মাছ ও পুকুর

তেলাপিয়া

দ্রুত বড় হয়, প্রায় সবকিছু খায়, রোগ কম; তাই তেলাপিয়া জনপ্রিয়। কিন্তু বাণিজ্যিক চাষে হরমোন দিয়ে পুরুষ পোনা বানানো হয়, যা আমাদের জৈব নীতির বাইরে।

হরমোনমুক্তঐচ্ছিকঅতিরিক্ত প্রজনন নিয়ন্ত্রণ
নাম
তেলাপিয়া · Nile tilapia · Oreochromis niloticus
পরিবার
সিক্লিডজাতীয় (সিক্লিডি)
পানির স্তর
সব স্তর
কোন পুকুরে
বড় পুকুর (ঐচ্ছিক, সীমিত)
খাদ্যাভ্যাস
সর্বভুক: প্ল্যাংকটন, শেওলা, জৈব কণা
মজুদ ঘনত্ব
রাখলে প্রতি শতাংশে প্রায় ৫–১০টি
বৃদ্ধি ও আহরণ
৪–৫ মাসে প্রায় ১৫০–২৫০ গ্রাম

পরিচিতি

তেলাপিয়া আফ্রিকা থেকে আসা মাছ, এখন দেশের সবখানে চাষ হয়। মিশ্র লিঙ্গের তেলাপিয়া পুকুরে খুব দ্রুত বাচ্চা দেয়; কয়েক মাসে পুকুর ছোট ছোট তেলাপিয়ায় ভরে যায়, যারা কার্পের খাবারে ভাগ বসায় আর নিজেরাও বড় হতে পারে না। এ সমস্যা এড়াতে বাণিজ্যিক হ্যাচারিগুলো হরমোন খাইয়ে প্রায় সব পোনাকে পুরুষ বানায় (মনোসেক্স)।

আমাদের খামারে হরমোন ব্যবহার হবে না, তাই মনোসেক্স তেলাপিয়ার পোনা কেনা হবে না। তেলাপিয়া রাখা হবে কি না, তা প্রথম বছরের কার্প চাষের অভিজ্ঞতা দেখে ঠিক হবে; রাখলে মিশ্র লিঙ্গের, অল্প সংখ্যায়, আর শোল দিয়ে প্রজনন নিয়ন্ত্রণে।

কোন পুকুরে, কোন স্তরে

বড় পুকুর, সব স্তরে চলে। ছোট পুকুরে নয়, কারণ সেখানে অতিরিক্ত বাচ্চা জিওল মাছের খাবার আর জায়গা দখল করবে।

মজুদ ঘনত্ব

রাখলে প্রতি শতাংশে প্রায় ৫–১০টি, অর্থাৎ বড় পুকুরে ১২৫–২৫০টির বেশি নয়, সাথে নিয়ন্ত্রিত সংখ্যায় শোল। দেশে উন্নত জাতের তেলাপিয়া (যেমন নির্বাচিত প্রজননে তৈরি জাত) হরমোন ছাড়াও পাওয়া যায়; পোনা হরমোনমুক্ত কি না হ্যাচারির কাছে লিখিতভাবে জানতে চাইবেন।

খাবার

প্রাকৃতিক প্ল্যাংকটন, শেওলা, ক্ষুদিপানা, কুঁড়া, রান্নাঘরের সবজির উচ্ছিষ্ট। তেলাপিয়ার জন্য আলাদা খাবার দরকার নেই; বেশি খাবার দিলে শুধু বাচ্চা বেশি হয়।

বৃদ্ধি ও আহরণ

চার থেকে পাঁচ মাসে প্রায় দেড়শ থেকে আড়াইশ গ্রাম। মিশ্র লিঙ্গে বৃদ্ধি মনোসেক্সের চেয়ে কম, কারণ শক্তি প্রজননে যায়। নিয়মিত জাল টেনে ছোট-বড় সব তেলাপিয়া তুলে খাওয়া, যাতে সংখ্যা না বাড়ে।

প্রজনন ও পোনা

মা তেলাপিয়া মুখে ডিম আর বাচ্চা রাখে, প্রতি এক-দেড় মাসে আবার প্রজনন করতে পারে। তাই একবার ছাড়লে পুকুর থেকে পুরোপুরি সরানো কঠিন; পুকুর শুকিয়ে তবেই সম্পূর্ণ মুক্ত করা যায়। এই কারণে সিদ্ধান্তটি সাবধানে নিতে হবে।

কার সাথে চলে

তেলাপিয়া-এর সাথে অন্য মাছের সামঞ্জস্য
সঙ্গীসামঞ্জস্যকারণ
রুই ও কাতলা সতর্কতায় চলেঅতিরিক্ত বাচ্চা খাবারে ভাগ বসায়
শোল একসাথে চলেবাচ্চা খেয়ে সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে
মলা ও পুঁটি সতর্কতায় চলেপ্ল্যাংকটনে প্রতিযোগিতা
গলদা সতর্কতায় চলেখাবার ও জায়গায় প্রতিযোগিতা

রোগ ও জৈব প্রতিরোধ

তেলাপিয়া-এর প্রধান রোগ ও প্রতিরোধ
সমস্যালক্ষণপ্রতিরোধ ও করণীয়
ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণগরমে হঠাৎ মৃত্যু, চোখ ফোলাঘনত্ব কম; গরমে পানির গভীরতা বজায় রাখা; পানি বদল
অক্সিজেন ঘাটতিভোরে মাছ পানির ওপরে মুখ তুলে খাবি খায়খাবার ও সার বন্ধ; নতুন পানি; বাঁশ দিয়ে পানি পেটানো; মেঘলা গুমোট দিনে বিশেষ সতর্কতা
অতিরিক্ত প্রজননপুকুর ছোট তেলাপিয়ায় ভরে যায়নিয়মিত আহরণ; শোল; প্রয়োজনে পুকুর শুকানো

খামারে অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন বা রাসায়নিক ওষুধ ব্যবহার হবে না; প্রতিরোধের মূল উপায় পানির মান, সঠিক ঘনত্ব আর সুস্থ পোনা। রোগ ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নিন। বিস্তারিত পানির গুণমান পাতায়।

পুষ্টিগুণ ও রান্না

তেলাপিয়া আমিষের সাশ্রয়ী উৎস, চর্বি কম, কাঁটা কম; শিশুদের জন্য সহজ। ভাজা, ঝোল, গ্রিল বা সরষে বাটায় রান্না করা যায়।

পুরো ছবিটা

কোন মাছ কোন অনুপাতে একসাথে থাকবে, তার হিসাব মিশ্র চাষ মডেল পাতায়; খাবার তৈরির পদ্ধতি জৈব খাদ্য পাতায়।