সীড ব্যাংক · সবজি

বরবটি

হাতখানেক লম্বা সরু সবুজ বরবটি গরম আর বর্ষার সবজি। দ্রুত ফল দেয়, মাচা বা খুঁটিতে উঠে, আর প্রতিদিনই কিছু না কিছু তোলা যায়।

মুক্ত-পরাগায়িত · বীজ রাখা যায়হাইব্রিড নয়রবিখরিফ-১
নাম
বরবটি · Yardlong bean / Asparagus bean · Vigna unguiculata subsp. sesquipedalis
পরিবার
শিমজাতীয় (ফ্যাবেসি)
জাতের ধরন
দেশি ও মুক্ত-পরাগায়িত জাত; স্বপরাগী, বীজ রাখা সহজ
মৌসুম
রবি, খরিফ-১
বপন বা রোপণ
ফাল্গুন–জ্যৈষ্ঠ (মধ্য ফেব্রুয়ারি – মধ্য জুন)
দূরত্ব
সারি থেকে সারি প্রায় ৬০–৭৫ সেমি, গাছ থেকে গাছ প্রায় ৩০ সেমি; খুঁটি বা মাচায়
ফসল তোলা
বোনা থেকে প্রায় ৪৫–৫৫ দিনে প্রথম শুঁটি · বৈশাখ–ভাদ্র
বীজ সংগ্রহ
শ্রাবণ–ভাদ্র
বীজের আয়ু
বায়ুরোধী পাত্রে প্রায় দুই থেকে তিন বছর

বারো মাসের সময়সূচি

বৈশাখ
জ্যৈষ্ঠ
আষাঢ়
শ্রাবণ
ভাদ্র
আশ্বিন
কার্তিক
অগ্রহায়ণ
পৌষ
মাঘ
ফাল্গুন
চৈত্র

বপন বা রোপণফসল তোলাবীজ সংগ্রহ · একই তথ্য শস্য ক্যালেন্ডারে

জাত ও উৎস

দেশি বরবটির শুঁটি হালকা বা গাঢ় সবুজ, কোনোটায় লালচে আভা; দানা কালো, বাদামি বা লাল-সাদা ছোপযুক্ত। কিছু জাত খাটো ঝোপালো, তবে বেশির ভাগ লতানো। বারির মুক্ত-পরাগায়িত বরবটির জাতও আছে; প্যাকেটে হাইব্রিড লেখা থাকলে বাদ। দেশি বীজ গ্রামে সহজেই পাওয়া যায়।

বরবটি দিনের দৈর্ঘ্য নিয়ে খুব একটা সংবেদনশীল নয়, তাই গরমের শুরু থেকে বর্ষা পর্যন্ত কয়েক দফায় বোনা যায়, যাতে ফলন একটানা থাকে।

মৌসুম ও বপন

খামারের শস্য ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বরবটি বোনা বা রোপণ করা হয় ফাল্গুন–জ্যৈষ্ঠ (মধ্য ফেব্রুয়ারি – মধ্য জুন), যা রবি ও খরিফ-১ মৌসুমের অংশ।

ফাল্গুন থেকে জ্যৈষ্ঠে কয়েক দফায় বোনা হয়, প্রতি তিন-চার সপ্তাহে একটি নতুন সারি। সারিতে মাদায় দুই-তিনটি বীজ, গজানোর পর দুটি চারা। বীজ বোনার আগে কয়েক ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে নেওয়া যায়, তবে বেশি ভেজালে বীজ ফেটে যায়।

জমি তৈরি ও দূরত্ব

সবজির বেডে সারি করে বোনা, প্রতিটি সারির পাশে দুই মিটার উঁচু বাঁশের খুঁটি বা জাল। বরবটি নিজে নাইট্রোজেন তৈরি করে, তাই মাটিতে পরিমিত কম্পোস্টই যথেষ্ট। শস্য পর্যায়ে বরবটির পরের মৌসুমে টমেটো, বেগুন বা লাউয়ের মতো বেশি খাদ্য-চাহিদার ফসল ভালো হয়।

পরিচর্যা

  • চারা লতাতে শুরু করলে খুঁটিতে জড়িয়ে দেওয়া।
  • গরমে নিয়মিত পানি, গোড়ায় খড়ের মালচ।
  • বর্ষায় বেডের নালা পরিষ্কার, যাতে পানি জমে না।
  • শুঁটি প্রতিদিন বা এক দিন পরপর তোলা; শুঁটি পাকতে দিলে নতুন ফুল কমে যায়।
  • জাব পোকা আর শুঁটি ছিদ্রকারী পোকার দিকে নিয়মিত নজর।

