মৃগেল
পুকুরের তলায় জমা পচা জৈব কণা খেয়ে মৃগেল পুকুরকে পরিষ্কার রাখে। মিশ্র চাষে যে খাবার অন্য মাছ ফেলে দেয়, তা কাজে লাগানোই তার ভূমিকা।
- নাম
- মৃগেল · Mrigal · Cirrhinus cirrhosus
- পরিবার
- কার্পজাতীয় (সাইপ্রিনিডি)
- পানির স্তর
- তলার স্তর
- কোন পুকুরে
- বড় পুকুর
- খাদ্যাভ্যাস
- তলার পচা জৈব কণা, শেওলা
- মজুদ ঘনত্ব
- প্রতি শতাংশে প্রায় ৬–৮টি পোনা
- বৃদ্ধি ও আহরণ
- এক বছরে প্রায় ৭০০ গ্রাম–১ কেজি
পরিচিতি
মৃগেলের শরীর লম্বা, রুপালি, মুখ নিচের দিকে। পুকুরের তলার কাদায় মুখ দিয়ে খাবার খোঁজে। রুই-কাতলার পাশাপাশি মৃগেল থাকলে তলার পচা খাবার ও সার জমে পানি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে।
মৃগেল আর কালিবাউশ দুটোই তলার মাছ, তাই দুটি একসাথে রাখলে মোট সংখ্যা ভাগ করে নিতে হয়। আমাদের নকশায় মৃগেল বেশি, কালিবাউশ কম।
কোন পুকুরে, কোন স্তরে
বড় পুকুরের তলা। তলায় খুব পুরু পচা কাদা জমলে বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয় আর মৃগেলের ক্ষতি হয়, তাই দুই-তিন বছর পরপর শুকনো মৌসুমে তলার অতিরিক্ত কাদা তুলে পাড়ে বা জমিতে দেওয়া হবে।
মজুদ ঘনত্ব
প্রতি শতাংশে প্রায় ৬–৮টি পোনা, অর্থাৎ বড় পুকুরে প্রায় ১৫০–২০০টি। গলদা চিংড়ি রাখলে তলার প্রতিযোগিতা বাড়ে, তখন মৃগেল সামান্য কমানো যায়।
খাবার
মৃগেল আলাদা খাবারের ওপর কম নির্ভরশীল: অন্য মাছের ফেলে দেওয়া কুঁড়া-খৈল তলায় পড়লে সে খায়, আর জৈব সারে জন্মানো তলার শেওলা ও কণাও খায়। খাবারের ট্রে পুকুরের তলার কাছাকাছি ঝুলিয়ে রাখলে মৃগেলও সহজে পায়।
বৃদ্ধি ও আহরণ
রুই-কাতলার তুলনায় একটু ধীরে বাড়ে; এক বছরে প্রায় সাতশ গ্রাম থেকে এক কেজি। শীতে বৃদ্ধি কমে। আংশিক আহরণে মাঝারি আকারের মৃগেল তুলে বড়গুলো রেখে দেওয়া যায়।
প্রজনন ও পোনা
বদ্ধ পুকুরে প্রাকৃতিকভাবে ডিম ছাড়ে না; হ্যাচারির পোনা লাগবে। দেশি মৃগেলের পোনার সাথে বাজারে বিদেশি মৃগেল (মিরর বা কমন কার্প নয়, তবে অনুরূপ চেহারার অন্য প্রজাতি) মিশে আসতে পারে; বিশ্বস্ত হ্যাচারি থেকে নিন।
কার সাথে চলে
| সঙ্গী | সামঞ্জস্য | কারণ |
|---|---|---|
| রুই ও কাতলা | একসাথে চলে | ভিন্ন স্তরে থাকে |
| কালিবাউশ | সতর্কতায় চলে | একই তলার খাবারে প্রতিযোগিতা; মোট সংখ্যা ভাগ করুন |
| গলদা | সতর্কতায় চলে | তলায় একসাথে থাকে; আশ্রয় রাখুন |
| টেংরা | একসাথে চলে | ছোট তলার মাছ, প্রতিযোগিতা কম |
| পাঙ্গাস | সতর্কতায় চলে | তলা নোংরা করে |
রোগ ও জৈব প্রতিরোধ
| সমস্যা | লক্ষণ | প্রতিরোধ ও করণীয় |
|---|---|---|
| ক্ষত রোগ (লাল দাগ) | শীতে গায়ে লাল দাগ, পরে গভীর ক্ষত; মাছ দুর্বল | শীতের আগে চুন দিয়ে পিএইচ ঠিক রাখা; তলার পচা কাদা কমানো; শীতে খাবার ও সার কমানো; আক্রান্ত মাছ তুলে ফেলা |
| ফুলকা পচা | ফুলকা ফ্যাকাশে বা পচা, মাছ পানির ওপরে খাবি খায় | অতিরিক্ত খাবার ও সার বন্ধ; নতুন পানি দেওয়া; পানি নাড়িয়ে অক্সিজেন বাড়ানো |
| অক্সিজেন ঘাটতি | ভোরে মাছ পানির ওপরে মুখ তুলে খাবি খায় | খাবার ও সার বন্ধ; নতুন পানি; বাঁশ দিয়ে পানি পেটানো; মেঘলা গুমোট দিনে বিশেষ সতর্কতা |
| পেট ফোলা | পেট ফুলে যায়, আঁশ খাড়া হয়ে থাকে | পানির মান ঠিক রাখা; পচা খাবার না দেওয়া; আক্রান্ত মাছ সরিয়ে ফেলা |
খামারে অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন বা রাসায়নিক ওষুধ ব্যবহার হবে না; প্রতিরোধের মূল উপায় পানির মান, সঠিক ঘনত্ব আর সুস্থ পোনা। রোগ ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিন। বিস্তারিত পানির গুণমান পাতায়।
পুষ্টিগুণ ও রান্না
মৃগেল আমিষের সাশ্রয়ী উৎস। মাংস নরম, কাঁটা তুলনামূলক বেশি, তাই ঝোল আর ভাজির জন্য ভালো। ছোট মৃগেল দোপেঁয়াজা বা কাঁচা মরিচের ঝোলে জনপ্রিয়।
কোন মাছ কোন অনুপাতে একসাথে থাকবে, তার হিসাব মিশ্র চাষ মডেল পাতায়; খাবার তৈরির পদ্ধতি জৈব খাদ্য পাতায়।