রসুন
রসুনের কোয়াই রসুনের বীজ। কার্তিকে সবচেয়ে বড় কোয়াগুলো মাটিতে পুঁতে দিলে ফাল্গুন-চৈত্রে নতুন রসুন, যার একটি অংশ পরের বছরের জন্য তুলে রাখা হয়।
- নাম
- রসুন · Garlic · Allium sativum
- পরিবার
- পেঁয়াজজাতীয় (অ্যামারিলিডেসি)
- জাতের ধরন
- দেশি জাত; কোয়া দিয়ে বংশবিস্তার, প্রতিটি গাছ মা-গাছের মতো
- মৌসুম
- রবি
- বপন বা রোপণ
- কার্তিক (মধ্য অক্টোবর – মধ্য নভেম্বর)
- দূরত্ব
- সারি থেকে সারি প্রায় ১৫ সেমি, কোয়া থেকে কোয়া প্রায় ১০ সেমি
- ফসল তোলা
- লাগানো থেকে প্রায় ১২০–১৪০ দিন · ফাল্গুন–চৈত্র
- বীজ সংগ্রহ
- ফাল্গুন–চৈত্র
- বীজের আয়ু
- এক মৌসুম থেকে পরের মৌসুম; জীবন্ত কোয়া
বারো মাসের সময়সূচি
বপন বা রোপণফসল তোলাবীজ সংগ্রহ · একই তথ্য শস্য ক্যালেন্ডারে
জাত ও উৎস
দেশি রসুন ছোট কোয়ার, ঝাঁঝালো আর সংরক্ষণে ভালো। বারির রসুনের জাতও আছে। বাজারের বড় কোয়ার আমদানিকৃত রসুন আমাদের আবহাওয়ায় সবসময় ভালো হয় না। প্রথম বীজ-রসুন স্থানীয় কৃষকের কাছ থেকে নেওয়া ভালো, যিনি নিজে কয়েক বছর ধরে চাষ করছেন।
রসুন সাধারণত বীজ দেয় না; কোয়া থেকেই নতুন গাছ। তাই এটি “মুক্ত-পরাগায়িত” বা “হাইব্রিড” কোনোটাই নয়; প্রতিটি গাছ মা-গাছের হুবহু প্রতিরূপ।
মৌসুম ও বপন
খামারের শস্য ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রসুন বোনা বা রোপণ করা হয় কার্তিক (মধ্য অক্টোবর – মধ্য নভেম্বর), যা রবি মৌসুমের অংশ।
কার্তিক মাসে, মাটিতে জো থাকতে কোয়া লাগানো হয়। লাগানোর ঠিক আগে রসুন ভেঙে কোয়া আলাদা করা; বড়, সুস্থ, বাইরের দিকের কোয়া বীজের জন্য, ছোটগুলো রান্নায়। কোয়ার সরু মাথা ওপরে রেখে দুই-তিন সেমি গভীরে।
জমি তৈরি ও দূরত্ব
রসুন ঝুরঝুরে, উর্বর, ভালো নিষ্কাশনের মাটি চায়। ভালো পচা কম্পোস্ট মেশানো বেড। বন্যার পলি পড়া নরম মাটিতে বিনা চাষে খড়ের মালচের নিচে রসুন লাগানোর প্রচলিত পদ্ধতিও আছে, যাতে আগাছা কম হয় আর আর্দ্রতা থাকে।
পরিচর্যা
- লাগানোর পর বেড শুকনো খড়ে ঢেকে দেওয়া; আগাছা কম, আর্দ্রতা বেশি।
- মাটি শুকালে হালকা সেচ; জলাবদ্ধতা নয়।
- নিয়মিত নিড়ানি।
- তোলার দুই-তিন সপ্তাহ আগে সেচ বন্ধ।
ফসল তোলা
ফসল তোলার প্রধান সময় ফাল্গুন–চৈত্র (মধ্য ফেব্রুয়ারি – মধ্য এপ্রিল)।
