কাতলা
বড় মাথা আর চওড়া শরীরের কাতলা কার্প মাছের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বাড়ে। পানির ওপরের স্তরের প্ল্যাংকটন খেয়ে বড় পুকুরের মিশ্র চাষে জায়গা নেয়।
- নাম
- কাতলা · Catla · Gibelion catla (Catla catla)
- পরিবার
- কার্পজাতীয় (সাইপ্রিনিডি)
- পানির স্তর
- উপরের স্তর
- কোন পুকুরে
- বড় পুকুর
- খাদ্যাভ্যাস
- প্রাণিকণা ও উদ্ভিদকণা
- মজুদ ঘনত্ব
- প্রতি শতাংশে প্রায় ৪–৬টি পোনা
- বৃদ্ধি ও আহরণ
- এক বছরে প্রায় ১.৫–২ কেজি
পরিচিতি
কাতলার মাথা শরীরের তুলনায় বড়, মুখ ওপরের দিকে বাঁকানো, আঁশ ধূসর-রুপালি। এই গঠনই বলে দেয় সে পানির ওপরের স্তর থেকে খাবার সংগ্রহ করে। ভালো খাবার পেলে কাতলা রুইয়ের চেয়েও দ্রুত বড় হয়, তাই মিশ্র চাষে মোট উৎপাদনে তার অবদান বেশি।
তবে কাতলা বেশি ছাড়লে ওপরের স্তরের খাবারে টান পড়ে, তখন সব কাতলাই ছোট থাকে। তাই রুইয়ের চেয়ে কম সংখ্যায় ছাড়া হবে।
কোন পুকুরে, কোন স্তরে
বড় পুকুরের ওপরের স্তর, যেখানে রোদ পড়ে আর প্ল্যাংকটন বেশি জন্মায়। পানির রং হালকা সবুজ থাকলে কাতলার খাবার যথেষ্ট। পুকুরের ওপরে খুব বেশি গাছের ছায়া পড়লে প্ল্যাংকটন কমে, তাই পাড়ের গাছ ছেঁটে রাখতে হবে।
মজুদ ঘনত্ব
প্রতি শতাংশে প্রায় ৪–৬টি বড় আকারের পোনা, অর্থাৎ ২৫ শতাংশের পুকুরে প্রায় ১০০–১৫০টি। কাতলার পোনা অন্য কার্পের চেয়ে একটু বড় আকারে (১০–১২ সেমি) ছাড়লে বাঁচার হার ভালো। মিশ্র চাষের অনুপাত দেখুন মিশ্র চাষ মডেল পাতায়।
খাবার
কাতলার প্রধান খাবার প্রাকৃতিক: প্রাণিকণা ও উদ্ভিদকণা। এজন্য পুকুরে নিয়মিত পরিমিত জৈব সার দিয়ে পানি হালকা সবুজ রাখা জরুরি (স্লারির সতর্ক ব্যবহার দেখুন)। সম্পূরক কুঁড়া-খৈলের মিশ্রণ পানিতে ছিটিয়ে দিলে ওপরের স্তরে কাতলাও খায়। পানি ঘন সবুজ হলে সার বন্ধ।
বৃদ্ধি ও আহরণ
ভালো প্রাকৃতিক খাবারে এক বছরে প্রায় দেড় থেকে দুই কেজি হতে পারে। দুই বছর রাখলে আরও বড় হয়; বড় কাতলা উৎসব বা অতিথি আপ্যায়নের জন্য রাখা যায়। শীতে বৃদ্ধি ধীর হয়, তাই আংশিক আহরণ কার্তিক-অগ্রহায়ণে, শীত গাঢ় হওয়ার আগে।
প্রজনন ও পোনা
কাতলাও বদ্ধ পুকুরে প্রাকৃতিকভাবে ডিম ছাড়ে না; হ্যাচারির পোনা লাগবে। ভালো হ্যাচারির পোনার মাথা শরীরের অনুপাতে স্বাভাবিক, চলাফেরা চঞ্চল। পরিবহনের সময় অক্সিজেনভর্তি ব্যাগ, আর সকাল বা বিকেলের ঠান্ডায় ছাড়া।
কার সাথে চলে
| সঙ্গী | সামঞ্জস্য | কারণ |
|---|---|---|
| রুই | একসাথে চলে | মাঝের স্তরে থাকে |
| মৃগেল ও কালিবাউশ | একসাথে চলে | তলার স্তরে থাকে |
| তেলাপিয়া | সতর্কতায় চলে | প্ল্যাংকটনে প্রতিযোগিতা করে |
| পাঙ্গাস | সতর্কতায় চলে | অতিরিক্ত খাবারে পানির মান খারাপ হয় |
| মলা | একসাথে চলে | ছোট মাছ, তবে প্ল্যাংকটনে সামান্য ভাগ বসায় |
| গলদা | একসাথে চলে | তলায় থাকে |
রোগ ও জৈব প্রতিরোধ
| সমস্যা | লক্ষণ | প্রতিরোধ ও করণীয় |
|---|---|---|
| ক্ষত রোগ (লাল দাগ) | শীতে গায়ে লাল দাগ, পরে গভীর ক্ষত; মাছ দুর্বল | শীতের আগে চুন দিয়ে পিএইচ ঠিক রাখা; তলার পচা কাদা কমানো; শীতে খাবার ও সার কমানো; আক্রান্ত মাছ তুলে ফেলা |
| উকুন (আর্গুলাস) | গায়ে চ্যাপ্টা স্বচ্ছ পরজীবী, মাছ পাড়ে গা ঘষে | মজুদের আগে পুকুর শুকিয়ে চুন দেওয়া; পোনা লবণ পানিতে ধুয়ে ছাড়া; আক্রমণ বেশি হলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ |
| অক্সিজেন ঘাটতি | ভোরে মাছ পানির ওপরে মুখ তুলে খাবি খায় | খাবার ও সার বন্ধ; নতুন পানি; বাঁশ দিয়ে পানি পেটানো; মেঘলা গুমোট দিনে বিশেষ সতর্কতা |
| পেট ফোলা | পেট ফুলে যায়, আঁশ খাড়া হয়ে থাকে | পানির মান ঠিক রাখা; পচা খাবার না দেওয়া; আক্রান্ত মাছ সরিয়ে ফেলা |
খামারে অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন বা রাসায়নিক ওষুধ ব্যবহার হবে না; প্রতিরোধের মূল উপায় পানির মান, সঠিক ঘনত্ব আর সুস্থ পোনা। রোগ ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিন। বিস্তারিত পানির গুণমান পাতায়।
পুষ্টিগুণ ও রান্না
কাতলার মাংস আমিষে ভরপুর; বড় মাথা মুড়িঘণ্ট আর মাথার ঝোলের জন্য প্রিয়, যাতে চর্বি আর ক্যালসিয়াম বেশি। পেটির অংশে ওমেগা-৩ চর্বি তুলনামূলক বেশি। বড় কাতলা কেটে ভাগ করে একাধিক পরিবারে বণ্টন সহজ।
কোন মাছ কোন অনুপাতে একসাথে থাকবে, তার হিসাব মিশ্র চাষ মডেল পাতায়; খাবার তৈরির পদ্ধতি জৈব খাদ্য পাতায়।