মাগুর
দেশি মাগুর পুষ্টিকর ও সুস্বাদু জিওল মাছ। বাজারে প্রায়ই আফ্রিকান মাগুর দেশি বলে বিক্রি হয়; আমরা শুধু দেশি মাগুর চাষ করব।
- নাম
- মাগুর · Walking catfish (native) · Clarias batrachus
- পরিবার
- মাগুরজাতীয় (ক্লারিডি)
- পানির স্তর
- তলার স্তর
- কোন পুকুরে
- ছোট পুকুর
- খাদ্যাভ্যাস
- সর্বভুক, মাংসাশী প্রবণতা
- মজুদ ঘনত্ব
- জৈব ব্যবস্থায় প্রতি শতাংশে প্রায় ৩০–৫০টি
- বৃদ্ধি ও আহরণ
- ৮–১২ মাসে প্রায় ১০০–২০০ গ্রাম
পরিচিতি
দেশি মাগুরের রং বাদামি-কালচে, শরীর লম্বা, মাথা চ্যাপ্টা, গোঁফ চার জোড়া। শিংয়ের মতোই বাতাস থেকে শ্বাস নিতে পারে, আর ভেজা মাটির ওপর দিয়ে কিছুদূর চলতেও পারে। আফ্রিকান মাগুর আকারে অনেক বড় হয়, রং ধূসর ছোপযুক্ত; এটি রাক্ষুসে স্বভাবের, দেশি মাছের জন্য ক্ষতিকর, আর দেশে এর চাষ নিষিদ্ধ।
দেশি মাগুরের পোনা কেনার সময় বিক্রেতাকে নিশ্চিতভাবে জিজ্ঞেস করুন, আর সম্ভব হলে সরকারি মৎস্য খামার বা পরিচিত হ্যাচারি থেকে নিন।
কোন পুকুরে, কোন স্তরে
ছোট পুকুরের তলা, কাদা ও জলজ উদ্ভিদের আশপাশ। মাগুরও বর্ষার রাতে পুকুর থেকে বেরিয়ে যেতে পারে; পাড়ের নিচু বেড়া শিং আর মাগুর দুটির জন্যই কাজে লাগবে। কিছু ফাঁপা বাঁশ বা মাটির পাইপ তলায় রাখলে মাগুর লুকানোর জায়গা পায়।
মজুদ ঘনত্ব
জৈব ব্যবস্থায় প্রতি শতাংশে প্রায় ৩০–৫০টি, ছোট পুকুরে প্রায় ২০০–৩০০টি। শিং আর কৈ একসাথে থাকলে সংখ্যা ভাগ করে মোট ঘনত্ব কম রাখা হবে।
খাবার
মাগুর মাংসাশী প্রবণতার: কেঁচো, শামুক, ছোট মাছ, রান্নাঘরের মাছ-মাংসের উচ্ছিষ্ট, পোকার লার্ভা। ঘরে তৈরি খাবারের বলে কুঁড়া-খৈলের সাথে কেঁচো বা শুঁটকির গুঁড়া মিশিয়ে দেওয়া যায়। সন্ধ্যায় খাবার, পরিমিত।
বৃদ্ধি ও আহরণ
দেশি মাগুর আফ্রিকানের মতো দ্রুত বড় হয় না; আট থেকে বারো মাসে প্রায় একশ থেকে দুইশ গ্রাম। তবে স্বাদ ও পুষ্টিতে এটি অনেক বেশি কাঙ্ক্ষিত।
প্রজনন ও পোনা
দেশি মাগুর বর্ষায় পুকুরের পাড়ের গর্তে ডিম পাড়তে পারে, তবে ছোট পুকুরে বাচ্চার টিকে থাকা অনিশ্চিত। নিয়মিত উৎপাদনের জন্য হ্যাচারির পোনা।
কার সাথে চলে
| সঙ্গী | সামঞ্জস্য | কারণ |
|---|---|---|
| শিং | একসাথে চলে | একসাথে প্রচলিত |
| কৈ | একসাথে চলে | জিওল মাছ |
| হাঁস | একসাথে চলে | বড় মাছের সাথে সমস্যা নেই |
| ছোট দেশি মাছ | সতর্কতায় চলে | মাগুর ছোট মাছ খেতে পারে |
| আফ্রিকান মাগুর | একসাথে নয় | নিষিদ্ধ ও রাক্ষুসে |
রোগ ও জৈব প্রতিরোধ
| সমস্যা | লক্ষণ | প্রতিরোধ ও করণীয় |
|---|---|---|
| ক্ষত রোগ | শীতে গায়ে ক্ষত | চুন, খাবার কমানো, ঘনত্ব কম |
| পেট ফোলা | পেট ফোলে, মাছ ভেসে থাকে | পচা খাবার বন্ধ; পানি বদল |
| অক্সিজেন ঘাটতি | ভোরে মাছ পানির ওপরে মুখ তুলে খাবি খায় | খাবার ও সার বন্ধ; নতুন পানি; বাঁশ দিয়ে পানি পেটানো; মেঘলা গুমোট দিনে বিশেষ সতর্কতা |
খামারে অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন বা রাসায়নিক ওষুধ ব্যবহার হবে না; প্রতিরোধের মূল উপায় পানির মান, সঠিক ঘনত্ব আর সুস্থ পোনা। রোগ ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিন। বিস্তারিত পানির গুণমান পাতায়।
পুষ্টিগুণ ও রান্না
দেশি মাগুরে উচ্চমানের আমিষ আর আয়রন; শিংয়ের মতো রোগীর পথ্য হিসেবে প্রচলিত। মাগুরের ঝোল, মাগুর ভুনা আর কাঁচকলা দিয়ে মাগুর জনপ্রিয়। পিচ্ছিল গা পরিষ্কার করতে ছাই বা লবণ ব্যবহার করা হয়।
কোন মাছ কোন অনুপাতে একসাথে থাকবে, তার হিসাব মিশ্র চাষ মডেল পাতায়; খাবার তৈরির পদ্ধতি জৈব খাদ্য পাতায়।