কৈ
শক্ত প্রাণের কৈ মাছ পানির বাইরেও অনেকক্ষণ বেঁচে থাকে। দেশি কৈ ছোট পুকুরের জিওল মাছের দলে সবচেয়ে দ্রুত আহরণযোগ্য।
- নাম
- কৈ · Climbing perch · Anabas testudineus
- পরিবার
- কৈজাতীয় (অ্যানাবান্টিডি)
- পানির স্তর
- মাঝের ও তলার স্তর
- কোন পুকুরে
- ছোট পুকুর
- খাদ্যাভ্যাস
- সর্বভুক: পোকা, ছোট প্রাণী, জৈব কণা
- মজুদ ঘনত্ব
- জৈব ব্যবস্থায় প্রতি শতাংশে প্রায় ৫০–৮০টি
- বৃদ্ধি ও আহরণ
- ৪–৬ মাসে প্রায় ৫০–১০০ গ্রাম
পরিচিতি
কৈ ছোট, চ্যাপ্টা, কাঁটাওয়ালা পাখনার মাছ; রং সবুজাভ-বাদামি। বাতাস থেকে শ্বাস নিতে পারে আর ভেজা ঘাসের ওপর দিয়ে চলতেও পারে। বাজারে থাই কৈ নামে বড় আকারের একটি উন্নত জাত পাওয়া যায়, তবে আমাদের পছন্দ দেশি কৈ, স্বাদ আর দেশি বৈচিত্র্যের জন্য।
দেশি কৈ একসময় প্রতিটি ধানক্ষেত, ডোবা আর বিলে প্রচুর পাওয়া যেত; জলাশয় ভরাট আর কীটনাশকের কারণে এখন অনেক কমে গেছে। নিজেদের ছোট পুকুরে দেশি কৈ রাখা তাই শুধু খাবারের জন্য নয়, এলাকার একটি পরিচিত মাছকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টাও। প্রতিবেশীরা চাইলে আমাদের পুকুরের কৈ থেকে মা-বাবা মাছ নিয়ে নিজেদের ডোবায় ছাড়তে পারবেন।
কোন পুকুরে, কোন স্তরে
ছোট পুকুর, শিং আর মাগুরের সাথে। কৈ অগভীর, আগাছাযুক্ত কিনারা পছন্দ করে। ছোট পুকুরের এক কোণে কিছু জলজ উদ্ভিদ (কলমি বা শাপলা) রাখলে আশ্রয় আর খাবার দুটোই পায়।
মজুদ ঘনত্ব
প্রতি শতাংশে প্রায় ৫০–৮০টি, তবে শিং-মাগুরের সাথে মিলিয়ে ছোট পুকুরের মোট জিওল মাছ জৈব ব্যবস্থায় প্রতি শতাংশে মোটামুটি ১০০–১৫০টির মধ্যে রাখা হবে। ছোট পুকুরের মডেল দেখুন।
খাবার
কেঁচো, ছোট পোকা, কুঁড়া-খৈলের মণ্ড, ক্ষুদিপানা, রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট। কৈ দিনেও খায়, তাই সকালে একবার খাবার যথেষ্ট। হাঁসের বিষ্ঠায় জন্মানো প্রাকৃতিক খাবারও খায়।
বৃদ্ধি ও আহরণ
দেশি কৈ চার থেকে ছয় মাসে প্রায় পঞ্চাশ থেকে একশ গ্রাম। দ্রুত আহরণযোগ্য বলে বছরে দুই দফা ছাড়া ও তোলা যায়: বৈশাখে ছাড়া পোনা ভাদ্র-আশ্বিনে, আর আষাঢ়ে ছাড়া পোনা অগ্রহায়ণে। কৈ পানির বাইরে অনেকক্ষণ বেঁচে থাকে, তাই আহরণের পর জীবিত অবস্থায় বালতিতে রেখে প্রয়োজনমতো রান্না করা যায়, ফ্রিজের দরকার হয় না।
প্রজনন ও পোনা
বর্ষায় পুকুরে কিছু প্রাকৃতিক প্রজনন হয়, তবে নির্ভরযোগ্যতার জন্য দেশি কৈয়ের হ্যাচারি পোনা। দেশি কৈয়ের পোনা চিনতে বিক্রেতার কাছে নিশ্চিত হোন।
কার সাথে চলে
| সঙ্গী | সামঞ্জস্য | কারণ |
|---|---|---|
| শিং ও মাগুর | একসাথে চলে | একই পরিবেশ |
| হাঁস | একসাথে চলে | বড় কৈয়ের সাথে সমস্যা নেই |
| শোল | একসাথে নয় | কৈ খেয়ে ফেলে |
| তেলাপিয়া | সতর্কতায় চলে | খাবারে প্রতিযোগিতা |
রোগ ও জৈব প্রতিরোধ
| সমস্যা | লক্ষণ | প্রতিরোধ ও করণীয় |
|---|---|---|
| ক্ষত রোগ | শীতে গায়ে লাল দাগ | চুন, পরিচ্ছন্ন পানি, খাবার কমানো |
| লেজ পচা | লেজ ও পাখনা খসে যায় | পানি বদল; পচা খাবার নয় |
| অক্সিজেন ঘাটতি | ভোরে মাছ পানির ওপরে মুখ তুলে খাবি খায় | খাবার ও সার বন্ধ; নতুন পানি; বাঁশ দিয়ে পানি পেটানো; মেঘলা গুমোট দিনে বিশেষ সতর্কতা |
খামারে অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন বা রাসায়নিক ওষুধ ব্যবহার হবে না; প্রতিরোধের মূল উপায় পানির মান, সঠিক ঘনত্ব আর সুস্থ পোনা। রোগ ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিন। বিস্তারিত পানির গুণমান পাতায়।
পুষ্টিগুণ ও রান্না
কৈ আমিষ, আয়রন ও ক্যালসিয়ামে সমৃদ্ধ। কৈ ভাজা, কৈয়ের ঝোল, তেল কৈ আর পাতুরি জনপ্রিয়। কাঁটা শক্ত, শিশুদের খাওয়ানোর সময় সতর্কতা।
কোন মাছ কোন অনুপাতে একসাথে থাকবে, তার হিসাব মিশ্র চাষ মডেল পাতায়; খাবার তৈরির পদ্ধতি জৈব খাদ্য পাতায়।