অঙ্কুরোদগম পরীক্ষা
এক সপ্তাহের ছোট্ট পরীক্ষা পুরো মৌসুম বাঁচাতে পারে। বীজ বোনার আগে জেনে নিন একশটির মধ্যে কয়টি গজাবে, তারপর ঠিক করুন কতটুকু বুনবেন।
হিসাব যন্ত্র
ভেজা কাপড় পদ্ধতি
সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি; ঘরে যা আছে তা দিয়েই করা যায়।
- লটের বিভিন্ন জায়গা থেকে এলোমেলোভাবে ১০০টি বীজ নিন (অল্প বীজ থাকলে ৫০টি)। বড় বীজ বেছে নেবেন না; লট যেমন, তেমন নমুনা।
- একটি পরিষ্কার সুতি কাপড় বা কয়েক ভাঁজ টিস্যু পানিতে ভিজিয়ে চিপে নিন, যাতে ভেজা থাকে কিন্তু পানি না ঝরে।
- কাপড়ের ওপর দশ সারিতে দশটি করে বীজ সাজান, তারপর কাপড় গুটিয়ে নিন।
- গুটানো কাপড় একটি পলিথিন বা ঢাকনাওয়ালা বাক্সে রাখুন, যাতে শুকিয়ে না যায়; ঘরের উষ্ণ, ছায়াযুক্ত জায়গায়।
- প্রতিদিন দেখুন কাপড় ভেজা আছে কি না; শুকালে কয়েক ফোঁটা পানি।
- নির্ধারিত দিনে কাপড় খুলে গুনুন: যে বীজের সুস্থ শিকড় বেরিয়েছে, শুধু সেগুলোই গজানো ধরুন।
লাউ, কুমড়া, শিমের মতো বড় বীজের জন্য বালির ট্রে ভালো: একটি ট্রেতে ভেজা বালি, তাতে বীজ বসিয়ে দিন, আর কয়েক দিন পর কয়টি চারা মাটির ওপরে উঠল তা গুনুন। এটি মাঠের অবস্থার কাছাকাছি ফল দেয়।
কত দিনে গুনবেন, কত হলে চলবে
| ফসল | গোনার দিন (আনুমানিক) | ভালো লট |
|---|---|---|
| ধান | ৫–৭ | ৮০% বা বেশি |
| মসুর, মুগ, খেসারি, শিম, বরবটি | ৫–৭ | ৭৫% বা বেশি |
| লাউ, কুমড়া, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, শসা, করলা | ৬–১০ | ৭০% বা বেশি |
| টমেটো, বেগুন, মরিচ | ৭–১৪ | ৭০% বা বেশি |
| লালশাক, ডাঁটা, মুলা, সরিষা | ৩–৭ | ৭৫% বা বেশি |
| পালং, ধনিয়া, পেঁয়াজ, কালোজিরা | ৭–১৪ | ৬০–৭০% বা বেশি |
এগুলো ঘরোয়া পরীক্ষার জন্য মোটামুটি মান, সরকারি বীজ প্রত্যয়নের মান নয়। পুরোনো দেশি জাতে হার কিছুটা কম হলেও বীজ ফেলে দেওয়ার দরকার নেই; বেশি করে বুনলেই চলে।
ফল অনুযায়ী কী করবেন
- ভালো হার: স্বাভাবিক হারে বুনুন।
- মাঝারি হার: হিসাব যন্ত্রের প্রস্তাবিত হারে বেশি বীজ বুনুন; চারা ঘন হলে পরে পাতলা করুন।
- কম হার: ধান বা ডালের মতো ফসলে এই লট দিয়ে পুরো জমি নয়; নতুন বীজ সংগ্রহ করুন, আর এই লট থেকে অল্প জমিতে বুনে আবার বীজ রাখুন, যাতে জাতটি হারিয়ে না যায়।
- প্রতিটি ফল রেজিস্টারে: তারিখ আর হারসহ বীজ রেজিস্টারে। বছর বছর হার কমতে থাকলে বুঝবেন সংরক্ষণে সমস্যা আছে।
সাধারণ ভুল
- শুধু বড়, সুন্দর বীজ বেছে পরীক্ষা করা; তাতে হার আসলের চেয়ে বেশি দেখায়।
- কাপড় শুকিয়ে যেতে দেওয়া বা অতিরিক্ত পানিতে ডুবিয়ে রাখা; দুটোতেই বীজ পচে বা গজায় না।
- খুব আগে গুনে ফেলা; ধীরে গজানো বীজও ভালো চারা দিতে পারে।
কখন পরীক্ষা করবেন
বোনার দুই-তিন সপ্তাহ আগে, যাতে খারাপ ফল হলে নতুন বীজ জোগাড়ের সময় থাকে। শস্য ক্যালেন্ডার দেখে প্রতি মাসের শুরুতে পরের মাসের ফসলগুলোর বীজ পরীক্ষা করা সবচেয়ে সুবিধাজনক। নিরাপত্তা মজুদের বীজ বছরে একবার অল্প সংখ্যায় পরীক্ষা করুন।