তর, এক পুকুর

পুকুরের পানি একটি তিনতলা বাড়ির মতো। ওপরের তলায় রোদ পড়ে, প্ল্যাংকটন জন্মায়; মাঝের তলায় ভাসমান কণা আর জলজ উদ্ভিদ; নিচের তলায় পচা জৈব পদার্থ আর ছোট প্রাণী। প্রতিটি তলার খাবার খায় আলাদা মাছ। একসাথে রাখলে কেউ কারও সাথে বেশি প্রতিযোগিতা করে না, আর পুকুরের পুরো খাবার কাজে লাগে।

পুকুরের তিন স্তরে মাছের বিন্যাস: ওপরে কাতলা ও মলা, মাঝে রুই ও পুঁটি, তলায় মৃগেল, কালিবাউশ, টেংরা ও গলদা উপরের স্তর · প্ল্যাংকটনকাতলা, মলা মাঝের স্তর · ভাসমান কণা, জলজ উদ্ভিদরুই, পুঁটি তলার স্তর · পচা জৈব পদার্থ, ছোট প্রাণীমৃগেল, কালিবাউশ, টেংরা, গলদা

বড় পুকুরের মডেল

নিচের অনুপাত জৈব, কম খরচের ব্যবস্থার জন্য। বাণিজ্যিক খামারে প্রতি শতাংশে অনেক বেশি পোনা ছাড়া হয়, কিন্তু তখন প্রচুর কেনা খাবার লাগে আর পানির মান ধরে রাখা কঠিন। আমাদের লক্ষ্য কম মাছ, বড় মাছ, সুস্থ পানি।

প্রতি শতাংশে প্রস্তাবিত পোনার সংখ্যা
মাছস্তরপ্রতি শতাংশে (কম খাবার)প্রতি শতাংশে (মাঝারি)
কাতলাউপরের৪৬
রুইমাঝের৮১০
মৃগেলতলার৬৮
কালিবাউশতলার২৩
গলদা (ঐচ্ছিক)তলার৮১২
পুঁটি, টেংরা, মলাসবপ্রথম বছরে একবার মা-বাবা মাছ; তারপর নিজেরাই বাড়ে

মিশ্র চাষের হিসাব যন্ত্র

বড় পুকুর · কত পোনা ছাড়বেন
মাছস্তরসংখ্যা
ছোট পুকুর · জিওল মাছ
মাছস্তরসংখ্যা

গলদা রাখলে তলার মাছ (মৃগেল, কালিবাউশ) প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ কমানো হয়েছে। পোনার আকার আর প্রাপ্যতা অনুযায়ী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সাথে পরামর্শ করে চূড়ান্ত করুন।

ছোট পুকুরের মডেল

ছোট পুকুরে শিং, দেশি মাগুর আর কৈ একসাথে, জৈব ব্যবস্থায় প্রতি শতাংশে মোট প্রায় ১০০–১৫০টি পোনা। সাথে হাঁস: হাঁসের বিষ্ঠা পানিতে প্রাকৃতিক খাবার বাড়ায়, আর হাঁস পোকা ও আগাছা খায়। তবে ছোট পুকুরের আকারে প্রায় দশ থেকে পনেরোটি হাঁসই যথেষ্ট; বেশি হলে পানি নোংরা হয়ে যায়। পোনা ছাড়ার পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ হাঁসকে পুকুরের একটি জাল-ঘেরা অংশে রাখা ভালো, যাতে ছোট পোনা খেয়ে না ফেলে।

হাঁস, রাজহাঁস ও মাচা

  • হাঁস ছোট পুকুরে চরে, রাতে পাড়ের ঘরে থাকে। বিস্তারিত হাঁস পাতায়।
  • রাজহাঁস বড় পুকুরের পশ্চিম পাড়ের ঘাসে চরে, মাঝে মাঝে পানিতে নামে। সংখ্যা কম রাখা হবে, যাতে পাড়ের ঘাস নষ্ট না হয়।
  • মাচার সবজি উত্তর ও পূর্ব পাড়ে; ঝরা পাতা আর ফুল পানিতে পড়ে কিছুটা খাবার হয়, তবে ঘন ছায়া পড়লে প্ল্যাংকটন কমে, তাই মাচা পানির ওপর বেশি বাড়ানো হবে না।

আহরণের কৌশল

পুরো পুকুর একবারে খালি না করে কার্তিক থেকে পৌষে বড় জালে আংশিক আহরণ: বড় মাছগুলো তোলা, ছোটগুলো আবার পানিতে। ছোট দেশি মাছ সারা বছর অল্প অল্প। আহরণের পর পরের বসন্তে প্রায় সমান সংখ্যক নতুন পোনা ছাড়া হবে, যাতে পুকুরে সবসময় বিভিন্ন আকারের মাছ থাকে আর পরিবারগুলো বছরের বেশির ভাগ সময় মাছ পায়। মাছ কীভাবে পরিবারগুলোর মধ্যে ভাগ হবে, তা উৎপাদন বণ্টন নীতি পাতায়।

জৈব ব্যবস্থায় মোট উৎপাদন বাণিজ্যিক খামারের চেয়ে কম হবে; প্রথম দুই বছরের আহরণের খাতা থেকে আমাদের পুকুরের প্রকৃত উৎপাদন জানা যাবে, তার ভিত্তিতে ঘনত্ব সংশোধন হবে।