মূল পরিকল্পনা

মালিকানা ও ফান্ডিং কাঠামো

পাঁচটি পরিবার, একটি খামার। কে কত দেবে, খরচ কীভাবে ভাগ হবে, খাবার কীভাবে বণ্টন হবে, আর ভবিষ্যতে কেউ বেরিয়ে গেলে বা নতুন কেউ এলে কী হবে।

অংশের কাঠামো

খামারের মোট বিনিয়োগের ৬০ শতাংশ দেবে উদ্যোক্তা পরিবার। বাকি চার পরিবার প্রত্যেকে ১০ শতাংশ করে দেবে। সব মিলিয়ে ৬০ + ১০ + ১০ + ১০ + ১০ = ১০০ শতাংশ। এই অনুপাতই সব হিসাবের ভিত্তি: প্রাথমিক বিনিয়োগ, চলমান খরচ, সংরক্ষণযোগ্য খাবারের ভাগ আর বড় আর্থিক সিদ্ধান্তে ভোটের ওজন।

মালিকানার অনুপাত: উদ্যোক্তা পরিবার ৬০ শতাংশ, বাকি চার পরিবার ১০ শতাংশ করে
  • উদ্যোক্তা পরিবার৬০%
  • পরিবার ২১০%
  • পরিবার ৩১০%
  • পরিবার ৪১০%
  • পরিবার ৫১০%
  • মোট১০০%

ভাগের হিসাব যন্ত্র

মোট বাজেট এখনো চূড়ান্ত নয়; জমির দাম আর নির্মাণ খরচ এলাকাভেদে অনেক আলাদা। নিচের ঘরে যেকোনো অঙ্ক লিখলে দেখাবে কোন পরিবারের ভাগে কত পড়বে। ইংরেজি বা বাংলা দুই অঙ্কেই লেখা যাবে।

ঘরে বসানো অঙ্কগুলো শুধু উদাহরণ, বাজেটের প্রস্তাব নয়। আসল খরচ জমি ও স্থানীয় দর দেখে ঠিক হবে।

টাকা কোথায় যাবে

প্রাথমিক বিনিয়োগ মোটামুটি নিচের খাতগুলোতে ভাগ হবে। প্রতিটি খাতের সঠিক অঙ্ক স্থানীয় দর যাচাই করে, অন্তত তিনটি দরপত্র নিয়ে ঠিক করতে হবে।

প্রাথমিক বিনিয়োগের খাত
খাতযা যা থাকছেকখন
জমিদশ বিঘা জমির দাম, দলিল রেজিস্ট্রি খরচ, নামজারি, জরিপপর্যায় ১
সীমানা ও ফটকপ্রায় ৪৬৮ মিটার দেয়াল, ফটক, পানি নিষ্কাশনের পথপর্যায় ১
মাটির কাজদুটি পুকুর খনন, পাড় বাঁধা, জমি সমান করা, আইলপর্যায় ১, শুকনো মৌসুমে
পানিনলকূপ, সোলার পাম্প, উঁচু ট্যাংক, পাইপলাইনপর্যায় ১
শক্তি৫ কিলোওয়াট সৌর ব্যবস্থা ও ব্যাটারি; পরে ১০ কিলোওয়াটে উন্নীতপর্যায় ১ ও ৩
ঘরবাড়িবসতঘর, অতিথিশালা, সীড ব্যাংক, ব্যাটারি ঘরপর্যায় ১–২
প্রাণিসম্পদগোয়াল, ছাগল ও মুরগির ঘর, প্রথম পশুপাখি, বায়োগ্যাস প্ল্যান্টপর্যায় ১–২
যন্ত্রপাতিহাতের যন্ত্র, পাওয়ার টিলার বা ভাড়ার ব্যবস্থা, স্প্রেয়ার, ভ্যানপর্যায় ১
সংরক্ষিত তহবিলঅন্তত ছয় মাসের চলমান খরচ ও জরুরি মেরামতশুরুতেই আলাদা রাখা

মসজিদ ও ওয়াকফ জমির খরচ এই হিসাবের বাইরে থাকবে। কোনো পরিবার চাইলে নিজের অংশের বাইরে ওয়াকফে দান করতে পারে; সেটা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং আলাদা খাতায়। বিস্তারিত ওয়াকফ জমির উদ্দেশ্য পাতায়।

টাকা কখন দিতে হবে

পুরো টাকা একবারে দেওয়া কঠিন হতে পারে, তাই কিস্তিতে ভাগ করার প্রস্তাব। প্রতিটি কিস্তি একটি নির্দিষ্ট কাজের সাথে বাঁধা থাকবে, যাতে টাকা অলস পড়ে না থাকে।

  1. প্রথম কিস্তি: জমি কেনা ও রেজিস্ট্রি। জমি চূড়ান্ত হওয়ার আগে সবার কাছ থেকে নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি।
  2. দ্বিতীয় কিস্তি: দেয়াল, পুকুর খনন, নলকূপ ও সৌর ব্যবস্থা।
  3. তৃতীয় কিস্তি: ঘরবাড়ি, গোয়াল, পশুপাখি ও বায়োগ্যাস।
  4. পরবর্তী: ১০ কিলোওয়াট উন্নীতকরণের মতো বড় কাজ আলাদা সিদ্ধান্তে, একই অনুপাতে।

