পুঁটি
রুপালি ছোট পুঁটি বাংলার পুকুর-বিলের চিরচেনা মাছ। একবার ছাড়লে পুকুরেই বংশ বাড়ায়, আর সারা বছর অল্প অল্প ধরে খাওয়া যায়।
- নাম
- পুঁটি · Pool barb / Olive barb · Puntius sophore
- পরিবার
- কার্পজাতীয় (সাইপ্রিনিডি)
- পানির স্তর
- সব স্তর, কিনারা
- কোন পুকুরে
- বড় পুকুর
- খাদ্যাভ্যাস
- সর্বভুক: প্ল্যাংকটন, পোকার লার্ভা, শেওলা
- মজুদ ঘনত্ব
- শুরুতে পুরো পুকুরে কয়েকশ মা-বাবা মাছ; পরে নিজেই বাড়ে
- বৃদ্ধি ও আহরণ
- ছাড়ার ২–৩ মাস পর থেকে নিয়মিত অল্প অল্প
পরিচিতি
পুঁটির কয়েকটি দেশি প্রজাতি আছে: জাত পুঁটি, তিত পুঁটি, সরপুঁটি। ছোট পুঁটিগুলো (জাত পুঁটি) পুকুরে সহজে প্রজনন করে। সরপুঁটি আকারে বড়, কার্পের মতো চাষ হয়। আমাদের লক্ষ্য মূলত ছোট দেশি পুঁটি, যা বড় মাছের সাথে প্রতিযোগিতা না করে বাড়তি পুষ্টি দেয়।
কোন পুকুরে, কোন স্তরে
বড় পুকুর, বিশেষ করে কিনারার অগভীর অংশ আর জলজ উদ্ভিদের আশপাশ। পুঁটি মশার লার্ভা আর পোকা খায়, ফলে পুকুরপাড়ে মশা কিছুটা কমে।
মজুদ ঘনত্ব
প্রথম বছর বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠে বড় পুকুরে কয়েকশ প্রাপ্তবয়স্ক পুঁটি ছাড়লেই চলবে (প্রতি শতাংশে প্রায় ১০–২০টি মা-বাবা মাছ)। বর্ষায় তারা ডিম ছাড়বে, আর পুকুরেই বংশ বাড়বে। পরের বছর থেকে আলাদা করে ছাড়ার দরকার নেই, যদি পুকুর পুরো শুকানো না হয়।
খাবার
আলাদা খাবার লাগে না; প্ল্যাংকটন, শেওলা, পোকার লার্ভা আর কার্পের খাবারের ছিটেফোঁটা খেয়ে বাড়ে। পুকুরের এক কোণে কিছু জলজ উদ্ভিদ রাখলে ডিম পাড়ার জায়গা পায়।
বৃদ্ধি ও আহরণ
দুই-তিন মাসে খাওয়ার উপযোগী আকার। ছোট ফাঁসের জাল দিয়ে সপ্তাহে বা পনেরো দিনে একবার অল্প করে ধরা, যাতে প্রজননক্ষম মাছ পুকুরে থেকে যায়।
প্রজনন ও পোনা
বর্ষার শুরুতে প্রাকৃতিক প্রজনন। প্রথম মা-বাবা মাছ সংগ্রহ: স্থানীয় বিল বা অন্য পুকুর থেকে, অথবা দেশি ছোট মাছের পোনা বিক্রেতার কাছ থেকে। অন্য পুকুর থেকে আনলে সাথে অবাঞ্ছিত মাছ বা রোগ না আসে, তাই আলাদা পাত্রে দেখে নিন।
কার সাথে চলে
| সঙ্গী | সামঞ্জস্য | কারণ |
|---|---|---|
| রুই, কাতলা, মৃগেল | একসাথে চলে | খাবার আলাদা, ভালো সঙ্গী |
| মলা ও টেংরা | একসাথে চলে | ছোট দেশি মাছের দল |
| শোল | একসাথে নয় | খেয়ে শেষ করে |
| তেলাপিয়া | সতর্কতায় চলে | জায়গা ও খাবারে প্রতিযোগিতা |
রোগ ও জৈব প্রতিরোধ
| সমস্যা | লক্ষণ | প্রতিরোধ ও করণীয় |
|---|---|---|
| সাদা দাগ | শীতে গায়ে সাদা বিন্দু | পানির মান; ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ |
| ক্ষত রোগ (লাল দাগ) | শীতে গায়ে লাল দাগ, পরে গভীর ক্ষত; মাছ দুর্বল | শীতের আগে চুন দিয়ে পিএইচ ঠিক রাখা; তলার পচা কাদা কমানো; শীতে খাবার ও সার কমানো; আক্রান্ত মাছ তুলে ফেলা |
| অক্সিজেন ঘাটতি | ভোরে মাছ পানির ওপরে মুখ তুলে খাবি খায় | খাবার ও সার বন্ধ; নতুন পানি; বাঁশ দিয়ে পানি পেটানো; মেঘলা গুমোট দিনে বিশেষ সতর্কতা |
খামারে অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন বা রাসায়নিক ওষুধ ব্যবহার হবে না; প্রতিরোধের মূল উপায় পানির মান, সঠিক ঘনত্ব আর সুস্থ পোনা। রোগ ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিন। বিস্তারিত পানির গুণমান পাতায়।
পুষ্টিগুণ ও রান্না
ছোট মাছ কাঁটাসহ খাওয়া হয় বলে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস আর আয়রনের চমৎকার উৎস; সাথে আমিষ ও কিছু ভিটামিন এ। পুঁটি ভাজা, চচ্চড়ি, শুঁটকি আর টক রান্না জনপ্রিয়। শিশু ও মায়েদের পুষ্টিতে ছোট মাছের গুরুত্ব অনেক।
কোন মাছ কোন অনুপাতে একসাথে থাকবে, তার হিসাব মিশ্র চাষ মডেল পাতায়; খাবার তৈরির পদ্ধতি জৈব খাদ্য পাতায়।