মাছ ও পুকুর

পাঙ্গাস

পাঙ্গাস খুব দ্রুত বড় হয়, কিন্তু অনেক খাবার খায় আর প্রচুর বর্জ্য দেয়। আমাদের জৈব, কম খাবারের পুকুরে এটি থাকবে খুব সীমিত সংখ্যায়, অথবা একেবারেই নয়।

ঐচ্ছিকপানির মানে চাপসীমিত সংখ্যা
নাম
পাঙ্গাস · Pangas catfish · Pangasianodon hypophthalmus
পরিবার
পাঙ্গাসজাতীয় (প্যাঙ্গাসিডি)
পানির স্তর
মাঝের ও তলার স্তর
কোন পুকুরে
বড় পুকুর (খুব সীমিত, ঐচ্ছিক)
খাদ্যাভ্যাস
সর্বভুক; প্রচুর সম্পূরক খাবার চায়
মজুদ ঘনত্ব
রাখলে প্রতি শতাংশে প্রায় ২–৪টি
বৃদ্ধি ও আহরণ
৮–১০ মাসে প্রায় ১–১.৫ কেজি

পরিচিতি

বাজারের বেশির ভাগ পাঙ্গাস থাই পাঙ্গাস নামে পরিচিত বিদেশি প্রজাতি। দেশি পাঙ্গাস (প্যাঙ্গাসিয়াস প্যাঙ্গাসিয়াস) নদীর মাছ, এখন বিরল, পুকুরে চাষ কঠিন। থাই পাঙ্গাস বাণিজ্যিক খামারে ঘন করে, প্রচুর পিলেট খাবারে চাষ হয়।

আমাদের খামারে পাঙ্গাস রাখার পক্ষে যুক্তি একটাই: অল্প সময়ে বড় মাছ। বিপক্ষে যুক্তি অনেক: বেশি খাবার, পানির মান খারাপ হওয়া, তলায় বর্জ্য জমা, আর কার্পের সাথে প্রতিযোগিতা। তাই প্রস্তাব হলো প্রথম দুই বছর পাঙ্গাস ছাড়াই, তারপর অভিজ্ঞতা দেখে সিদ্ধান্ত।

কোন পুকুরে, কোন স্তরে

রাখলে শুধু বড় পুকুরে, গভীর অংশে। পাঙ্গাস দ্রুত সাঁতরায় আর পানির মাঝের স্তরে ঘুরে বেড়ায়। ছোট পুকুরে একেবারেই নয়।

মজুদ ঘনত্ব

রাখলে প্রতি শতাংশে প্রায় ২–৪টি, অর্থাৎ বড় পুকুরে পঞ্চাশ থেকে একশটির বেশি নয়, আর তখন কার্পের সংখ্যা কিছুটা কমাতে হবে। বাণিজ্যিক ঘনত্বের ধারেকাছেও নয়।

খাবার

পাঙ্গাস প্রচুর সম্পূরক খাবার চায়। জৈব খামারে এর জন্য কুঁড়া, খৈল, ভাঙা চালের গুঁড়া, রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট আর কেঁচো দিয়ে ঘরে তৈরি খাবার দিতে হবে। অজানা উপাদানের বাণিজ্যিক পিলেট খাবার ব্যবহার করা হবে না। খাবার বেশি দিলে পানির মান দ্রুত খারাপ হয়, তাই খাবারের ট্রে দিয়ে নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

বৃদ্ধি ও আহরণ

পর্যাপ্ত খাবারে আট থেকে দশ মাসে প্রায় এক থেকে দেড় কেজি। খাবার কম হলে বৃদ্ধিও অনেক কম; জৈব ব্যবস্থায় প্রত্যাশা সংযত রাখা ভালো।

প্রজনন ও পোনা

পুকুরে প্রজনন হয় না; হ্যাচারির পোনা। তাই সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সহজ: যত ছাড়বেন, তত।

কার সাথে চলে

পাঙ্গাস-এর সাথে অন্য মাছের সামঞ্জস্য
সঙ্গীসামঞ্জস্যকারণ
রুই, কাতলা সতর্কতায় চলেখাবারে প্রতিযোগিতা, পানির মানে চাপ
মৃগেল সতর্কতায় চলেতলায় বর্জ্য জমায়
গলদা সতর্কতায় চলেপানির মান খারাপ হলে চিংড়ির ক্ষতি
ছোট দেশি মাছ একসাথে চলেসরাসরি ক্ষতি করে না

রোগ ও জৈব প্রতিরোধ

পাঙ্গাস-এর প্রধান রোগ ও প্রতিরোধ
সমস্যালক্ষণপ্রতিরোধ ও করণীয়
অক্সিজেন ঘাটতিভোরে মাছ পানির ওপরে মুখ তুলে খাবি খায়খাবার ও সার বন্ধ; নতুন পানি; বাঁশ দিয়ে পানি পেটানো; মেঘলা গুমোট দিনে বিশেষ সতর্কতা
পেট ফোলা ও লাল দাগঅতিরিক্ত খাবার ও নোংরা পানিতেখাবার কমানো; পানি বদল; ঘনত্ব কম
ফুলকা পচাফুলকা ফ্যাকাশে বা পচা, মাছ পানির ওপরে খাবি খায়অতিরিক্ত খাবার ও সার বন্ধ; নতুন পানি দেওয়া; পানি নাড়িয়ে অক্সিজেন বাড়ানো

খামারে অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন বা রাসায়নিক ওষুধ ব্যবহার হবে না; প্রতিরোধের মূল উপায় পানির মান, সঠিক ঘনত্ব আর সুস্থ পোনা। রোগ ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিন। বিস্তারিত পানির গুণমান পাতায়।

পুষ্টিগুণ ও রান্না

পাঙ্গাস আমিষের সাশ্রয়ী উৎস; চর্বি তুলনামূলক বেশি, কাঁটা খুব কম। জৈব পুকুরের পাঙ্গাসে কাদার গন্ধ কম রাখতে আহরণের আগে কয়েক দিন খাবার বন্ধ রেখে পরিষ্কার পানিতে রাখা ভালো।

পুরো ছবিটা

কোন মাছ কোন অনুপাতে একসাথে থাকবে, তার হিসাব মিশ্র চাষ মডেল পাতায়; খাবার তৈরির পদ্ধতি জৈব খাদ্য পাতায়।