ফাল্গুন-চৈত্রে পাতা হলুদ হয়ে শুকাতে শুরু করলে রসুন তোলা হয়। পাতাসহ আঁটি বেঁধে ছায়ায় ঝুলিয়ে কয়েক সপ্তাহ শুকানো, তারপর পাতাসহ বেণি করে বা কাণ্ড কেটে বাতাস চলাচলের জায়গায় রাখা। ভালোভাবে শুকানো রসুন কয়েক মাস চলে।
রোগ-পোকা ও জৈব সমাধান
| সমস্যা | লক্ষণ | জৈব সমাধান |
|---|---|---|
| পার্পল ব্লচ | পাতায় লম্বাটে বেগুনি দাগ, চারপাশে হলুদ আভা; পরে পাতা ভেঙে পড়ে | ঘন না লাগানো; আক্রান্ত পাতা সরানো; শস্য পর্যায়; সকালে সেচ |
| থ্রিপস | পাতায় রুপালি দাগ ও আঁচড়, পাতার আগা শুকিয়ে কুঁকড়ে যায় | নিমের নির্যাস; নিয়মিত সেচে পাতা সতেজ রাখা; নীল বা সাদা আঠালো ফাঁদ; আগাছা পরিষ্কার |
| কন্দ পচা | গুদামে কোয়া নরম ও ছাতা পড়া | ভালোভাবে শুকিয়ে ঝুলিয়ে রাখা; আঘাতপ্রাপ্ত রসুন আলাদা |
| মাকড় | পাতা হলদে, কুঁকড়ে যায়; গুদামে কোয়া শুকিয়ে যায় | সুস্থ বীজ-রসুন; নিমের নির্যাস; আক্রান্ত রসুন বীজ হিসেবে নয় |
রাসায়নিক কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক ব্যবহার হবে না। সাধারণ জৈব প্রস্তুতির পদ্ধতি জৈব কীটনাশক পাতায়।
বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ
রসুন কোয়া দিয়ে চাষ হয়, তাই পরাগায়ন বা সংকরের কোনো প্রশ্ন নেই। একাধিক জাত থাকলে শুধু লেবেল দিয়ে আলাদা রাখা।
- তোলার সময় সবচেয়ে বড়, সুস্থ, শক্ত রসুনগুলো বীজের জন্য আলাদা করুন; প্রতি বছর এভাবে বাছাই করলে ধীরে ধীরে রসুনের আকার ভালো হয়।
- পাতাসহ আঁটি বেঁধে ছায়ায়, বাতাস চলাচলের জায়গায় ঝুলিয়ে রাখুন।
- মাঝে মাঝে দেখুন; নরম বা ছাতা পড়া রসুন সরিয়ে ফেলুন।
- কার্তিকে লাগানোর ঠিক আগে কোয়া আলাদা করুন; বড় বাইরের কোয়া বীজে, ছোটগুলো রান্নায়।
বীজের আয়ু
রসুনের বীজ-কোয়া শুকনো বীজের মতো বছরের পর বছর রাখা যায় না; চৈত্র থেকে কার্তিক, প্রায় সাত মাস, ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায় রাখতে হয়। বর্ষার আর্দ্রতায় পচন সবচেয়ে বড় ঝুঁকি, তাই ঝুলিয়ে রাখা আর নিয়মিত দেখা জরুরি।
পুষ্টিগুণ
রসুনে নানা সালফারযুক্ত উপাদান, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি আর ম্যাঙ্গানিজ আছে। রান্নায় ঘ্রাণ ও স্বাদ যোগ করে; লোকজ চর্চায় নানা উপকারের জন্য পরিচিত। রসুনের কচি পাতাও শাকের মতো রান্না করা যায়।
প্রতিটি সংগ্রহের লট নম্বর, গাছের সংখ্যা আর অঙ্কুরোদগমের হার বীজ রেজিস্টারে লিখুন। সাধারণ নিয়ম বীজ সংরক্ষণ পদ্ধতি আর সংরক্ষণাগার পাতায়।