সীড ব্যাংক · মসলা

আদা

আদা চাষ হয় বীজ থেকে নয়, কন্দের টুকরো থেকে। চৈত্র-বৈশাখে লাগিয়ে পৌষ-মাঘে তোলা, প্রায় দশ মাসের ফসল। আংশিক ছায়াতেও ভালো হয়, তাই ফলগাছের নিচের জায়গা কাজে লাগে।

কন্দ, কোয়া বা কাটিং দিয়ে বংশবিস্তারহাইব্রিড নয়খরিফ-১
নাম
আদা · Ginger · Zingiber officinale
পরিবার
আদাজাতীয় (জিঞ্জিবারেসি)
জাতের ধরন
দেশি জাত; কন্দ (রাইজোম) দিয়ে বংশবিস্তার
মৌসুম
খরিফ-১
বপন বা রোপণ
চৈত্র–বৈশাখ (মধ্য মার্চ – মধ্য মে)
দূরত্ব
সারি থেকে সারি প্রায় ৫০ সেমি, গাছ থেকে গাছ প্রায় ২৫ সেমি
ফসল তোলা
লাগানো থেকে প্রায় ৯–১০ মাস · পৌষ–মাঘ
বীজ সংগ্রহ
পৌষ–মাঘ
বীজের আয়ু
এক মৌসুম থেকে পরের মৌসুম; জীবন্ত কন্দ

বারো মাসের সময়সূচি

বৈশাখ
জ্যৈষ্ঠ
আষাঢ়
শ্রাবণ
ভাদ্র
আশ্বিন
কার্তিক
অগ্রহায়ণ
পৌষ
মাঘ
ফাল্গুন
চৈত্র

বপন বা রোপণফসল তোলাবীজ সংগ্রহ · একই তথ্য শস্য ক্যালেন্ডারে

জাত ও উৎস

দেশি আদার কন্দ ছোট-মাঝারি, আঁশযুক্ত, খুব ঝাঁঝালো। বারির আদার জাতও (যেমন বারি আদা-১) আছে। আদা প্রায় কখনো বীজ দেয় না; কন্দের টুকরো থেকেই গাছ হয়, তাই প্রতিটি গাছ মা-গাছের প্রতিরূপ। প্রথম বীজ-আদা কোনো বিশ্বস্ত কৃষকের কাছ থেকে, যাঁর জমিতে কন্দ পচা রোগ নেই।

মৌসুম ও বপন

খামারের শস্য ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আদা বোনা বা রোপণ করা হয় চৈত্র–বৈশাখ (মধ্য মার্চ – মধ্য মে), যা খরিফ-১ মৌসুমের অংশ।

চৈত্র-বৈশাখে, প্রথম বৃষ্টির পর লাগানো হয়। সংরক্ষিত বীজ-আদা থেকে প্রতিটি টুকরোয় অন্তত দুই-তিনটি চোখ বা কুঁড়ি রেখে আনুমানিক ত্রিশ-চল্লিশ গ্রামের টুকরো কাটা হয়। কাটা মুখ ছাইয়ে মাখিয়ে একদিন ছায়ায় শুকিয়ে, কুঁড়ি ওপরে রেখে লাগানো।

জমি তৈরি ও দূরত্ব

আদা জলাবদ্ধতা একেবারেই সহ্য করে না, তাই উঁচু বেড বা আইলের মতো সারি। প্রচুর কম্পোস্ট মেশানো ঝুরঝুরে মাটি। পুকুরপাড়ের ফলগাছের নিচে আংশিক ছায়ায় আদা ভালো হয়, জায়গারও সদ্ব্যবহার হয়। লাগানোর পর বেড পুরু শুকনো পাতা বা খড়ে ঢেকে দেওয়া।

পরিচর্যা

  • লাগানোর পর পুরু মালচ; আর্দ্রতা ধরে রাখে, আগাছা কমায়, বৃষ্টিতে মাটি ধুয়ে যায় না।
  • বর্ষায় নালা পরিষ্কার, যাতে পানি না জমে।
  • গাছ বড় হলে দুই-তিনবার গোড়ায় মাটি তুলে দেওয়া আর কম্পোস্ট।
  • শুকনো মৌসুমের শেষ দিকে মাটি খুব শুকালে হালকা সেচ।
  • হলুদ হয়ে নেতিয়ে পড়া গাছ দেখলে দ্রুত কন্দসহ তুলে ফেলা।

