সীড ব্যাংক · সবজি

চালকুমড়া

পাকলে গায়ে সাদা মোমের মতো আস্তরণ পড়ে, তাই চালকুমড়া। কচি অবস্থায় ঝোল-ভাজি, আর পাকা চালকুমড়া ঠান্ডা ঘরে দীর্ঘদিন রাখা যায়; মোরব্বা আর বড়ির জন্যও বিখ্যাত।

মুক্ত-পরাগায়িত · বীজ রাখা যায়হাইব্রিড নয়রবিখরিফ-১
নাম
চালকুমড়া · Ash gourd / Wax gourd · Benincasa hispida
পরিবার
কুমড়াজাতীয় (কিউকারবিটেসি)
জাতের ধরন
দেশি ও মুক্ত-পরাগায়িত জাত
মৌসুম
রবি, খরিফ-১
বপন বা রোপণ
ফাল্গুন–বৈশাখ (মধ্য ফেব্রুয়ারি – মধ্য মে)
দূরত্ব
মাদা থেকে মাদা প্রায় ২ মিটার; মাচায়
ফসল তোলা
কচি ফল বোনার প্রায় ৬০–৭০ দিনে; পাকা ফল প্রায় ১০০–১২০ দিনে · জ্যৈষ্ঠ–ভাদ্র
বীজ সংগ্রহ
ভাদ্র–আশ্বিন
বীজের আয়ু
চার থেকে পাঁচ বছর

বারো মাসের সময়সূচি

বৈশাখ
জ্যৈষ্ঠ
আষাঢ়
শ্রাবণ
ভাদ্র
আশ্বিন
কার্তিক
অগ্রহায়ণ
পৌষ
মাঘ
ফাল্গুন
চৈত্র

বপন বা রোপণফসল তোলাবীজ সংগ্রহ · একই তথ্য শস্য ক্যালেন্ডারে

জাত ও উৎস

দেশি চালকুমড়া লম্বাটে বা গোলাকার, কচি অবস্থায় গায়ে লোম, পাকলে লোম ঝরে সাদা মোমের স্তর পড়ে। গাছ খুব সতেজ, মাচা বা ঘরের চালে উঠিয়ে দেওয়ার প্রচলন আছে। দেশি জাতগুলো গরম ও বর্ষা ভালো সহ্য করে।

গ্রামের প্রায় সব বাড়িতে কেউ না কেউ চালকুমড়ার বীজ রাখেন, তাই দেশি বীজ পাওয়া তুলনামূলক সহজ। একটি পাকা ফলের বীজই কয়েক মৌসুমের জন্য যথেষ্ট।

মৌসুম ও বপন

খামারের শস্য ক্যালেন্ডার অনুযায়ী চালকুমড়া বোনা বা রোপণ করা হয় ফাল্গুন–বৈশাখ (মধ্য ফেব্রুয়ারি – মধ্য মে), যা রবি ও খরিফ-১ মৌসুমের অংশ।

ফাল্গুন থেকে বৈশাখে মাদায় সরাসরি বীজ বোনা হয়। বীজের খোসা শক্ত, তাই বোনার আগে এক রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখলে দ্রুত গজায়। প্রতি মাদায় তিনটি বীজ, পরে একটি সবল চারা।

জমি তৈরি ও দূরত্ব

বড়, শক্ত মাচা লাগে, কারণ পাকা চালকুমড়া বেশ ভারী। পুকুরপাড়ের মাচায় বা বাঁশের উঁচু কাঠামোয়। মাদায় পচা গোবর ও কম্পোস্ট। ঘরের চালে তুলতে চাইলে চাল যেন পাকা ফলের ভার সইতে পারে।

পরিচর্যা

  • লতা মাচায় তুলে দেওয়া; প্রথম দুই মিটার পর্যন্ত পাশের ডাল ছাঁটা।
  • গ্রীষ্মে সপ্তাহে দুই-তিনবার পানি; বর্ষায় গোড়ায় পানি জমতে না দেওয়া।
  • ভারী ফল মাচা থেকে কাপড় বা জালের দোলনায় ঝুলিয়ে রাখা।
  • মাসে একবার গোড়ায় কম্পোস্ট বা পাতলা স্লারি।
  • মাছি পোকার মৌসুমে কচি ফল কাগজের ব্যাগে ঢেকে রাখা।

ফসল তোলা

ফসল তোলার প্রধান সময় জ্যৈষ্ঠ–ভাদ্র (মধ্য মে – মধ্য সেপ্টেম্বর)।

রান্নার জন্য কচি চালকুমড়া, যখন গায়ে লোম আর নখে সহজে দাগ বসে। মোরব্বা, বড়ি বা জমা রাখার জন্য পুরোপুরি পাকা, সাদা মোমের স্তর পড়া ফল। মোমের স্তর না মুছে ঠান্ডা, শুকনো, বাতাস চলাচলের জায়গায় রাখলে কয়েক মাস ভালো থাকে।

