রক্ষণাবেক্ষণ ও মুতাওয়াল্লি
মসজিদ বানানো এক দিনের কাজ, চালিয়ে যাওয়া প্রজন্মের। মুতাওয়াল্লি হলেন ওয়াকফ সম্পত্তির আমানতদার; তাঁর পাশে একটি ছোট কমিটি আর স্পষ্ট হিসাব থাকলে মসজিদ বছরের পর বছর পরিচ্ছন্ন, আলোকিত আর সক্রিয় থাকে।
মুতাওয়াল্লি কে
মুতাওয়াল্লি ওয়াকফ সম্পত্তির মালিক নন, তত্ত্বাবধায়ক। তিনি ওয়াকফ দলিলে লেখা উদ্দেশ্য অনুযায়ী সম্পত্তি রক্ষা ও পরিচালনা করেন, আর আল্লাহর কাছে ও আইনের কাছে জবাবদিহি করেন। প্রথম মুতাওয়াল্লির নাম দলিলে থাকবে; প্রস্তাব হলো ওয়াকিফ পরিবারের একজন সৎ, এলাকায় পরিচিত সদস্য, অথবা এলাকার একজন সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। দলিলেই লেখা থাকবে তাঁর মৃত্যু, অক্ষমতা বা পদত্যাগে পরবর্তী মুতাওয়াল্লি কীভাবে নির্ধারিত হবেন, যাতে কখনো শূন্যতা বা বিরোধ না হয়।
মুতাওয়াল্লির দায়িত্ব
- জমি ও স্থাপনার সুরক্ষা; সীমানা দখলমুক্ত রাখা।
- ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়োগ ও তাঁদের সম্মানী নিয়মিত দেওয়া, কমিটির পরামর্শে।
- দান গ্রহণ, রসিদ দেওয়া, আর আলাদা খাতা ও প্রয়োজনে আলাদা ব্যাংক হিসাব।
- রক্ষণাবেক্ষণের সূচি মেনে কাজ করানো।
- ওয়াকফ প্রশাসনের প্রযোজ্য বিবরণী ও নথি সময়মতো জমা।
- মাসে একবার আয়-ব্যয়ের সারসংক্ষেপ মসজিদের নোটিশ বোর্ডে।
মসজিদ কমিটি
মুতাওয়াল্লিকে সহায়তার জন্য পাঁচ-সাত সদস্যের একটি ছোট কমিটি: মুতাওয়াল্লি, ইমাম সাহেব, খামারের পরিবারগুলোর একজন প্রতিনিধি, আর নিয়মিত মুসল্লিদের মধ্য থেকে কয়েকজন প্রতিবেশী। এতে মসজিদ খামারের পরিবারগুলোর একার না হয়ে এলাকার সবার হয়ে ওঠে। কমিটি মাসে একবার বসবে, আর বছরে একবার মুসল্লিদের সামনে হিসাব পেশ করবে।
আয় ও ব্যয়
আয়ের উৎস
- মুসল্লি ও শুভানুধ্যায়ীদের দান
- খামারের পরিবারগুলোর নিয়মিত মাসিক অনুদান (স্বেচ্ছায়, খামারের হিসাব থেকে নয়)
- প্লটের গাছের ফল (দলিলে উদ্দেশ্য থাকলে)
- জুমার দান বাক্স
ব্যয়ের খাত
- ইমাম ও মুয়াজ্জিনের সম্মানী
- পরিচ্ছন্নতা ও পানি
- সোলার ও বাতি-পাখার রক্ষণাবেক্ষণ
- জায়নামাজ, কার্পেট, কুরআন শরিফ
- মেরামত ও চুনকাম
বিদ্যুৎ বিল নেই, কারণ নিজস্ব সোলার; তবে কয়েক বছর পর ব্যাটারি বদলানোর জন্য প্রতি মাসে একটি ছোট অঙ্ক আলাদা সংরক্ষিত তহবিলে রাখা হবে।
রক্ষণাবেক্ষণ সূচি
| কখন | কাজ | কে |
|---|---|---|
| প্রতিদিন | মেঝে ঝাড়ু, অজুখানা পরিষ্কার, পানির ট্যাংক ও কল দেখা, ফজর-এশায় বাতি | মুয়াজ্জিন বা খাদেম |
| সাপ্তাহিক (জুমার আগে) | কার্পেট ঝাড়া, জানালা মোছা, শৌচাগার ধোয়া, সোলার প্যানেলের ধুলা দেখা | খাদেম, স্বেচ্ছাসেবী মুসল্লি ও খামারের পালার পরিবার |
| মাসিক | হিসাব নোটিশ বোর্ডে, ব্যাটারির চার্জ ও ইনভার্টারের সতর্কবার্তা দেখা, পাখা পরিষ্কার | মুতাওয়াল্লি |
| রমজানের আগে | বাড়তি মুসল্লির প্রস্তুতি, ইফতারের জায়গা, বাতি ও পাখা পরীক্ষা | কমিটি |
| বর্ষার আগে | ছাদ, গম্বুজ ও নালা মেরামত, পানি চুইয়ে পড়ছে কি না | মুতাওয়াল্লি ও রাজমিস্ত্রি |
| বার্ষিক | চুনকাম, কাঠের দরজা-জানালা রং, সৌর ব্যবস্থার টেকনিশিয়ান পরিদর্শন, হিসাব নিরীক্ষা ও মুসল্লিদের সামনে পেশ | কমিটি |
জবাবদিহি
ওয়াকফের সম্পদ আমানত, আর এর খেয়ানত কঠিন গুনাহ। তাই মসজিদের প্রতিটি টাকার রসিদ, প্রতি মাসে নোটিশ বোর্ডে হিসাব, আর বছরে একবার কমিটির বাইরের একজন দিয়ে নিরীক্ষা। মসজিদের হিসাব খামারের হিসাবের সাথে কখনো মিশবে না; খামারের কোনো পরিবার মসজিদে দান করতে চাইলে তা সরাসরি মুতাওয়াল্লির কাছে, রসিদসহ। খামারের হিসাবের নিয়ম আলাদা, হিসাব ও স্বচ্ছতা পাতায়।
খামারের সাথে সম্পর্ক
মসজিদ খামারের সম্পত্তি নয়, তবে খামারের প্রতিবেশী আর সবচেয়ে কাছের বন্ধু। খামারের পালার পরিবার সপ্তাহে একবার জুমার আগে পরিচ্ছন্নতায় হাত লাগাবেন, উদ্বৃত্ত সবজি বা ফল প্রয়োজনে মুসল্লি ও অভাবীদের মধ্যে বিতরণে মসজিদকে মাধ্যম করা যাবে, আর রমজানে খামারের দুধ-ফল দিয়ে ইফতারে অংশ নেওয়া যাবে। এসব সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়, খামারের বণ্টন নীতির সদকা অংশ থেকে।