ফসল তোলা

ফসল তোলার প্রধান সময় পৌষ–মাঘ (মধ্য ডিসেম্বর – মধ্য ফেব্রুয়ারি)।

পৌষ-মাঘে পাতা হলুদ হয়ে শুকিয়ে গেলে কোদাল দিয়ে সাবধানে খুঁড়ে আদা তোলা হয়। মাটি ঝেড়ে, শিকড় ছেঁটে ছায়ায় কয়েক দিন শুকানো। তাজা আদা কয়েক সপ্তাহ চলে; বাকিটা শুকিয়ে গুঁড়ো করা যায়। প্রয়োজনে মৌসুমের মাঝখানে কিছু কচি আদাও তোলা যায়।

রোগ-পোকা ও জৈব সমাধান

আদা-এর প্রধান রোগ-পোকা ও জৈব প্রতিকার
সমস্যালক্ষণজৈব সমাধান
কন্দ পচাগাছের পাতা হলুদ হয়ে শুকায়, গোড়া নরম; মাটির নিচে কন্দ পচে দুর্গন্ধসুস্থ কন্দ বাছাই; উঁচু বেড ও নিষ্কাশন; একই জমিতে পরপর চাষ নয়; আক্রান্ত গাছ কন্দসহ তুলে দূরে পুঁতে ফেলা
পাতা দাগ রোগপাতায় ছোট সাদাটে দাগ, চারপাশে বাদামি কিনারাআক্রান্ত পাতা সরানো; ঘন না লাগানো
কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকাকাণ্ডে ছিদ্র, মাঝের পাতা শুকিয়ে যায়আক্রান্ত কাণ্ড কেটে নষ্ট; নিমের নির্যাস
গুদামে পচা ও শুকিয়ে যাওয়াবীজ-আদা কুঁচকে যায় বা পচেবালি-ছাইয়ের গর্তে ছায়ায় রাখা; নিয়মিত দেখা

রাসায়নিক কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক ব্যবহার হবে না। সাধারণ জৈব প্রস্তুতির পদ্ধতি জৈব কীটনাশক পাতায়।

বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ

আদা কন্দ দিয়ে চাষ হয়, তাই পরাগায়ন বা সংকরের প্রশ্ন নেই। প্রধান সতর্কতা রোগমুক্ত কন্দ: কন্দ পচা রোগ বীজ-আদার মাধ্যমেই এক জমি থেকে আরেক জমিতে যায়।

  1. মৌসুমে সবচেয়ে সতেজ, রোগমুক্ত গাছগুলো চিহ্নিত করুন।
  2. পৌষ-মাঘে তোলার সময় সেই গাছগুলোর বড়, পুষ্ট, আঘাতহীন কন্দ বীজের জন্য আলাদা করুন।
  3. ছায়ায় কয়েক দিন শুকিয়ে নিন; কাটা বা ভাঙা জায়গায় ছাই মাখান।
  4. ঘরের ছায়াযুক্ত, উঁচু জায়গায় একটি গর্ত বা মাটির পাত্রে শুকনো বালি বা ছাইয়ের স্তরে স্তরে কন্দ সাজান, ওপরে খড় বা বস্তা দিয়ে ঢেকে দিন।
  5. মাসে একবার দেখুন; পচা বা নরম কন্দ সরিয়ে ফেলুন।
  6. চৈত্র-বৈশাখে লাগানোর আগে টুকরো করে কাটুন।

বীজের আয়ু

বীজ-আদা মাঘ থেকে চৈত্র পর্যন্ত দুই-তিন মাস রাখতে হয়। এই সময় খুব শুকিয়ে গেলে কন্দ কুঁচকে যায়, আবার আর্দ্রতা বেশি হলে পচে; বালি-ছাইয়ের স্তরে ছায়ায় রাখলে ভারসাম্য থাকে।

পুষ্টিগুণ

আদায় জিঞ্জেরলসহ নানা উদ্ভিজ্জ উপাদান আছে, যা ঝাঁঝ আর ঘ্রাণ দেয়। রান্নার মসলা, চা, আর লোকজ চর্চায় সর্দি-কাশিতে ব্যবহৃত। অল্প পরিমাণেই কাজ করে।

সীড ব্যাংকের খাতায়

প্রতিটি সংগ্রহের লট নম্বর, গাছের সংখ্যা আর অঙ্কুরোদগমের হার বীজ রেজিস্টারে লিখুন। সাধারণ নিয়ম বীজ সংরক্ষণ পদ্ধতি আর সংরক্ষণাগার পাতায়।