রোগ-পোকা ও জৈব সমাধান

চালকুমড়া-এর প্রধান রোগ-পোকা ও জৈব প্রতিকার
সমস্যালক্ষণজৈব সমাধান
মাছি পোকা (ফলের মাছি)কচি ফলে ছিদ্র, ভেতরে পোকা, ফল হলুদ হয়ে পচে ঝরে পড়েফেরোমন ফাঁদ; থেঁতো মিষ্টিকুমড়ার টোপ ফাঁদ; আক্রান্ত ফল তুলে গর্তে পুঁতে ফেলা; বীজের ফল কাগজ বা কাপড়ের ব্যাগে ঢেকে রাখা
লাল পামকিন বিটলচারা ও কচি পাতায় ছোট লাল-কমলা পোকা, পাতা ঝাঁঝরা করেসকালে শিশির থাকতে পাতায় ছাই ছিটানো; হাতে ধরে নষ্ট; চারা অবস্থায় হালকা জাল দিয়ে ঢেকে রাখা
ডাউনি মিলডিউপাতার ওপরে হলুদ কোনাকুনি দাগ, নিচে ধূসর ছত্রাক; বর্ষায় বেশিমাচায় তুলে পাতা মাটি থেকে দূরে রাখা; গোড়ায় পানি দেওয়া, পাতায় নয়; আক্রান্ত পাতা সরানো
কাণ্ড পচাবর্ষায় গোড়ার কাণ্ড নরম ও কালচে হয়ে গাছ ঢলে পড়েমাদা উঁচু করা; গোড়ায় পানি জমতে না দেওয়া; আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলা; পরের বছর অন্য জায়গায় চাষ

রাসায়নিক কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক ব্যবহার হবে না। সাধারণ জৈব প্রস্তুতির পদ্ধতি জৈব কীটনাশক পাতায়।

বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ

চালকুমড়া পোকার মাধ্যমে পরপরাগী। একই প্রজাতির অন্য জাত, এমনকি প্রতিবেশীর জমির হাইব্রিড, কাছাকাছি ফুটলে সংকর হতে পারে। তাই হয় এক মৌসুমে একটিই জাত, নয়তো বীজের ফলের জন্য হাতে পরাগায়ন করে ফুল ঢেকে রাখা (পদ্ধতি বীজ সংরক্ষণ পাতায়)। অন্তত কয়েকটি গাছ থেকে বীজ রাখুন, যাতে জাতের বৈচিত্র্য থাকে।

  1. সবচেয়ে ভালো গাছের একটি বড়, সুগঠিত ফল বীজের জন্য রাখুন।
  2. ফল গাছেই পুরো পাকতে দিন, যতক্ষণ না পুরোটা সাদা মোমে ঢাকা পড়ে আর বোঁটা শুকায়।
  3. তুলে আরও কয়েক সপ্তাহ ঘরে রাখলে বীজ আরও পরিপক্ব হয়।
  4. কেটে বীজ বের করুন, পানিতে ধুয়ে শাঁস ছাড়ান, ভাসমান বীজ বাদ দিন।
  5. ছায়ায় ও হালকা রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে বায়ুরোধী পাত্রে রাখুন।

বীজের আয়ু

চালকুমড়ার বীজ দীর্ঘজীবী। শুকনো ও বায়ুরোধী অবস্থায় কয়েক বছর ভালো থাকে। দুই-তিন বছর পরপর নবায়ন যথেষ্ট।

পুষ্টিগুণ

চালকুমড়ায় পানি বেশি, ক্যালরি খুব কম; আঁশ, কিছু ভিটামিন সি আর খনিজ আছে। সহজপাচ্য বলে রোগীর পথ্যে আর গরমে উপযোগী। দেশি রান্নায় কচি চালকুমড়ার ঝোল-ভাজি, আর পাকা চালকুমড়া দিয়ে মোরব্বা ও ডালের বড়ি। কচি পাতা ও ডগা শাক হিসেবেও খাওয়া যায়।

সীড ব্যাংকের খাতায়

প্রতিটি সংগ্রহের লট নম্বর, গাছের সংখ্যা আর অঙ্কুরোদগমের হার বীজ রেজিস্টারে লিখুন। সাধারণ নিয়ম বীজ সংরক্ষণ পদ্ধতি আর সংরক্ষণাগার পাতায়।