মাছ ও পুকুর

শিং

বাতাস থেকে শ্বাস নিতে পারা জিওল মাছ শিং কম অক্সিজেন আর অগভীর পানিতেও বাঁচে। ছোট পুকুরে হাঁসের সাথে চাষের জন্য উপযুক্ত, আর রোগীর পথ্য হিসেবে বিখ্যাত।

জিওল মাছছোট পুকুররোগীর পথ্য
নাম
শিং · Stinging catfish · Heteropneustes fossilis
পরিবার
শিংজাতীয় (হেটারোনিউস্টিডি)
পানির স্তর
তলার স্তর
কোন পুকুরে
ছোট পুকুর
খাদ্যাভ্যাস
সর্বভুক: ছোট পোকা, কেঁচো, জৈব কণা
মজুদ ঘনত্ব
জৈব ব্যবস্থায় প্রতি শতাংশে প্রায় ৫০–১০০টি
বৃদ্ধি ও আহরণ
৬–৮ মাসে প্রায় ৪০–৭০ গ্রাম

পরিচিতি

শিংয়ের শরীর লম্বা, কালচে বা লালচে বাদামি, মুখে চার জোড়া গোঁফ। বুকের পাখনায় একটি করে বিষাক্ত কাঁটা থাকে, যার খোঁচা খুব যন্ত্রণাদায়ক। অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্রের কারণে পানির ওপর থেকে বাতাস নিতে পারে, তাই কম অক্সিজেনেও টিকে থাকে।

ছোট পুকুরটি জিওল মাছের জন্য নকশা করা: শিং, দেশি মাগুর আর কৈ। হাঁস এই পুকুরে চরে, আর হাঁসের বিষ্ঠা পানিতে প্রাকৃতিক খাবার বাড়ায়।

কোন পুকুরে, কোন স্তরে

ছোট পুকুরের তলা আর কিনারার কাদা, জলজ উদ্ভিদের আশপাশ। শিং পুকুর থেকে মাটির ওপর দিয়ে বেয়ে বেরিয়ে যেতে পারে, বিশেষ করে বর্ষার বৃষ্টির রাতে; তাই ছোট পুকুরের পাড়ে নিচু জালের বা টিনের বেড়া দিতে হবে।

মজুদ ঘনত্ব

বাণিজ্যিক খামারে অনেক বেশি ঘনত্বে চাষ হলেও আমাদের জৈব, কম খাবারের ব্যবস্থায় প্রতি শতাংশে প্রায় ৫০–১০০টি পোনা যথেষ্ট; প্রায় ৬ শতাংশের ছোট পুকুরে ৩০০–৬০০টি। মাগুর ও কৈ একসাথে রাখলে প্রত্যেকের সংখ্যা কমিয়ে মোট ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

খাবার

শিং সর্বভুক: কেঁচো (ভার্মি কম্পোস্টের হাউজ থেকে), কুঁচানো শামুক, ছোট পোকা, রান্নাঘরের মাছ-মাংসের উচ্ছিষ্ট, কুঁড়া-খৈলের ভেজা মণ্ড। সন্ধ্যায় খাবার দেওয়া ভালো, কারণ শিং রাতে বেশি সক্রিয়। বাড়তি খাবার পচে ছোট পুকুরের পানি দ্রুত নষ্ট করে, তাই অল্প অল্প।

বৃদ্ধি ও আহরণ

ছয় থেকে আট মাসে প্রায় চল্লিশ থেকে সত্তর গ্রাম, খাবার ও ঘনত্বভেদে। ঘন ঘন জাল টেনে নয়, প্রয়োজনমতো অল্প অল্প আহরণ; শুকনো মৌসুমে পানি কমিয়ে বাকিটা।

প্রজনন ও পোনা

শিং বর্ষায় পুকুরে কিছুটা প্রাকৃতিক প্রজনন করতে পারে, তবে নির্ভরযোগ্য উৎপাদনের জন্য হ্যাচারির পোনা কেনা ভালো। হাঁস খুব ছোট পোনা খেয়ে ফেলতে পারে, তাই পোনা ছাড়ার পর কয়েক সপ্তাহ হাঁস পুকুরের একটি অংশে জাল দিয়ে আলাদা রাখা যায়।

কার সাথে চলে

শিং-এর সাথে অন্য মাছের সামঞ্জস্য
সঙ্গীসামঞ্জস্যকারণ
দেশি মাগুর একসাথে চলেএকসাথে প্রচলিত; মোট ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণে
কৈ একসাথে চলেজিওল মাছ, একই পরিবেশ
হাঁস একসাথে চলেবিষ্ঠা খাবার বাড়ায়; ছোট পোনা থাকলে সতর্ক
শোল একসাথে নয়শিংয়ের পোনা খেয়ে ফেলে
কার্প মাছ সতর্কতায় চলেছোট পুকুরে জায়গা ও অক্সিজেনে টান

রোগ ও জৈব প্রতিরোধ

শিং-এর প্রধান রোগ ও প্রতিরোধ
সমস্যালক্ষণপ্রতিরোধ ও করণীয়
ক্ষত রোগশীতে গায়ে লাল ক্ষতশীতে চুন দিয়ে পিএইচ ঠিক রাখা; খাবার কমানো; ঘনত্ব কম
লেজ ও পাখনা পচাপাখনার কিনারা সাদা হয়ে খসে যায়পানি বদল; পচা খাবার সরানো
অতিরিক্ত ঘনত্বের চাপমাছ দুর্বল, বৃদ্ধি থেমে যায়আংশিক আহরণ করে সংখ্যা কমানো

খামারে অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন বা রাসায়নিক ওষুধ ব্যবহার হবে না; প্রতিরোধের মূল উপায় পানির মান, সঠিক ঘনত্ব আর সুস্থ পোনা। রোগ ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিন। বিস্তারিত পানির গুণমান পাতায়।

পুষ্টিগুণ ও রান্না

শিংয়ে আয়রনের পরিমাণ অনেক মাছের চেয়ে বেশি, সাথে উচ্চমানের আমিষ; তাই দীর্ঘদিন ধরে রোগী, প্রসূতি আর রক্তস্বল্পতায় ভোগা মানুষের পথ্য। শিংয়ের পাতলা ঝোল কাঁচকলা বা পেঁপে দিয়ে জনপ্রিয়। কাটার সময় কাঁটা থেকে সাবধান; খোঁচা লাগলে ক্ষত গরম পানিতে কিছুক্ষণ রাখলে যন্ত্রণা কমে, বেশি ফুললে চিকিৎসক।

পুরো ছবিটা

কোন মাছ কোন অনুপাতে একসাথে থাকবে, তার হিসাব মিশ্র চাষ মডেল পাতায়; খাবার তৈরির পদ্ধতি জৈব খাদ্য পাতায়।