গলদা চিংড়ি
বড় দাঁড়াওয়ালা গলদা চিংড়ি মিঠা পানির রাজকীয় খাবার। কার্পের সাথে সীমিত সংখ্যায় রাখলে পুকুরের তলার খাবার কাজে লাগে, আর পরিবারের পাতে আসে বিশেষ পদ।
- নাম
- গলদা চিংড়ি · Giant freshwater prawn · Macrobrachium rosenbergii
- পরিবার
- চিংড়িজাতীয় (প্যালেমোনিডি)
- পানির স্তর
- তলার স্তর
- কোন পুকুরে
- বড় পুকুর (সীমিত)
- খাদ্যাভ্যাস
- সর্বভুক: শামুক, কেঁচো, পচা জৈব পদার্থ
- মজুদ ঘনত্ব
- কার্পের সাথে প্রতি শতাংশে প্রায় ৮–১২টি জুভেনাইল
- বৃদ্ধি ও আহরণ
- ৫–৭ মাসে প্রায় ৫০–১০০ গ্রাম
পরিচিতি
গলদা চিংড়ির পুরুষগুলোর দ্বিতীয় জোড়া পা লম্বা নীলচে দাঁড়ায় পরিণত হয়। চিংড়ি নিয়মিত খোলস বদলায়, তখন নরম থাকে আর অন্য চিংড়ি বা মাছের আক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে। তাই পুকুরে লুকানোর জায়গা অপরিহার্য।
গলদার পোনা লোনা পানিতে জন্মে, তারপর মিঠা পানিতে আসে; তাই পুকুরে প্রাকৃতিক প্রজনন হয় না। হ্যাচারির জুভেনাইল (তিন-চার সপ্তাহের নার্সারিতে বড় করা পোনা) কিনতে হয়।
কোন পুকুরে, কোন স্তরে
বড় পুকুরের তলা, বিশেষ করে কিনারার কাছের অগভীর অংশ। তলায় বাঁশের কঞ্চির আঁটি, খেজুর বা নারকেলের পাতা, বা মাটির পাইপের টুকরো রাখলে খোলস বদলের সময় আশ্রয় পায়। পুকুরের গভীরতা অন্তত এক মিটারের বেশি থাকা দরকার, যাতে গরমে তলা ঠান্ডা থাকে।
মজুদ ঘনত্ব
কার্পের সাথে মিশ্র চাষে প্রতি শতাংশে প্রায় ৮–১২টি জুভেনাইল, অর্থাৎ বড় পুকুরে প্রায় ২০০–৩০০টি। তলার মাছ (মৃগেল, কালিবাউশ) তখন কিছুটা কমিয়ে রাখা ভালো। ছাড়ার সময় বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ, যখন পানি উষ্ণ।
খাবার
গলদা সর্বভুক: কুঁচানো শামুকের মাংস, কেঁচো, রান্নাঘরের মাছ-মাংসের উচ্ছিষ্ট, কুঁড়া-খৈলের বল। সন্ধ্যায় পুকুরের কিনারায় কয়েক জায়গায় খাবার, কারণ চিংড়ি রাতে খায়। শামুক জোগাড় সহজ, ধানক্ষেত আর পুকুরপাড়েই পাওয়া যায়।
বৃদ্ধি ও আহরণ
পাঁচ থেকে সাত মাসে প্রায় পঞ্চাশ থেকে একশ গ্রাম, কিছু পুরুষ আরও বড়। পুরুষ আর স্ত্রী আলাদা হারে বাড়ে। কার্তিক-অগ্রহায়ণে, শীত আসার আগে, আংশিক আহরণ; শীতে চিংড়ির বৃদ্ধি প্রায় থেমে যায় আর মৃত্যুহার বাড়ে।
প্রজনন ও পোনা
পুকুরে প্রজনন হয় না। নার্সারিতে বড় করা জুভেনাইল কিনুন, যাদের বাঁচার হার ছোট পিএলের চেয়ে বেশি। পরিবহনের পর ধীরে ধীরে পুকুরের পানির সাথে খাপ খাইয়ে, সন্ধ্যায় ছাড়া।
কার সাথে চলে
| সঙ্গী | সামঞ্জস্য | কারণ |
|---|---|---|
| রুই ও কাতলা | একসাথে চলে | ভিন্ন স্তর, ভালো সঙ্গী |
| মৃগেল ও কালিবাউশ | সতর্কতায় চলে | তলায় প্রতিযোগিতা; সংখ্যা কমিয়ে রাখুন |
| শোল | সতর্কতায় চলে | খোলস বদলের সময় খেয়ে ফেলে |
| পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া | সতর্কতায় চলে | খাবার ও পানির মানে চাপ |
রোগ ও জৈব প্রতিরোধ
| সমস্যা | লক্ষণ | প্রতিরোধ ও করণীয় |
|---|---|---|
| খোলস রোগ | খোলসে কালো দাগ বা ক্ষয় | তলার পচা কাদা কম রাখা; পানির মান |
| খোলস বদলে মৃত্যু | নরম চিংড়ি মরে পড়ে থাকে | আশ্রয় বাড়ানো; ঘনত্ব কম; চুন দিয়ে পানির খনিজ ঠিক রাখা |
| অক্সিজেন ঘাটতি | ভোরে মাছ পানির ওপরে মুখ তুলে খাবি খায় | খাবার ও সার বন্ধ; নতুন পানি; বাঁশ দিয়ে পানি পেটানো; মেঘলা গুমোট দিনে বিশেষ সতর্কতা |
খামারে অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন বা রাসায়নিক ওষুধ ব্যবহার হবে না; প্রতিরোধের মূল উপায় পানির মান, সঠিক ঘনত্ব আর সুস্থ পোনা। রোগ ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিন। বিস্তারিত পানির গুণমান পাতায়।
পুষ্টিগুণ ও রান্না
গলদা উচ্চমানের আমিষ, সেলেনিয়াম, জিংক আর ভিটামিন বি১২-এর উৎস; চর্বি কম। মালাইকারি, দোপেঁয়াজা আর লাউ-চিংড়ি জনপ্রিয়। চিংড়িতে কারও অ্যালার্জি থাকলে সতর্কতা।
কোন মাছ কোন অনুপাতে একসাথে থাকবে, তার হিসাব মিশ্র চাষ মডেল পাতায়; খাবার তৈরির পদ্ধতি জৈব খাদ্য পাতায়।