মলা
আঙুলের মাপের স্বচ্ছ রুপালি মলা পুষ্টির দিক থেকে পুকুরের সবচেয়ে মূল্যবান মাছগুলোর একটি। রুই-কাতলার সাথে রাখলে নিজে নিজেই বংশ বাড়ায়, আর নিয়মিত পরিবারের পাতে ছোট মাছ আসে।
- নাম
- মলা · Mola carplet · Amblypharyngodon mola
- পরিবার
- কার্পজাতীয় (সাইপ্রিনিডি)
- পানির স্তর
- উপরের ও মাঝের স্তর
- কোন পুকুরে
- বড় পুকুর
- খাদ্যাভ্যাস
- প্ল্যাংকটনভোজী
- মজুদ ঘনত্ব
- শুরুতে পুরো পুকুরে প্রায় ৫০০ গ্রাম–১ কেজি মা-বাবা মাছ
- বৃদ্ধি ও আহরণ
- ছাড়ার ২ মাস পর থেকে প্রতি ২–৩ সপ্তাহে অল্প অল্প
পরিচিতি
মলা দেশি ছোট মাছ, দৈর্ঘ্যে সাধারণত পাঁচ থেকে আট সেমি। শরীর প্রায় স্বচ্ছ, পাশে রুপালি রেখা। পুষ্টিবিদদের গবেষণায় দেখা গেছে, মলা ভিটামিন এ-র অসাধারণ উৎস। দেশে বড় মাছের পুকুরে মলা মিশিয়ে চাষের পদ্ধতি উৎসাহিত করা হয়েছে, কারণ এতে বড় মাছের উৎপাদন তেমন কমে না, অথচ পরিবারের পুষ্টি অনেক বাড়ে।
কোন পুকুরে, কোন স্তরে
বড় পুকুরের ওপরের ও মাঝের স্তর। মলা প্ল্যাংকটন খায়, তাই কাতলার সাথে সামান্য প্রতিযোগিতা আছে; সেজন্য কাতলার সংখ্যা সামান্য কমিয়ে রাখা যায়।
মজুদ ঘনত্ব
প্রথম বছর বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠে পুরো বড় পুকুরে প্রায় আধা কেজি থেকে এক কেজি জীবিত প্রাপ্তবয়স্ক মলা ছাড়া (মোটামুটি প্রতি শতাংশে বিশ থেকে চল্লিশ গ্রাম)। মলা খুব নাজুক, পরিবহনে সহজে মরে যায়, তাই কাছের উৎস থেকে, ভোরে, অক্সিজেনযুক্ত পাত্রে আনা ভালো।
খাবার
আলাদা খাবার লাগে না। পুকুরে পরিমিত জৈব সারে জন্মানো প্ল্যাংকটনই মলার খাবার। পানির রং হালকা সবুজ রাখা মানে মলা আর কাতলা দুজনেরই খাবার নিশ্চিত।
বৃদ্ধি ও আহরণ
মলা কয়েক মাসেই পূর্ণ আকারে পৌঁছায় আর প্রজনন শুরু করে। তাই আংশিক আহরণ পদ্ধতি: প্রতি দুই-তিন সপ্তাহে ছোট ফাঁসের জাল দিয়ে পরিবারের এক-দুই বেলার মতো মলা ধরা, বাকিরা বংশ বাড়াতে থাকে। গবেষণায় এভাবে নিয়মিত আহরণে ভালো উৎপাদন দেখা গেছে।
প্রজনন ও পোনা
বর্ষায় পুকুরে বারবার প্রজনন করে। পুকুর পুরো শুকানো হলে মলাও হারিয়ে যায়; তাই পুকুর শুকানোর আগে কিছু মলা ছোট পুকুরের একটি জাল-ঘেরা অংশে বা চৌবাচ্চায় রেখে দেওয়া, যাতে আবার ফিরিয়ে আনা যায়।
কার সাথে চলে
| সঙ্গী | সামঞ্জস্য | কারণ |
|---|---|---|
| রুই ও মৃগেল | একসাথে চলে | খাবার আলাদা |
| কাতলা | সতর্কতায় চলে | প্ল্যাংকটনে সামান্য প্রতিযোগিতা |
| পুঁটি ও টেংরা | একসাথে চলে | ছোট মাছের দল |
| শোল | একসাথে নয় | খেয়ে শেষ করে |
| তেলাপিয়া | সতর্কতায় চলে | প্ল্যাংকটনে প্রতিযোগিতা |
রোগ ও জৈব প্রতিরোধ
| সমস্যা | লক্ষণ | প্রতিরোধ ও করণীয় |
|---|---|---|
| পরিবহনজনিত মৃত্যু | আনার পরপরই মরে যায় | ভোরে আনা; কম ঘনত্বে, অক্সিজেনযুক্ত পাত্রে; ধীরে খাপ খাওয়ানো |
| অক্সিজেন ঘাটতি | ভোরে মাছ পানির ওপরে মুখ তুলে খাবি খায় | খাবার ও সার বন্ধ; নতুন পানি; বাঁশ দিয়ে পানি পেটানো; মেঘলা গুমোট দিনে বিশেষ সতর্কতা |
খামারে অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন বা রাসায়নিক ওষুধ ব্যবহার হবে না; প্রতিরোধের মূল উপায় পানির মান, সঠিক ঘনত্ব আর সুস্থ পোনা। রোগ ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিন। বিস্তারিত পানির গুণমান পাতায়।
পুষ্টিগুণ ও রান্না
মলার চোখ ও মাথাসহ পুরো মাছ খাওয়া হয়, আর এতে প্রচুর ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও জিংক থাকে। শিশুদের রাতকানা প্রতিরোধ আর মা-শিশুর পুষ্টিতে মলার বিশেষ গুরুত্ব। রান্নার সময় মাথা ফেলে দেবেন না; বেশির ভাগ ভিটামিন সেখানেই। মলার চচ্চড়ি, পেঁয়াজ দিয়ে ভাজি আর আলু-মলা জনপ্রিয়।
কোন মাছ কোন অনুপাতে একসাথে থাকবে, তার হিসাব মিশ্র চাষ মডেল পাতায়; খাবার তৈরির পদ্ধতি জৈব খাদ্য পাতায়।