কালিবাউশ
কালচে রঙের দেশি কার্প কালিবাউশ সুস্বাদু আর শক্ত প্রাণের। তলার স্তরে মৃগেলের সঙ্গী হয়ে মিশ্র চাষে বৈচিত্র্য আনে।
- নাম
- কালিবাউশ · Kalibaus / Black rohu · Labeo calbasu
- পরিবার
- কার্পজাতীয় (সাইপ্রিনিডি)
- পানির স্তর
- তলার স্তর
- কোন পুকুরে
- বড় পুকুর
- খাদ্যাভ্যাস
- তলার জৈব কণা, ছোট প্রাণী ও শেওলা
- মজুদ ঘনত্ব
- প্রতি শতাংশে প্রায় ২–৪টি পোনা
- বৃদ্ধি ও আহরণ
- এক বছরে প্রায় ৪০০–৮০০ গ্রাম
পরিচিতি
কালিবাউশ দেখতে রুইয়ের কাছাকাছি, কিন্তু রং কালচে বা গাঢ় ধূসর, আঁশ কিছুটা ছোট। নদী ও বিলের দেশি মাছ হিসেবে সুপরিচিত; স্বাদের জন্য অনেকে রুইয়ের চেয়েও বেশি পছন্দ করেন। পানির মানের ওঠানামা মৃগেলের চেয়ে ভালো সহ্য করে।
দেশি মাছের বৈচিত্র্য রক্ষা আমাদের খামারের একটি লক্ষ্য। তাই চাষের প্রধান কার্পগুলোর পাশাপাশি কালিবাউশ রাখা হবে, অল্প সংখ্যায়।
কোন পুকুরে, কোন স্তরে
বড় পুকুরের তলার স্তর, মৃগেলের সাথে। পুকুরের তলায় কিছু জায়গায় ডালপালা বা বাঁশের আশ্রয় থাকলে কালিবাউশ সেখানে থাকে; এটি গলদার জন্যও উপকারী।
মজুদ ঘনত্ব
প্রতি শতাংশে প্রায় ২–৪টি, অর্থাৎ বড় পুকুরে প্রায় ৫০–১০০টি। মৃগেলের সাথে মিলিয়ে তলার মাছের মোট সংখ্যা প্রতি শতাংশে মোটামুটি ৮–১১টির মধ্যে রাখা হবে।
খাবার
তলার জৈব কণা, শেওলা আর ছোট জলজ প্রাণী। সম্পূরক কুঁড়া-খৈলের যে অংশ তলায় পড়ে, তা খায়। আলাদা খাবারের দরকার কম।
বৃদ্ধি ও আহরণ
রুই-মৃগেলের চেয়ে ধীরে বাড়ে; এক বছরে প্রায় চারশ থেকে আটশ গ্রাম। দুই বছর রাখলে বড় হয়। ধীর বৃদ্ধির কারণে আংশিক আহরণে কালিবাউশ দ্বিতীয় বছর পর্যন্ত রাখা ভালো।
প্রজনন ও পোনা
পুকুরে প্রাকৃতিক প্রজনন হয় না; হ্যাচারির পোনা লাগবে। কালিবাউশের পোনা রুই-কাতলার মতো সহজলভ্য নয়, তাই সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার বা উপজেলা মৎস্য অফিসের মাধ্যমে আগে থেকে খোঁজ নিতে হবে।
কার সাথে চলে
| সঙ্গী | সামঞ্জস্য | কারণ |
|---|---|---|
| রুই ও কাতলা | একসাথে চলে | ভিন্ন স্তর |
| মৃগেল | সতর্কতায় চলে | তলার খাবারে প্রতিযোগিতা |
| গলদা | সতর্কতায় চলে | তলায় একসাথে; আশ্রয় দরকার |
| ছোট দেশি মাছ | একসাথে চলে | প্রতিযোগিতা কম |
রোগ ও জৈব প্রতিরোধ
| সমস্যা | লক্ষণ | প্রতিরোধ ও করণীয় |
|---|---|---|
| ক্ষত রোগ (লাল দাগ) | শীতে গায়ে লাল দাগ, পরে গভীর ক্ষত; মাছ দুর্বল | শীতের আগে চুন দিয়ে পিএইচ ঠিক রাখা; তলার পচা কাদা কমানো; শীতে খাবার ও সার কমানো; আক্রান্ত মাছ তুলে ফেলা |
| উকুন (আর্গুলাস) | গায়ে চ্যাপ্টা স্বচ্ছ পরজীবী, মাছ পাড়ে গা ঘষে | মজুদের আগে পুকুর শুকিয়ে চুন দেওয়া; পোনা লবণ পানিতে ধুয়ে ছাড়া; আক্রমণ বেশি হলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ |
| অক্সিজেন ঘাটতি | ভোরে মাছ পানির ওপরে মুখ তুলে খাবি খায় | খাবার ও সার বন্ধ; নতুন পানি; বাঁশ দিয়ে পানি পেটানো; মেঘলা গুমোট দিনে বিশেষ সতর্কতা |
| পেট ফোলা | পেট ফুলে যায়, আঁশ খাড়া হয়ে থাকে | পানির মান ঠিক রাখা; পচা খাবার না দেওয়া; আক্রান্ত মাছ সরিয়ে ফেলা |
খামারে অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন বা রাসায়নিক ওষুধ ব্যবহার হবে না; প্রতিরোধের মূল উপায় পানির মান, সঠিক ঘনত্ব আর সুস্থ পোনা। রোগ ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিন। বিস্তারিত পানির গুণমান পাতায়।
পুষ্টিগুণ ও রান্না
আমিষে সমৃদ্ধ, মাংস দৃঢ় ও সুস্বাদু। ঝোল, কালিয়া আর সরষে বাটায় রান্না জনপ্রিয়। দেশি মাছ হিসেবে পারিবারিক উৎসবে বিশেষ পদ।
কোন মাছ কোন অনুপাতে একসাথে থাকবে, তার হিসাব মিশ্র চাষ মডেল পাতায়; খাবার তৈরির পদ্ধতি জৈব খাদ্য পাতায়।