ফসল তোলা

ফসল তোলার প্রধান সময় বৈশাখ–ভাদ্র (মধ্য এপ্রিল – মধ্য সেপ্টেম্বর)।

শুঁটি পেনসিলের মতো সরু থাকতে, দানা ফুলে ওঠার আগে তোলা হয়; ফুল ফোটার প্রায় এক-দেড় সপ্তাহের মধ্যে। দেরি হলে শুঁটি আঁশযুক্ত ও শক্ত হয়। বৈশাখ থেকে ভাদ্র পর্যন্ত নিয়মিত তোলা যায়।

রোগ-পোকা ও জৈব সমাধান

বরবটি-এর প্রধান রোগ-পোকা ও জৈব প্রতিকার
সমস্যালক্ষণজৈব সমাধান
জাব পোকাকচি ডগা, পাতার নিচ ও ফুলে ছোট সবুজ-কালো পোকার দল; পাতা কুঁকড়ে যায়, আঠালো রস জমেসাবান-পানি বা নিমপাতার নির্যাস স্প্রে; আক্রান্ত ডগা কেটে ফেলা; লেডিবার্ড বিটলসহ উপকারী পোকা রক্ষা; হলুদ আঠালো ফাঁদ
শুঁটি ছিদ্রকারী পোকাফুল ও শুঁটিতে ছিদ্র, ভেতরে কীড়াআক্রান্ত শুঁটি তুলে নষ্ট; নিমের নির্যাস; আলোর ফাঁদ
ফুল ঝরাঅতিরিক্ত গরম বা পানির টানে ফুল ঝরে পড়েনিয়মিত সেচ ও মালচ; দুপুরের কড়া রোদে কিছুটা ছায়া পায় এমন জায়গা
কাণ্ড পচাবর্ষায় গোড়া কালচে ও নরম হয়ে গাছ মরেউঁচু বেড; জলাবদ্ধতা নয়; আক্রান্ত গাছ সরানো

রাসায়নিক কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক ব্যবহার হবে না। সাধারণ জৈব প্রস্তুতির পদ্ধতি জৈব কীটনাশক পাতায়।

বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ

বরবটি স্বপরাগী, তাই দুটি জাত কয়েক মিটার দূরে লাগালেই চলে। তবে বরবটি আর মাঠের দানাদার কাউপি (ঝোপালো বরবটি) একই প্রজাতির, তাই পাশাপাশি থাকলে সামান্য সংকরের সম্ভাবনা থাকে।

  1. সবচেয়ে সুস্থ, ফলনশীল কয়েকটি গাছ চিহ্নিত করুন; এদের প্রথম দিকের শুঁটি খাওয়ার জন্য তুলবেন না।
  2. শুঁটি গাছেই পুরো পাকতে ও শুকাতে দিন, যতক্ষণ না বাদামি, খড়খড়ে হয় আর ঝাঁকালে ভেতরে দানার শব্দ হয়।
  3. শুকনো শুঁটি তুলে আরও কয়েক দিন ছায়ায় রাখুন, তারপর হাতে ভেঙে বা কাপড়ে রেখে আলতো পিটিয়ে দানা বের করুন।
  4. ভাঙা, কুঁচকানো, ছিদ্রযুক্ত দানা বাদ দিন; শুধু পুষ্ট, চকচকে দানা রাখুন।
  5. দুই-তিন দিন হালকা রোদে শুকান; দাঁতে চাপ দিলে দাগ না বসে ভাঙলে তৈরি।
  6. বায়ুরোধী পাত্রে নিমপাতা বা ছাইসহ রাখুন; ডালের দানায় ঢোরা পোকা সবচেয়ে বড় শত্রু, তাই মাসে একবার দেখুন।

বীজের আয়ু

বরবটির বীজ শ্রাবণ-ভাদ্রে সংগ্রহ হয়, ঠিক বর্ষার আর্দ্র সময়ে। তাই শুকানোয় বিশেষ যত্ন: ছাউনির নিচে মাচায় শুকিয়ে, রোদ উঠলেই রোদে দেওয়া। ভালোভাবে শুকানো বীজ বায়ুরোধী পাত্রে দুই-তিন বছর ভালো থাকে।

পুষ্টিগুণ

বরবটিতে আঁশ, আমিষ, ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ফোলেট আর আয়রন আছে। ভাজি, ভর্তা, মাছ বা ডিম দিয়ে রান্না জনপ্রিয়। কচি শুঁটি সামান্য ভাপিয়ে সালাদেও খাওয়া যায়।

সীড ব্যাংকের খাতায়

প্রতিটি সংগ্রহের লট নম্বর, গাছের সংখ্যা আর অঙ্কুরোদগমের হার বীজ রেজিস্টারে লিখুন। সাধারণ নিয়ম বীজ সংরক্ষণ পদ্ধতি আর সংরক্ষণাগার পাতায়।