কালোজিরা
ছোট কালো দানার কালোজিরা মসলা আর লোকজ ওষুধ দুটোরই অংশ। কার্তিকে বুনে ফাল্গুনে তোলা, অল্প জমিতে পরিবারের সারা বছরের প্রয়োজন মেটে।
- নাম
- কালোজিরা · Black cumin / Nigella · Nigella sativa
- পরিবার
- বাটারকাপজাতীয় (র্যানানকুলেসি)
- জাতের ধরন
- দেশি ও মুক্ত-পরাগায়িত জাত; বারির মুক্ত-পরাগায়িত জাতও আছে
- মৌসুম
- রবি
- বপন বা রোপণ
- কার্তিক (মধ্য অক্টোবর – মধ্য নভেম্বর)
- দূরত্ব
- সারি থেকে সারি প্রায় ২৫–৩০ সেমি; ছিটিয়ে বুনলে পরে পাতলা করা
- ফসল তোলা
- বোনা থেকে প্রায় ১৩০–১৪০ দিন · ফাল্গুন
- বীজ সংগ্রহ
- ফাল্গুন
- বীজের আয়ু
- প্রায় দুই থেকে তিন বছর
বারো মাসের সময়সূচি
বপন বা রোপণফসল তোলাবীজ সংগ্রহ · একই তথ্য শস্য ক্যালেন্ডারে
জাত ও উৎস
দেশি কালোজিরা ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাগুরাসহ কিছু অঞ্চলে বেশি চাষ হয়। বারির মুক্ত-পরাগায়িত কালোজিরার জাতও (যেমন বারি কালোজিরা-১) আছে। গাছ ছোট, সুন্দর হালকা নীল-সাদা ফুল, তারপর ফোলা ফল, যার ভেতরে কালো দানা।
কালোজিরা আর কালিজিরা ধান দুটি সম্পূর্ণ আলাদা ফসল; নামের মিলে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। কালিজিরা ধানের দানা ছোট বলেই কালোজিরার নাম থেকে তার নাম এসেছে।
মৌসুম ও বপন
খামারের শস্য ক্যালেন্ডার অনুযায়ী কালোজিরা বোনা বা রোপণ করা হয় কার্তিক (মধ্য অক্টোবর – মধ্য নভেম্বর), যা রবি মৌসুমের অংশ।
কার্তিক মাসে, মাটিতে জো থাকতে, সারিতে বা ছিটিয়ে বোনা হয়। বীজ ছোট, তাই বালি বা ছাইয়ের সাথে মিশিয়ে বোনা ভালো। বীজ এক-দেড় সেমির বেশি গভীরে নয়।
জমি তৈরি ও দূরত্ব
দোআঁশ, ঝুরঝুরে, ভালো নিষ্কাশনের মাটি। মিহি করে চাষ দিয়ে কম্পোস্ট মেশানো। কালোজিরা বেশি সার চায় না; অতিরিক্ত নাইট্রোজেনে গাছ লম্বা হয়, দানা কম। শীতের সবজির বেডের এক প্রান্তে বা মসুরের পাশে ছোট খণ্ডে।
পরিচর্যা
- চারা দুই-তিন সপ্তাহের হলে পাতলা করা আর নিড়ানি।
- মাটি খুব শুকিয়ে গেলে এক-দুটি হালকা সেচ; জলাবদ্ধতা নয়।
- ফুল আসার সময় মৌমাছির আনাগোনা নিশ্চিত করতে আশপাশে সরিষা বা ধনিয়া।
- পাকার সময় ফল ফেটে দানা ঝরতে পারে, তাই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ।
ফসল তোলা
ফসল তোলার প্রধান সময় ফাল্গুন (মধ্য ফেব্রুয়ারি – মধ্য মার্চ)।
ফাল্গুনে গাছ হলুদ-বাদামি হয়ে ফল শুকাতে শুরু করলে, ফাটার আগে সকালে গাছ তুলে বা কেটে নেওয়া হয়। কয়েক দিন রোদে শুকিয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে দানা আলাদা, কুলায় ঝেড়ে পরিষ্কার।
রোগ-পোকা ও জৈব সমাধান
| সমস্যা | লক্ষণ | জৈব সমাধান |
|---|---|---|
| গোড়া পচা | চারার গোড়া পচে গাছ মরে যায় | ভালো নিষ্কাশন; ঘন না বোনা; শস্য পর্যায় |
| পাতা ঝলসানো | পাতায় বাদামি দাগ, পাতা শুকিয়ে যায় | আক্রান্ত গাছ সরানো; সুস্থ বীজ |
| জাব পোকা | কচি ডগা, ফুল ও শুঁটিতে ছোট সবুজ-কালো পোকার দল; গাছ দুর্বল হয় | সাবান-পানি বা নিমের নির্যাস; সময়মতো আগাম বোনা; লেডিবার্ড বিটলসহ উপকারী পোকা রক্ষা; হলুদ আঠালো ফাঁদ |
| দানা ঝরা | পাকা ফল ফেটে মাটিতে দানা পড়ে যায় | সময়মতো, সকালে শিশির থাকতে কাটা |
রাসায়নিক কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক ব্যবহার হবে না। সাধারণ জৈব প্রস্তুতির পদ্ধতি জৈব কীটনাশক পাতায়।
বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ
কালোজিরা মূলত স্বপরাগী, তবে ফুলে পোকা আসে বলে কিছু পরপরাগ হয়। খামারে একটি জাত রাখলে বিশুদ্ধতা নিয়ে চিন্তা নেই।
- জমির সবচেয়ে সুস্থ, সমান অংশের গাছ বীজের জন্য আলাদা চিহ্নিত করুন।
- ফাল্গুনে ফল শুকিয়ে বাদামি হলে, ফাটার আগে আলাদা করে কাটুন।
- কাপড়ের ওপর শুকিয়ে পিটিয়ে দানা বের করুন; কুলায় ঝেড়ে পরিষ্কার করুন।
- আরও দুই-তিন দিন রোদে শুকিয়ে বীজের অংশ ছোট বায়ুরোধী বয়ামে রাখুন।
বীজের আয়ু
ফাল্গুনে সংগ্রহ করা কালোজিরার বীজ পরের কার্তিক পর্যন্ত রাখতে হয়। শুকনো ও বায়ুরোধী অবস্থায় দুই-তিন বছর চলে; প্রতি বছর নতুন বীজ রাখাই ভালো।
পুষ্টিগুণ
কালোজিরায় তেল, আমিষ, আঁশ আর নানা উদ্ভিজ্জ উপাদান আছে। রান্নার ফোড়ন, ভর্তা ও আচারে ব্যবহার হয়। হাদিসে কালোজিরার উপকারিতার উল্লেখ আছে বলে মুসলিম পরিবারে এর বিশেষ কদর; তবে এটি কোনো রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়।
এক পরিবারের সারা বছরের কালোজিরার চাহিদা খুব বেশি নয়, তাই একটি ছোট বেডই যথেষ্ট; বাড়তি দানা আত্মীয়-প্রতিবেশীর সাথে ভাগ করা যায়।
প্রতিটি সংগ্রহের লট নম্বর, গাছের সংখ্যা আর অঙ্কুরোদগমের হার বীজ রেজিস্টারে লিখুন। সাধারণ নিয়ম বীজ সংরক্ষণ পদ্ধতি আর সংরক্ষণাগার পাতায়।