কোনো পরিবার নির্ধারিত সময়ে কিস্তি দিতে না পারলে অন্য পরিবার সাময়িকভাবে সেটা দিতে পারে, তবে তা লিখিত ধার হিসেবে খাতায় থাকবে। এতে মালিকানার অনুপাত বদলাবে না, যদি না সব পক্ষ লিখিতভাবে রাজি হয়।

চলমান খরচ

শ্রমিকের মজুরি, পশুখাদ্যের ঘাটতি, ভেটেরিনারি খরচ, মেরামত, ভূমি উন্নয়ন কর, যাতায়াত, এসব চলমান খরচ একই ৬০/১০/১০/১০/১০ অনুপাতে ভাগ হবে। প্রতি মাসের শুরুতে একটি যৌথ তহবিলে টাকা জমা হবে, আর মাস শেষে খরচের হিসাব সবার কাছে পাঠানো হবে। হিসাবের নিয়ম হিসাব ও স্বচ্ছতা পাতায়।

খাবারের ভাগ

খামার অবাণিজ্যিক, তাই “লাভ” নয়, খাবারই আসল ফল। বণ্টনের মূলনীতি দুটি:

  • সংরক্ষণযোগ্য ফসল (চাল, ডাল, সরিষা, তিল, শুকনো মসলা, পেঁয়াজ, রসুন): মৌসুম শেষে মালিকানার অনুপাতে ভাগ।
  • টাটকা খাবার (সবজি, দুধ, ডিম, মাছ): পচনশীল বলে সাপ্তাহিক পালা ও প্রয়োজন দেখে ভাগ, তবে বছর শেষে মোট হিসাব মালিকানার অনুপাতের কাছাকাছি রাখার চেষ্টা।

দুই ক্ষেত্রেই আগে খামারের নিজের প্রয়োজন (বীজ, পশুখাদ্য, শ্রমিকদের অংশ) আলাদা করা হবে, আর উদ্বৃত্তের একটি অংশ প্রতিবেশী ও অভাবীদের জন্য। বিস্তারিত উৎপাদন বণ্টন নীতি পাতায়। ফসলের উশর আদায়ের নিয়ম নিয়ে একজন বিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নেওয়া হবে।

পাঁচ পরিবারের যৌথ মালিকানা কাগজে কীভাবে লেখা হবে, তার কয়েকটি বিকল্প আছে। প্রতিটির সুবিধা-অসুবিধা একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে বসে চূড়ান্ত করতে হবে।

যৌথ দলিল

জমি সবার নামে, দলিলে প্রত্যেকের অংশ লেখা। সহজ, তবে পরে কেউ অংশ বিক্রি করতে চাইলে জটিলতা হতে পারে।

নিবন্ধিত অংশীদারি চুক্তি

জমির দলিলের পাশাপাশি রেজিস্ট্রি করা অংশীদারি চুক্তি, যেখানে পরিচালনা, ভাগ ও প্রস্থানের নিয়ম লেখা।

সমবায় বা অন্য প্রতিষ্ঠান

একটি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের নামে জমি; প্রতিষ্ঠানের নিয়মে পরিবারগুলো সদস্য। কাগজপত্র বেশি, তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল।

উত্তরাধিকার, প্রস্থান ও নতুন অংশীদার

  • উত্তরাধিকার: কোনো অংশীদার মারা গেলে তাঁর অংশ ইসলামি উত্তরাধিকার আইন (ফারায়েজ) অনুযায়ী ওয়ারিশদের কাছে যাবে। ওয়ারিশরা চাইলে অংশীদার হিসেবে থাকতে পারবেন, অথবা অন্য পরিবারগুলোকে ন্যায্য দামে বিক্রির প্রস্তাব দিতে পারবেন।
  • প্রথম ক্রয়াধিকার: কোনো পরিবার অংশ বিক্রি করতে চাইলে প্রথমে বাকি পরিবারগুলোকে প্রস্তাব দিতে হবে। তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে না কিনলে তবেই বাইরের কাউকে, আর সেটাও পরিষদের সম্মতিতে।
  • দাম নির্ধারণ: জমির তখনকার বাজারদর আর স্থাপনার অবচয় ধরে, দুই পক্ষের পছন্দের একজন নিরপেক্ষ মূল্যায়নকারীর মাধ্যমে।
  • নতুন অংশীদার: সর্বসম্মতি ছাড়া নয়। নতুন কেউ এলে সবার অংশ আনুপাতিক হারে সমন্বয় হবে, আর নতুন অনুপাত লিখিত হবে।
  • খামার ভাঙা নয়: জমি টুকরো করে ভাগ করা হবে না। কেউ বেরিয়ে গেলে তাঁকে টাকায় অংশ ফেরত দেওয়া হবে, জমির টুকরো নয়।