শোল
শোল শিকারি মাছ। ভুলভাবে রাখলে কার্পের পোনা খেয়ে শেষ করে, আবার সঠিক সংখ্যায় রাখলে তেলাপিয়া ও আগাছা মাছের অতিরিক্ত বাচ্চা নিয়ন্ত্রণ করে।
- নাম
- শোল · Snakehead murrel · Channa striata
- পরিবার
- শোলজাতীয় (চ্যানিডি)
- পানির স্তর
- তলার ও কিনারার স্তর
- কোন পুকুরে
- বড় পুকুর (খুব সীমিত)
- খাদ্যাভ্যাস
- শিকারি: ছোট মাছ, ব্যাঙাচি, পোকা
- মজুদ ঘনত্ব
- পুরো বড় পুকুরে মাত্র কয়েকটি (প্রতি ৩–৫ শতাংশে ১টি)
- বৃদ্ধি ও আহরণ
- এক বছরে প্রায় ৫০০ গ্রাম–১ কেজি
পরিচিতি
শোলের শরীর লম্বা, মাথা সাপের মতো চ্যাপ্টা, গায়ে কালো-বাদামি ডোরা। বাতাস থেকে শ্বাস নিতে পারে, তাই শুকনো মৌসুমে কাদার মধ্যেও টিকে থাকে। দেশি মাছ হিসেবে স্বাদ ও পুষ্টির জন্য বিখ্যাত।
আমাদের নীতি: শোল বড় পুকুরে খুব কম সংখ্যায়, আর কার্পের পোনা যথেষ্ট বড় হওয়ার পরে। ছোট পুকুরে শোল নয়, কারণ শিং-কৈয়ের পোনা আর হাঁসের ছানার জন্য ঝুঁকি।
কোন পুকুরে, কোন স্তরে
বড় পুকুরের কিনারার জলজ উদ্ভিদ ও তলার কাছাকাছি। শোল প্রায়ই পুকুরে নিজে থেকেই চলে আসে বর্ষার পানির সাথে; তাই পানি ঢোকার নালায় জাল দেওয়া জরুরি, যাতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে না পারে।
মজুদ ঘনত্ব
প্রতি তিন থেকে পাঁচ শতাংশে একটি, অর্থাৎ পুরো বড় পুকুরে পাঁচ থেকে আটটির বেশি নয়। কার্পের পোনা কমপক্ষে দশ-বারো সেমি হওয়ার পর শোল ছাড়া হবে। তেলাপিয়া না রাখলে শোলের প্রয়োজনও কম।
খাবার
শোল আলাদা খাবার চায় না; পুকুরের ছোট মাছ, ব্যাঙাচি আর পোকা খেয়েই বড় হয়। এ কারণেই তার সংখ্যা বেশি হলে অন্য মাছের ক্ষতি হয়। শোলের জন্য কোনো সম্পূরক খাবার দেওয়া হবে না।
বৃদ্ধি ও আহরণ
প্রচুর খাবার থাকলে এক বছরে প্রায় আধা কেজি থেকে এক কেজি। আংশিক আহরণে বড় শোল তুলে নেওয়া হবে, যাতে সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
প্রজনন ও পোনা
শোল বর্ষায় পুকুরে বাসা বানিয়ে ডিম পাড়ে, আর বাবা-মা দুজনেই বাচ্চা পাহারা দেয়। ফলে পুকুরে শোলের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে পারে। বর্ষায় শোলের বাচ্চার ঝাঁক দেখলে জাল দিয়ে তুলে ফেলা বা ছোট পুকুরে নয়, আলাদা চৌবাচ্চায় বড় করে খাওয়া, এটাই নিয়ন্ত্রণের উপায়।
কার সাথে চলে
| সঙ্গী | সামঞ্জস্য | কারণ |
|---|---|---|
| রুই, কাতলা, মৃগেল | সতর্কতায় চলে | বড় পোনা ছাড়লে চলে; ছোট পোনা খেয়ে ফেলে |
| তেলাপিয়া | একসাথে চলে | অতিরিক্ত বাচ্চা খেয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখে |
| পুঁটি, মলা, টেংরা | একসাথে নয় | ছোট মাছ খেয়ে শেষ করতে পারে |
| শিং, কৈ, হাঁসের ছানা | একসাথে নয় | ছোট পুকুরে নয় |
| গলদা | সতর্কতায় চলে | খোলস বদলের সময় চিংড়ি খায় |
রোগ ও জৈব প্রতিরোধ
| সমস্যা | লক্ষণ | প্রতিরোধ ও করণীয় |
|---|---|---|
| ক্ষত রোগ | শোল এই রোগে বিশেষভাবে সংবেদনশীল; শীতে গায়ে গভীর ক্ষত | শীতের আগে চুন; পানির মান; আক্রান্ত মাছ সরানো |
| অক্সিজেন ঘাটতি | ভোরে মাছ পানির ওপরে মুখ তুলে খাবি খায় | খাবার ও সার বন্ধ; নতুন পানি; বাঁশ দিয়ে পানি পেটানো; মেঘলা গুমোট দিনে বিশেষ সতর্কতা |
খামারে অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন বা রাসায়নিক ওষুধ ব্যবহার হবে না; প্রতিরোধের মূল উপায় পানির মান, সঠিক ঘনত্ব আর সুস্থ পোনা। রোগ ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিন। বিস্তারিত পানির গুণমান পাতায়।
পুষ্টিগুণ ও রান্না
শোল আমিষে ভরপুর, চর্বি কম, কাঁটা কম; অস্ত্রোপচারের পর বা দুর্বলতায় শোলের ঝোল প্রচলিত পথ্য। শোল ভুনা, শোলের পাতলা ঝোল আর শুঁটকি জনপ্রিয়।
কোন মাছ কোন অনুপাতে একসাথে থাকবে, তার হিসাব মিশ্র চাষ মডেল পাতায়; খাবার তৈরির পদ্ধতি জৈব খাদ্য পাতায়।